ধোনির নেতৃত্ব
ক্রিকেট সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ফিরলেই ধোনি কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে। ব্যাট হাতে নামতেই হয়নি। কিন্তু স্রেফ অধিনায়কত্বেই ম্যাচের উপর প্রভাব ফেলে দিচ্ছে। পিচটাকে একদম ঠিকঠাক বুঝতে পারছে। এ দিন সবাই ধরে নিয়েছিল, গেইলের জন্য নির্ঘাত শুরুতে অশ্বিনকে আনবে। কিন্তু ভুবনেশ্বর-শামিকে দিয়ে বোলিং ওপেন করাল। এবং শুরুতে ভুবির অসাধারণ সুইং বোলিং যে চাপটা ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ের উপর রাখল, সেটা থেকে গেইলরা বেরোতে পারেননি। এর সঙ্গে রয়েছে নিখুঁত ফিল্ড প্লেসিং, ঠিক সময় বোলিং চেঞ্জ। পাশাপাশি যোগ করুন টস ভাগ্য। একটা তথ্য দেখলাম, গত ১৪টার মধ্যে ১৩টা টসই ধোনি জিতেছে! যেখানে ডিউ-ফ্যাক্টর থাকে, সেখানে টস যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ভাগ্যের এই সুবিধাটাও এখন পর্যন্ত পেয়েছে ধোনি।
অমিত মিশ্রর স্পিন
দু’ইনিংসের মাঝে অমিত মিশ্রকে ধরেছিল টিভি। দেখলাম অমিত বলল, ধোনি ওকে বলেছে ‘শুধু বল ঘোরানোর কথা ভাবো, যে রকম পছন্দ ফিল্ডিং নাও।’ অধিনায়কের এই আস্থাটা কিন্তু অমিতকে ম্যাচ উইনারে বদলে দিচ্ছে। অশ্বিন বা জাডেজা কিন্তু এত অ্যাটাকিং বোলার নয়। অমিতের লেগ স্পিনটা যোগ হওয়ায় ভারতের বোলিং আক্রমণ কিন্তু এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ওর গুগলি বা লেগ স্পিন কোনওটাই ব্যাটসম্যান সে ভাবে বুঝতে পারছে না। এ দিন যেমন স্যামুলেয়স বড় লেগ স্পিনে স্টাম্পড হল, পরের বলটাই গুগলি। বুঝতে না পেরে ব্র্যাভো এলবিডব্লিউ। ঢাকার এই উইকেটে অমিতের লেগ স্পিন কিন্তু বাকিদেরও ভোগাবে।
টপ অর্ডারের ফর্মে আসা
ভারতীয় ব্যাটিং কতটা হেভিওয়েট, তা সবাই জানে। সমস্যা ছিল ওপেনারদের নিয়ে। এ দিন ধবন রান না পেলেও রোহিত সর্বোচ্চ স্কোর করল। বিরাট কোহলি তো প্রতি ম্যাচেই রান পাচ্ছে। ধবনও আগের ম্যাচে রান পেয়েছে, রায়নাও। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের একটা সুবিধা হয়ে গিয়েছে বিপক্ষ স্কোরবোর্ডে বড় রান তুলতে না পারায়। ফলে চাপমুক্ত হয়ে ব্যাট করতে পারছে। ছন্দেও ফিরেছে। একমাত্র যুবরাজ বাদে আর কাউকে নিয়ে সমস্যা নেই।
চিন্তা শুধু ফিল্ডিং নিয়ে
ভারতীয় দলের একমাত্র দুশ্চিন্তার জায়গাটা হল ফিল্ডিং। ফিল্ডিংটা বেশ খারাপ হচ্ছে। ব্যাটিং, বোলিং ভাল হচ্ছে বলে এই খারাপ ফিল্ডিংয়ের রেশটা দলের পারফরম্যান্সে পড়ছে না। কিন্তু এখনও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বাকি। সেমিফাইনালে উঠলে খেলতে হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা বা শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও। এ ভাবে ক্যাচ গলালে সব সময় কিন্তু ম্যাচ জেতা যাবে না।