উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রার পরিকল্পনা করছেন? সেই মরসুম এখন শেষের পথে। প্রবল শীত ও তুষারপাতের জন্য প্রতি বছরই কয়েক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায় উত্তরাখণ্ডের চারটি মন্দিরের দরজা। ২০২৬ সালের যাত্রার ক্ষেত্রেও ঘোষণা করা হয়েছে মন্দিরগুলির কপাট বন্ধের দিন ও সময়। যাত্রার আগে দরজা বন্ধের তারিখ, সময় জেনে নিন। তবে শুধু দর্শনের শেষ দিন জানলেই হবে না, কোন মন্দির কখন বন্ধ হবে এবং শীতকালে বিগ্রহ কোথায় রাখা হবে, সেটাও জেনে রাখা জরুরি।
উত্তরাখণ্ডের চারধাম যাত্রা হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থযাত্রা। গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ— এই চারটি মন্দিরকে ঘিরেই সম্পন্ন হয় এই পুণ্যযাত্রা। হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় শীতকালে প্রবল তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মন্দিরগুলি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। সাধারণত এপ্রিল বা মে মাসে দরজা খোলার পর অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ শেষ হয় দর্শনের মরসুম। তবে চারটি মন্দির একই দিনে বন্ধ হচ্ছে না। গঙ্গোত্রী থেকে শুরু করে বদ্রীনাথ পর্যন্ত আলাদা আলাদা দিনে দরজা বন্ধ হবে।
কোন মন্দির কবে বন্ধ হবে?
গঙ্গোত্রী: ২০২৬-এর ১০ নভেম্বর দুপুর ১২:০৫-এ বন্ধ হবে গঙ্গোত্রী মন্দিরের দরজা। দীপাবলির পরে অন্নকূট উৎসবের দিন বিশেষ পুজো ও ধর্মীয় আচার পালনের পর মন্দিরের কপাট বন্ধ হবে। শীতকালে দেবী গঙ্গার বিগ্রহ নিয়ে যাওয়া হবে উত্তরকাশীর মুখবা গ্রামে। সেখানেই আগামী কয়েক মাস পুজো চলবে।
গঙ্গোত্রী মন্দির। ছবি: সংগৃহীত
যমুনোত্রী: চলতি বছর ১১ নভেম্বর ভাইফোঁটার দিন নির্দিষ্ট আচার পালন করার পর সকাল ১০:২৮-এ মন্দিরের দরজা বন্ধ হবে। যাঁরা চারধাম যাত্রা করেন, সাধারণত যমুনোত্রী দিয়েই তা শুরু হয়। এর পর দেবী যমুনার বিগ্রহ নিয়ে যাওয়া হবে খরশালি গ্রামে। শীতের মাসগুলিতে সেখানেই ভক্তেরা দেবীর পুজো দিতে পারবেন।
কেদারনাথ: চারধামের সবচেয়ে জনপ্রিয় মন্দিরের দরজা বন্ধ হবে ২০২৬-এর ১১ নভেম্বর। এ দিন সকালে বিশেষ ধর্মীয় আচার পালনের পর সকাল সাড়ে ৮টায় মন্দির বন্ধ করা হবে। শীতকালে শিবের বিগ্রহ নিয়ে যাওয়া হবে উখিমঠের ওঙ্কারেশ্বর মন্দিরে। সেখানেই চলবে নিয়মিত পুজো।
বদ্রীনাথ: বাকি তিন মন্দিরের তুলনায় বেশি দিন খোলা থাকবে বদ্রীনাথের মন্দির। ১৬ নভেম্বর রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে মন্দিরের দরজা বন্ধ হওয়ার কথা। শীতকালে বদ্রীনারায়ণের পুজো চলবে জোশীমঠের নৃসিংহ মন্দিরে। দেবতার শীতকালীন বাসস্থানের মধ্যে রয়েছে পাণ্ডুকেশ্বরও।
চারধাম যাত্রা অনেকের কঠিন মনে হতে পারে। পাহাড়ি পথ, উচ্চতা এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে যাত্রার আগে প্রস্তুতি জরুরি। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা যাঁদের আগে থেকে কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যাত্রা করা উচিত। উচ্চতাজনিত অসুস্থতার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকাও প্রয়োজন।