Advertisement
E-Paper

শিলং, চেরাপুঞ্জি, মাওলিননং নয়, তিনটি গ্রামে খুঁজে নিন অচেনা মেঘালয়কে! কী ভাবে যাবেন?

চেনা ছকের বাইরেও মেঘালয়কে আবিষ্কার করা যায়। ঘুরে দেখা যায়, এই রাজ্যের এমন স্থল, যেখানে পর্যটকদের আনাগোনা কম। মেঘালয় সফরে জুড়ে নিতে পারেন তেমনই কয়েকটি জায়গা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৩৭
রোমাঞ্চের ঠিকানা। এমন জায়গা আছে মেঘালয়েই। কী ভাবে যাবেন?

রোমাঞ্চের ঠিকানা। এমন জায়গা আছে মেঘালয়েই। কী ভাবে যাবেন? ছবি:শাটারস্টক।

মেঘের আলয়, তা থেকেই এই রাজ্যটির নাম মেঘালয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুয়াহাটি হয়ে সহজেই মেঘালয়ের রাজধানী শিলঙে পৌঁছোনো যায় বলে, বাঙালিদের ভ্রমণ তালিকায় শিলং, চেরাপুঞ্জি, মাওলিননং, ডাওকি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে চেনা ছকের বাইরেও ছবির মতো সুন্দর এই রাজ্যকে আবিষ্কার করা যায়। ঘুরে দেখা যায় এমন স্থল, যেখানে পর্যটকদের আনাগোনা কম। মেঘালয় সফরে জুড়ে নিতে পারেন তেমনই কয়েকটি জায়গা।

লৈতমাওসিয়াং

লৈতমাওসিয়াং-এ সাম সিয়েম ফল্‌স। সেখানেই গুহা থেকে ঝরে পড়ে ঝর্না।

লৈতমাওসিয়াং-এ সাম সিয়েম ফল্‌স। সেখানেই গুহা থেকে ঝরে পড়ে ঝর্না। ছবি:শাটারস্টক।

পূর্ব খাসি পাহাড়ে রয়েছে ছবির মতো সাজানো লৈতমাওসিয়াং গ্রাম। ঢেউখেলানো পাহাড়, মেঘের আনাগোনা, অসংখ্য গুহা, ঝর্না নিয়ে নিজের মতো করেই সেজে উঠেছে লৈতমাওসিয়াং। খাসি ভাষায় ‘লৈতমাওসিয়াং’ শব্দের অর্থ হল ‘সোনালি ফুলের স্থান’।

ইদানীং সেখানে কিছু উৎসাহী পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এখানকার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পড়ে গার্ডেন অফ কেভস। এই গ্রামে রয়েছে চুনাপাথরের একাধিক ছোট-বড় গুহা। জঙ্গলের মধ্যে সেই গুহার আশপাশেই দেখা মিলবে ঝর্নার। কোথাও আবার গুহার ছাদের ফাঁকা অংশ দিয়েই ঝরঝরিয়ে নামছে জল। বাঁশের তৈরি সাঁকো এবং ঘন সবুজ জঙ্গল এখানকার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। গ্রামটিতে মাশরুমের চাষ হয়। তাই ছোটখাটো পর্যটনস্থলগুলি ঘোরার পাশাপাশি মাশরুম চাষের জায়গাগুলিও দেখতে পারেন। কিনতে পারেন এখানকার টাটকা মাশরুম।

কী ভাবে যাবেন?

গ্রামটি শিলং বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থতি। গুয়াহাটি থেকে ১৬০ কিলোমিটার। চেরাপুঞ্জির দিকে এগোলে মিলবে লৈতমাওসিয়াং গ্রাম।

ওয়ারি চোরা

ওয়ারি চোরার গিরিখাত।

ওয়ারি চোরার গিরিখাত।

মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলের কোলে লুকিয়ে থাকা বারী চোরা একটি গিরিখাত। শান্ত রংদিক নদীর জলস্রোতে হাজার বছর ধরে বিশাল পাথর ক্ষয়ে তৈরি করেছে এই অপরূপ গিরিখাত। ঘন শ্যাওলা আর বুনো লতাপাতায় ঢাকা খাড়া পাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা এই নদীর জল কখনও স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, আবার আলো পড়লে ফিরোজা বা পান্না সবুজের মতো দেখায়। মাত্র কয়েক বছর আগে ভ্রমণপিপাসুদের নজরে আসার পর ক্রমশ তা জনপ্রিয় হচ্ছে।

এখানে কাঠের ছোট ডিঙি নৌকায় গিরিখাতের গভীরে প্রবেশ করাই মূল রোমাঞ্চ। চারপাশে আদিম প্রকৃতির নিস্তব্ধতা এবং কেবল জলের শব্দ এক অদ্ভুত অনুভূতির সঞ্চার করে।

নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে এখানে যাওয়া সবচেয়ে ভাল। এই সময়ে নদীর শান্ত থাকে, জলও স্বচ্ছ থাকে। পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পথে হাঁটার জন্য ভাল জুতো পরা জরুরি।

কী ভাবে যাবেন?

গুয়াহাটি থেকে সড়কপথে তুরা, বাঘমারা হয়ে পৌঁছোতে হবে এমাংগ্রে গ্রামে। এই গ্রাম থেকেই ট্রেকিংয়ের পথ শুরু হয়। ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হেঁটে নদীর তীরে পৌঁছোতে হয়। স্থানীয় গাইডের সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক।

কংথং গ্রাম

কংথং গ্রামের কুঁড়েঘর।

কংথং গ্রামের কুঁড়েঘর। ছবি:সংগৃহীত।

মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড়ের কংথং গ্রাম আর এক বিস্ময়। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হল, নাম রাখার অদ্ভুত প্রথা। জন্মের পর প্রতিটি শিশুর জন্য মা নির্দিষ্ট সুর বেঁধে দেন বা বিশেষ শিস দেন, যা তার নাম হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা একে অপরকে শিস দিয়ে ডাকে। প্রতিটি শিসের সুর আলাদা। তার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে নাম। এই বিরল সংস্কৃতির জন্যই মেঘালয়ের গ্রামটি সম্প্রতি উঠে এসেছে পৃথিবীর পর্যটন মানচিত্রে।

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেনে, সড়কপথে বা বিমানে গুয়াহাটি পৌঁছোন। সেখান থেকে শিলং গিয়ে যেতে হবে গ্রামটিতে। শিলং থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে গ্রামটি। চেরাপুঞ্জি হয়েও যাওয়া যেতে পারে।

meghalaya

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy