উদ্বোধনের পর থেকেই প্রায় ১৮২ মিটার উঁচু সর্দার বল্লভভাই পটেলের মূর্তি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। নর্মদা নদীর তীরে ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ দেখতে তার পর থেকে বহু পর্যটকই ভিড় জমিয়েছেন গুজরাতে। এবার কেবড়িয়ার সেই একতা নগরেই বল্লভভাই পটেলের বিশালাকার মূর্তির কাছে তৈরি হল রেনফরেস্ট।
সম্প্রতি সেখানেই ঘুরে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রেনফরেস্টের ছবি, ঘোরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন এক্স হ্যান্ডলে। ৩১ অক্টোবর ছিল ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকী। একতা নগরে গিয়ে ওই দিন বল্লভভাইের মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মোদী। তার পরেই তিনি যান রেনফরেস্টে।
আরও পড়ুন:
১২ একর জমির উপর ১২ কোটি টাকা খরচে গড়ে উঠেছে এই কৃত্রিম অরণ্য। রেনফরেস্টে যে ধরনের চিরহরিৎ বৃক্ষ থাকে, তা দিয়েই বনভূমি গড়ে তুলতে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, হিমালয়, আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০টি স্তম্ভের সাহায্যে বৃষ্টির মতো জল ছেটানো হবে। ফলে, এখানে এলে মনে হবে বর্ষাকাল বছরভর বিরাজমান।
রেনফরেন্টের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি:সংগৃহীত।
রেনফরেস্টের অন্যতমে আকর্ষণ অবশ্য কাচের স্কাইওয়াক। বৃত্তাকার স্কাইওয়াকে ১৩২টি অত্যন্ত মজবুত কোরিয়ান কাচের পাটাতন বসানো হয়েছে। তার উপর দিয়ে হাঁটার সময়ে পায়ের নীচে সবুজ বনানী দৃশ্যমান হবে। চোখে পড়বে ফোয়ারা, ঝর্না। স্থানে স্থানে ম্যাপে থাকবে পথনির্দেশ, যাতে পর্যটকেরা নিজেরাই তা দেখে ঘুরতে পারেন। স্কাইওয়াক থেকে দেখা যাবে বল্লভভাইয়ের মূর্তিটিও।
প্রকৃতি তথ্য কেন্দ্র: বন ও জীববৈচিত্র সম্পর্কে বিশদে জানার জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি তথ্য কেন্দ্র। বাঁশ, কাঠ, পাথরের মতো পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তা সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
সময়সূচি ও প্রবেশমূল্য
সময়: প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। (প্রবেশের শেষ সময় বিকেল পাঁচটা)।
টিকিট মূল্য: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০০ টাকা এবং শিশু ও কিশোরদের (৩ থেকে ১৫ বছর বয়স) জন্য ৫০ টাকা।
গুজরাত সফরে কীভাবে সাজাবেন?
একতা নগরে বিশ্ব বন। নদীর তীরে সাজানো উদ্যান। ছবি:শাটারস্টক।
অহমদাবাদ কিংবা বডোদরা থেকে খুব সহজেই সড়কপথে বা ট্রেনে একতা নগর স্টেশনে পৌঁছোনো যায়। অহমদাবাদ থেকে সফর শুরু করলে, সকালে পৌঁছনোর পর বিশ্রাম নিন। বিকেলে ঘুরে নিন সবরমতী আশ্রম, কাঁকাড়িয়া হ্রদ। শহরটির আনাচকানাচ ঘুরে নিতে পারেন। করতে পারেন কেনাকাটিও।
পরের দিন চলুন একতা নগর। সেখানে পৌঁছে বিকালে রেনফরেস্ট ঘুরে নিন। পড়ন্ত সূর্যালোকে স্কাইওয়াক থেকে আশপাশের দৃশ্য মনোরম দেখাবে। সন্ধ্যায় নর্মদা নদীর তীরে সন্ধ্যারতি দেখার মতো। সর্দার সরোবর বাঁধে আলো জ্বলে উঠলে আশপাশের পরিবেশ মায়াবী হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় লেজ়ার শো দেখুন। স্ট্যাচু অফ ইউনিটির মূল মূর্তির উপর একটি অসাধারণ লেজার লাইট ও সাউন্ড শো প্রদর্শিত হয়।
পরের দিন সকালে স্ট্যাচু অফ ইউনিটির ঠিক নীচেই মিউজ়িয়াম এবং প্রদর্শনী হলটি ঘুরতে পারেন। সেখান থেকে চলুন বিশ্ব বন। নর্মদা নদীর তীরে ২৪ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত বাগানে অসংখ্য ফুলের গাছ রয়েছে। দেখা মিলবে নানা রকম প্রজাপতির। বেড়ানোর জন্য এটি অত্যন্ত মনোরম স্থান। এখান থেকে স্ট্যাচু অফ ইউনিটির দারুণ ছবি তোলা যায়। ঘুরে নিতে পারেন কেবড়িয়া জুলজিক্যাল পার্ক। ৩৭৫ একর বিস্তৃত চিড়িয়াখানায় সাফারির ব্যবস্থা আছে।
পরের দিন চলুন বডোদরা। একতানগর থেকে দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার। যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগবে। সেখানে লক্ষ্মীবিলাস প্যালেস, সায়াজী বাগ, বড়োদা মিউজ়িয়াম এবং আর্ট গ্যালারি ঘুরে নিন। পরের দিন অহমদাবাদ এসে ফেরার পথ ধরতে পারেন বা অহমদাবাদের আশপাশের জায়গাগুলি ঘুরে নিতে পারেন।