কমনওয়েলথ গেমসে পৌঁছে গেলেন পদক জয়ের দিক থেকে ভারতীয় সমর্থকেরা যাঁর দিকে সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে আছেন, সেই নীরজ চোপড়া। অলিম্পিক্সে জোড়া পদকজয়ী শুক্রবার রাতে (ভারতীয় সময়ে) গ্লাসগোয় পৌঁছন। তাঁকে নিয়ে ভারতীয় সমর্থকদের উন্মাদনা থাকার বড় কারণ ২০১৮ সালে তিনি এই প্রতিযোগিতায় সোনা জেতেন। তবে শেষ কমনওয়েলথ গেমস অর্থাৎ ২০২২-এ তিনি নামতে পারেননি চোটের জন্য।
দ্বিতীয় সোনা জেতার জন্য অবশ্য নীরজের পরীক্ষা সোজা নয়। তাঁকে লড়তে হবে অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের আর্শাদ নাদিম, প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গ্রেনাডার অ্যান্ডারসন পিটার্স এবং চলতি বছরে দুরন্ত ভাবে উঠে আসা শ্রীলঙ্কার রমেশ পাথিরাগের সঙ্গে। যিনি গত মাসে দোহা ডায়মন্ড লিগে নীরজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন।
ভারত অবশ্য প্রতিযোগিতার প্রথম পদক নিশ্চিত করল শুক্রবার। প্যারা-ভারোত্তোলনে ব্রোঞ্জ পেলেন ভারতের ঝান্ডু কুমার। গ্রুপ ‘বি’-তে ১৯০ কেজি তুলে পদক নিশ্চিত করেন তিনি।
ঝান্ডু বিহারের এক সব্জি বিক্রেতার ছেলে। নিজেও এক সময় সব্জি বিক্রি করতেন। এমনকি টোটো চালিয়েও সংসার চালিয়েছেন। তাঁর এই প্রাপ্তি সারা দেশকে গর্বিত করে তুলল।
এ দিন সাঁতারে শ্রীহরি নটরাজ ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক বিভাগের সেমিফাইনালে উঠলেন। দুই প্যারা-সাঁতারু আরভিভিবিকে বুদিগিনা এবং ইমাম আলি ওঠেন ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল এস-১৩ বিভাগের ফাইনালে। এই বিভাগে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল থাকা খেলোয়াড়েরা অংশ নেন। পাশাপাশি ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থানে শেষ করলেন প্যারা-ভারোত্তোলকঅশোক মালিক।
দু’বারের অলিম্পিয়ান এবং একাধিক জাতীয় রেকর্ডের অধিকারী নটরাজ আট জনের হিটে পঞ্চম হন। সময় নেন ২৫.৫২ সেকেন্ড। সব মিলিয়ে তিনি যুগ্ম ভাবে ১৪ নম্বর স্থান পান বারমুডার জ্যাক হার্ভির সঙ্গে। যা তাঁকে ১৬ জনের সেমিফাইনালে জায়গা করে দেয়। এর আগে ২০১৮ গোল্ড কোস্ট এবং ২০২২ বার্মিংহাম গেমসে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। বার্মিংহামে তিনি প্রথম ভারতীয় সাঁতারু হিসেবে একাধিক ব্যক্তিগত বিভাগে ফাইনালে ওঠারনজিরও গড়েছিলেন।
পাশাপাশি প্যারা-সাঁতারে ভারতের বুদিগিনা ৫৭.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন হিটে। তাঁর সতীর্থ ইমাম আলি নেন ১:০৫.৩২ সেকেন্ড সময়। তবে প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী হিটে অংশ নেওয়া আট জনই ফাইনালে ওঠেন। ফলে আলিও বুদিগিনার সঙ্গে ফাইনালে উঠেছেন। তবে ফাইনালে দু’জনই পদক জিততে পারেননি। বুদিগিনা যুগ্ম ভাবে চতুর্থ হন ৫৭.৫৭ সেকেন্ড সময় করে। আলি শেষ করেন সাত নম্বরে। তাঁর প্রাপ্ত সময় ১:০৩.৭৩ সেকেন্ড।
প্যারা-ভারোত্তোলনে লাইটওয়েট বিভাগে অশোক পান ১৪৩.৮ পয়েন্ট। যা পদক জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। আর এক ভারতীয় পরমজিৎ কুমার ১৩৫.৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেন সাত নম্বরে। এই বিভাগে সোনা জেতেন ইংল্যান্ডের মার্ক সোয়ান (১৫৩.৯)। প্যারা-ভারোত্তোলনে মেয়েদের বিভাগে ভারতের যশপ্রীত কৌর শুরুটা ভাল করলেও শেষ করলেন ষষ্ঠ স্থানে। তবে প্রাথমিক রাউন্ডে তিনি শীর্ষে শেষ করেছিলেন ১০০ কেজি ওজন তুলে। তিনি শেষ করেন ৯৬.৪ পয়েন্টে। সুমন দেবী শেষ করেন সাত নম্বরে ৮৮.৪ পয়েন্ট নিয়ে।
লন বল বিভাগে ভারতের মেয়েরা টানা দ্বিতীয় দিন জয় পেয়েছে। এ দিন রূপা রানি তিরকে এবং পিঙ্কি সিংহের জুটি হারায় দক্ষিণ আফ্রিকার থাবেলো মুভহাঙ্গো ও জ্যাকি জ্যান্সকে। ফল ২-০ (৬-৪, ৭-৫)। বৃহস্পতিবার তাঁরা মাল্টাকে টাইব্রেকে হারিয়েছিলেন। এই জয়ের ফলে ভারতীয় জুটি গ্রুপে শীর্ষে রয়েছে। ২০২২ বার্মিংহাম গেমসে লন বলের ফোরস টিমের সোনাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রূপা ও পিঙ্কি। তবে এ বারের গেমসে পুরুষ ও মহিলাদের ফোরস বিভাগ বাদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার ভারতীয় জুটি মুখোমুখি হবে টোঙ্গার। রবিবার তাঁদের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া ও ইংল্যান্ড। মোট ২৪টি জুটি লড়াই করছে এই বিভাগে। এর মধ্যে প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষে শেষ করা দল শেষ চারে উঠবে।
লন বলে পুরুষদের সিঙ্গলসে দুরন্ত জয় পান পুতুল সোনোয়াল। ৪৩ বছর বয়সি পুতুল বৃহস্পতিবার প্রথম ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন রায়ান বেস্টারকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন। এ দিন তিনি সেসিল আলেকজান্ডারকে নাটকীয় ভাবে হারান টাইব্রেকারে। ফলে গ্রুপে তিনি এখন শীর্ষে আছেন। শেষ বলে জয় নিশ্চিত করেন পুতুল। তাঁর শট দেখে এমনকী প্রশংসা করেন তাঁর প্রতিপক্ষও।
বক্সিংয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছেন জাদুমণি সিংহ। শুরুটা দাপটে করলেও। শেষ রাউন্ডে জাদুমণিকে পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন স্কটল্যান্ডের অ্যারন কালেন। তবে ৫৫ কেজি বিভাগের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বিচারকরা জাদুমণির দিকেই রায় দেওয়ায় তাঁর শেষ ষোলোয় ওঠা নিশ্চিত হয়ে যায়।
এ দিন আবার ধাক্কা খেল ভারতীয় দল। বৃহস্পতিবার ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ে জুডোকা অরুণ কুমারের নাম বাদ পড়ার পরে শুক্রবার সরে দাঁড়ালেন প্রাক্তন রুপোজয়ী তুলিকা মান। গত ১২ মাসে জাতীয় ডোপ বিরোধী সংস্থার ‘হোয়ারঅ্যাবাউট’-এ তিন বার ব্যর্থ হন তিনি।