নিরীহ একটি শব্দ ‘না’ বা ‘নো’। হোয়াট্সঅ্যাপের বার্তায় পাঠানো এই একটি শব্দেই নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে ব্যাঙ্কের সমস্ত সঞ্চয়। নতুন এক সাইবার অপরাধ নিয়ে সতর্কবার্তা পুলিশের। হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার নাগরিকদের নতুন এক সাইবার কেলেঙ্কারি নিয়ে সচেতন করেছেন তাঁর এক্স পোস্টে। তিনি জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার একটি সাধারণ ‘না’ যে কারও সঞ্চয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
পুলিশকর্তা একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র একটি হোয়াট্সঅ্যাপ মেসেজের উত্তরে ‘না’ বলার কারণে মুহূর্তের মধ্যে এক ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ খালি হয়ে গিয়েছে! প্রতারিত ব্যক্তি কারও সঙ্গে কোনও ওটিপি শেয়ার করেননি, বা কোনও সন্দেহজনক লিঙ্কেও ক্লিক করেননি। শুধুমাত্র ওই দু’টি অক্ষরের উত্তর ‘না’। আর তাতেই তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। একটি মাত্র হোয়াট্সঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারকদের নয়া এই কৌশলটি হল, ‘অটো-এক্সিকিউশন ফাইল অ্যাটাক’!
কেলেঙ্কারিটি কী ভাবে ঘটে, তা ব্যাখ্যা করেছেন সজ্জনার। প্রথমে, হোয়াটসঅ্যাপে একটি অজানা নম্বর থেকে একটি ভুয়ো বার্তা আসে। সেখানে বলা হয় অ্যাকাউন্ট থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে। এর ঠিক পরেই গ্রাহককে আতঙ্কিত করার জন্য একটি দ্বিতীয় বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয়, ‘‘আপনি যদি লেনদেনটি শুরু না করে থাকেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে ‘না’ লিখে উত্তর দিন।’’
অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার আতঙ্কে যে মুহূর্তে কেউ ‘নো’ কথাটি টাইপ করে পাঠান, মেসেজের মধ্যে থাকা লুকনো ম্যালওয়্যার স্ক্রিপ্টগুলি স্বয়ংক্রিয় ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হ্যাকাররা আপনার মোবাইল ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে সমস্ত সঞ্চয় ফাঁকা হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক এই প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত রাখতে নাগরিকদের কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন সজ্জনার। তিনি লিখেছেন, “সকলের কাছে আমার আবেদন, কোনও অবস্থাতেই অজানা নম্বর থেকে আসা ব্যাঙ্কের লেনদেন সংক্রান্ত মেসেজের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ লিখবেন না।” তিনি আরও বলেন, “আতঙ্কিত হবেন না এবং কোনও উত্তরও পাঠাবেন না। বরং, অবিলম্বে নম্বরটি ব্লক করুন এবং চ্যাটটি মুছে ফেলুন।”
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সরাসরি ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। হোয়াট্সঅ্যাপে আসা কোনও বার্তার উপর নির্ভর না করারও আবেদন জানিয়েছেন। কারণ, বৈধ ব্যাঙ্কগুলি সাধারণত গ্রাহকদের অজানা নম্বর থেকে আসা বার্তার উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ লিখে লেনদেন যাচাই করতে বলে না।