উৎসবের মরসুমে ভারতের বাজারে চলে এসেছে ১৮ সিরিজ়ের আইফোন। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রি বুকিং। আপাতত, আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের মতো মডেলগুলি কিনতে পারবেন গ্রাহক। এ দেশে যার দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্মাণকারী মার্কিন টেক জায়ান্ট।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আইফোন উৎপাদন করছে ভারত। ফলে অ্যাপ্ল নির্মিত মুঠোবন্দি ডিভাইসের দাম কমার ব্যাপারে আশাবাদী ছিল আমজনতা। যদিও বাস্তবে তা হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকার বাজারে বেশ সস্তায় বিক্রি হচ্ছে আইফোন। তা হলে কেন এ দেশের বাসিন্দাদেরই পকেট কাটছে নির্মাণকারী মার্কিন টেক জায়ান্ট?
একটা উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টা বুঝে নেওয়া যেতে পারে। মার্কিন মুলুকে ১,১৯৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে আইফোন ১৮ প্রো। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় সংশ্লিষ্ট মডেলের দাম হওয়া উচিত প্রায় ১.১৬ লাখ টাকা। সেখানে এ দেশের বাজারে এই ডিভাইসের প্রারম্ভিক মূল্য ১.৬৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
দামের এ-হেন হেরফেরের জন্য অবশ্য ডলারের নিরিখে ভারতীয় মুদ্রা, রুপির অবমূল্যায়নকে দায়ী করেছেন প্রযুক্তিবিদদের একাংশ। বর্তমানে এক ডলারের দর ৯৬-৯৭ টাকায় ঘোরাফেরা করছে। যদিও এই হিসাবে ভারতের বাজারে আইফোন বিক্রি করছে না অ্যাপ্ল। আর তাই মার্কিন টেক জায়ান্টের ফোন কিনতে গেলেই দামের ছেঁকা খাচ্ছেন গ্রাহক।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, আইফোনের ক্ষেত্রে ডলার ও রুপির বিনিময়মূল্য ১৩৭ টাকা ধার্য করেছে অ্যাপ্ল। ফলে, আইফোন-১৮ প্রো ম্যাক্সের প্রারম্ভিক দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। অক্টোবরে এ দেশের বাজারে ভাঁজ করা মুঠোবন্দি ডিভাইস আনতে চলেছে সংশ্লিষ্ট মার্কিন টেক জায়ান্ট। যার পোশাকি নাম ‘আইফোন ডুয়ো’।
ভাঁজ করা আইফোনের ক্ষেত্রে আবার ডলার-রুপির বিনিময়মূল্য ১৫০ টাকা রাখা হয়েছে। আর তাই এর প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন টেক জায়ান্টের এ-হেন পদক্ষেপের জেরে স্বাভাবিক ভাবেই উঠে গিয়েছে একটা প্রশ্ন। তবে কি খুব দ্রুত মারাত্মক রকম অবমূল্যায়ন হতে চলেছে ভারতীয় রুপির?
প্রসঙ্গত, ১৮ সিরিজ় বাজারে চলে এলেও এখনও বন্ধ হয়নি আইফোন-১৭। তার দাম আবার ৮৩,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছে অ্যাপ্ল। পুরনো মডেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসাবে কাঁচমাল ও যন্ত্রাংশের সঙ্কটকেও চিহ্নিত করছেন অনেকেই।