Advertisement
E-Paper

সময় এখানে থমকে যায়, ক্লান্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে ঘুরে আসুন দার্জিলিঙের ৩ গ্রাম থেকে

শহুরে জীবনের কোলাহলের বাইরে যদি শান্তির ঠিকানার দরকার হয় তবে তালিকায় রাখুন লিংসেবং, রঙ্গারুন এবং তাকদা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৪
দার্জিলিং শহর নয়, চলুন দার্জিলিঙের ৩ গ্রামে।

দার্জিলিং শহর নয়, চলুন দার্জিলিঙের ৩ গ্রামে। ছবি:সংগৃহীত।

এখানে তাড়া নেই কারও। সময় যেন কোনও অদৃশ্য স্পর্শে থমকে যায়। জমাটবাঁধা মেঘ, চারপাশ ঢেকে দেওয়া কুয়াশা এখানে পাক খায় নিজের ছন্দে। অফিস, মিটিং, ডেডলাইন থেকে অনেক দূরে খানিকটা সময় যদি নিজেকে দিতে চান তবে চলুন পাহাড়ের কোলে।

দার্জিলিং জেলারই তিন গ্রাম, তবে দার্জিলিং শহরের মতো নয়। এখানে গাড়ির শব্দ, কোলাহল, পসরা নিয়ে হাঁকাহাকি নেই। বদলে আছে দিগন্ত আড়াল করা পর্বতশিখর, পাইনের ঘন বন আর নির্জনতা। শহুরে জীবনের কোলাহলের বাইরে যদি শান্ত কোনও ঠিকানার দরকার হয় তবে তালিকায় রাখুন লিংসেবং, রঙ্গারুন এবং তাকদা।

লিংসেবং

লিংসেবং রাখতে পারেন সফর তালিকায়।

লিংসেবং রাখতে পারেন সফর তালিকায়। ছবি:সংগৃহীত।

দার্জিলিংয়ের আশপাশে ছোটখাটো গ্রাম নেহাত কম নেই। তবে লিংসেবং বেছে নেবেন কেন, সে প্রশ্ন উঠলে বলতে হয় এখানে প্রকৃতি উপুড়হস্ত। ঘন পাইনের বন যেন মায়ার জগৎ। মেঘ-কুয়াশার আনাগোনা এখানে নিরন্তর। তবে মেঘমুক্ত দিনে এখান থেকেই দৃশ্যমান হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। ‘ঘুমন্ত বুদ্ধের’ সৌন্দর্য স্পষ্ট প্রতীয়মান লিংসেবং থেকে। এই গ্রাম যেন তৈরি অলসযাপনের জন্য। তবে যাঁরা বন্যপ্রাণ, পাখি নিয়ে আগ্রহী, তাঁদেরও মোটেই হতাশ করবে না গ্রামটি। এখানে রয়েছে ঘন অরণ্য। অরণ্যের পাশ দিয়ে একটি পায়ে চলা রাস্তা চলে গিয়েছে সান্দাকফুর দিকে। এই অরণ্যে ব্ল্যাক প্যান্থারের আনাগোনা। ট্রেক করলে দেখা হয়ে যেতে পারে রেড পান্ডার সঙ্গেও।

কোথায় থাকবেন?

লিংসেবংয়ে থাকার জন্য কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে।

কী ভাবে যাবেন

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে লিংসেবংয়ের দূরত্ব ১২৫ কিলোমিটার। সরাসরি গাড়ি বুক করে আসা ভাল। নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে জোড়বাংলোর শেয়ার গাড়ি পাওয়া যায়। সেখান থেকে বাকি রাস্তা গাড়ি বুক করে যেতে হবে।

রঙ্গারুন

রঙ্গারুন যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনও ছবি।

রঙ্গারুন যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনও ছবি। ছবি:সংগৃহীত।

পাহাড়ে যাঁরা খুঁজে নিতে চান ক্ষণিকের নির্জনতা, চান পাহাড়ি খাবারের স্বাদ, গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার শরিক হতে, তাঁদের জন্য রঙ্গারুন একেবারে সঠিক জায়গা। এই গ্রামের বিস্তীর্ণ উপত্যকা জুড়ে রয়েছে চা-বাগিচা। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, ফুলের গাছ, পাহাড়, চাষের ক্ষেত— সব মিলিয়ে আর পাঁচটা পাহাড়ি গ্রামের থেকে বিশেষ কিছু তফাত নেই বটে, তবু রঙ্গারুন সুন্দর। দুটো দিন নিশ্চিন্তে অবসরযাপনের জন্যই যেন গ্রামটি। রোদঝলমলে দিনে রঙ্গারুন থেকেও দৃশ্যমান হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। রঙ্গারুনের চা-বাগান যেন গালিচার মতো। রঙ্গারুন থেকে ট্রেক করা যায় বেশ কয়েকটি পথে। পৌঁছোনো যায় রুংদাং খোলায়। সকাল সকাল প্রাতরাশ সেরে পা বাড়াতে পারেন এই পথে। পাহাড়ের সৌন্দর্য সঙ্গ দেবে প্রতি পদে। শেষে মোলাকাত হবে এক পাহাড়ি ঝোরার সঙ্গে। সাড়ে তিন কিলোমিটারের হাঁটা পথ মন ভরিয়ে দেবে।

কোথায় থাকবেন?

রঙ্গারুনে থাকার জন্য কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে।

কী ভাবে যাবেন

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে জোড়বাংলো হয়ে পৌঁছোতে হবে রঙ্গারুন। দূরত্ব মোটামুটি ৭৫ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে জোড়বাংলার শেয়ার গাড়ি মিলবে। সেখান থেকে রঙ্গারুন পৌঁছোতে হলে হোম স্টে-র গাড়ি বুক করে নেওয়া ভাল। পুরো রাস্তাটাই গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন।

তাকদা

তাকদার সৌন্দর্যও ভুলিয়ে দিতে পারে শহুরে ক্লান্তি।

তাকদার সৌন্দর্যও ভুলিয়ে দিতে পারে শহুরে ক্লান্তি। ছবি:সংগৃহীত।

তাকদা দেখলে মনে হবে, কোনও নিখুঁত নিসর্গদৃশ্যের পট। আঁকাবাঁকা মসৃণ পথের দু’পাশে ছড়িয়ে চা বাগান। সেই চা বাগানের মাঝে মাঝে পাইন আর সিডার গাছ। পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট বাড়ি। এখানেই রয়েছে পেমা সোলিং গুম্ফা। মেঘমুক্ত আকাশে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। পায়ে হেঁটে ঘুরে নেওয়া যায় আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, ছবির মতো সুন্দর চা বাগান, কমলালেবুর বাগিচা।

কোথায় থাকবেন?

তাকদায় একাধিক হোম স্টে রয়েছে। আছে সরকারি বাংলোও।

কী ভাবে যাবেন?

নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তাকদার দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে যাওয়াই সুবিধাজনক।

Travel Tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy