শুধু মাত্র মোবাইল ফোনের নম্বর দিয়ে প্রতারণা। নিমেষে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড), ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য না হাতিয়েই সেখানে থাবা মারছে সাইবার গ্যাং। হ্যাকিংয়ের এ-হেন নতুন কায়দা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ট্রাই)।
পুলিশ সূত্রে খবর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাফ করতে প্রথমেই কিছু নকল পরিচয়পত্র বানাচ্ছে সাইবার গ্যাং। তার পর সেগুলি নিয়ে তাঁরা পৌছচ্ছে সিমকার্ডের দোকানে। উদ্দেশ্য, মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার বাহানা দিয়ে বিকল্প নম্বর সংগ্রহ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরল বিশ্বাস সঙ্গে সঙ্গে যা দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। একবার সেটা হাতে চলে এলেই শুরু হচ্ছে আসল হ্যাকিং।
উল্লেখ্য, বিকল্প সিমকার্ড ইস্যু হলে নিয়ম মেনে পুরনো নেটওয়ার্ক বন্ধ করে থাকে ট্রাই। এর পর যাবতীয় তথ্য নতুন সিমকার্ডেই পেতে থাকেন গ্রাহক। তদন্তকারীদের দাবি, হ্যাকিংয়ের জন্য এই সুবিধাটাই নিচ্ছে সাইবার অপরাধীদের গ্যাং। কারণ, বিকল্প সিমকার্ড চালু হওয়ার পর সেখানেই যাবতীয় তথ্য পাঠাচ্ছে ব্যাঙ্ক। যেটা দিয়ে কোনও অ্যাকাউন্ট খালি করা একেবারেই কঠিন নয়।
তবে এই হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায়ও কিন্তু লুকিয়ে আছে ট্রাইয়ের নিয়মেই। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, বিকল্প সিমকার্ড ইস্যু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনও বার্তা (মেসেজ) পাবেন না গ্রাহক। আর তাই হঠাৎ ৫-৬ ঘণ্টার ধরে মোবাইল ফোনের পরিষেবা বন্ধ থাকলে সতর্ক হতে হবে গ্রাহককে। দ্রুত তাঁকে সিমকার্ড বিলি করা সংস্থার দফতরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রযুক্তিবিদরা।
আরও পড়ুন:
সেখানে গিয়ে কোনও বিকল্প সিমকার্ড ইস্যু করা হয়েছে কিনা, তা জানতে হবে গ্রাহককে। পাশাপাশি, অবশ্যই মোবাইল পরিষেবা ব্লক করা উচিত। তা ছাড়া এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় থানা বা সাইবার অপরাধ বিভাবে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশও দিয়ে রেখেছে ট্রাই।