এশিয়ান গেমসের শেষেও বিপত্তি এড়াতে পারল না জাপান। নাগোয়ায় খেলোয়াড়দের থাকা, খাওয়া, যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে প্রথম থেকেই নানা অব্যবস্থার কথা শোনা যাচ্ছিল। ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, উজ়বেকিস্তান-সহ বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়েরা অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন। রবিবার গেমসের শেষ পর্যায়েও দক্ষিণ কোরিয়া ক্ষোভ উগড়ে দিল জাপানের অব্যবস্থা নিয়ে।
বিপত্তি এশিয়াড ফুটবলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। ছেলেদের ফুটবল ফাইনালে জাপানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে দক্ষিণ কোরিয়া। পদক দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট তিন দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। সে সময় রুপোজয়ী জাপান এবং ব্রোঞ্জজয়ী চিনের পতাকা ঠিক মতো উঠলেও কিছুটা ওঠার পর পোলের মাঝ খানে আটকে যায় দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পতাকা। কর্মীরা অনেক চেস্টা করেও দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা ঠিক ভাবে তুলতে পারেননি। তা দেখে ক্ষেপে যান উপস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থকেরা। তাঁরা গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ করতে শুরু করেন আয়োজকদের।
ক্ষুব্ধ দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অধিনায়ক লি জি হিউকও। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উদ্যাপনের উপলক্ষ হওয়া উচিত। এই পদকটা জেতার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। অথচ আয়োজকেরা আমাদের দেশের পতাকাটাও ঠিক মতো তুলতে পারলেন না। বিষয়টা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি নিশ্চিত ফুটবলারদের পাশাপাশি আমাদের সমর্থকেরাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁরা ওত দূর থেকে জাপানে এসেছেন শুধু আমাদের সমর্থন করবেন বলে।’’ দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত শেষ হয়ে যাওয়া পর পতাকা সম্পূর্ণ উত্তোলিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই নিয়ে টানা চার বার ছেলেদের ফুটবলে সোনা জিতল দক্ষিণ কোরিয়া।
নাগোয়া গেমসের আয়োজন নিয়ে ক্ষোভ এবং হতাশা গোপন করেননি দক্ষিণ কোরিয়ার স্পোর্ট অ্যান্ড অলিম্পিক কমিটির সভাপতি রিউ সেউং-মিন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা যদি এ বারের আয়োজনের মান বলতে চাই, তা হলে ‘এফ’র বেশি দেওয়া যাচ্ছে না।’’ উল্লেখ্য, এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি হকি ম্যাচে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়েছিল। তা নিয়ে নাগোয়া গেমসের আয়োজকদের কাছে সরকারি ভাবে প্রতিবাদ জানান দক্ষিণ কোরিয়া। একের পর এক এমন গুরুতর গাফিলতিতে নাগোয়া গেমসের আয়োজকদের উপর অত্যন্ত বিরক্ত দক্ষিণ কোরিয়া।