Advertisement
E-Paper

বৃহস্পতিবার রথযাত্রা, শুক্র জুড়লেই সপ্তাহশেষে চার দিনের ছুটি, এই মুহূর্তে বেরিয়ে পড়বেন কোথায়?

বৃহস্পতিবার সোজা রথ। শুক্রবারের ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নিতে পারলে জুড়ে যাবে শনি এবং রবি। টানা চার দিনের ছুটি। এই লম্বা সময়কে কাজে লাগিয়ে কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়, এমন কোথাও ঢুঁ মারতে চাইছেন? রইল এমন তিন ঠিকানার সন্ধান।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ১১:১৪
মেঘলা দিনে শুশুনিয়া পাহাড় ।

মেঘলা দিনে শুশুনিয়া পাহাড় । নিজস্ব চিত্র।

ওড়িশার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেরও বড় উৎসব রথযাত্রা। কারও কাছে রথের রশি স্পর্শ করা, জগন্নাথদেবকে রথে আসীন দেখতে পাওয়া আবেগের। আর কারও কাছে রথযাত্রা মানে একটি বাড়তি ছুটির দিন।

পায়ের তলায় যাঁদের সর্ষে, তাঁরা সুযোগ খোঁজেন কী ভাবে পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা ছুটির দিন কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে পড়া যায়। অনেকেই পরিকল্পনা করে রাখেন আগাম। বৃহস্পতিবার রথ। শুক্রবারের ছুটি মঞ্জুর করিয়ে নিতে পারলে জুড়ে যাবে শনি এবং রবি। টানা চার দিনের ছুটি। এই লম্বা সময়কে কাজে লাগিয়ে কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়, এমন কোথাও ঢুঁ মারতে চাইছেন? রইল তেমন তিন ঠিকানার সন্ধান।

মেঘমাখা শুশুনিয়া

বাঁকুড়া জেলাটি এমনিতে রুক্ষ-শুষ্ক। তবে বর্ষার স্পর্শ পেলে তা হয়ে ওঠে সজীব। কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লে পৌঁছোতে সময় লাগবে বড়জোর সাড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা। কলকাতা থেকে ২২৩ কিলোমিটার দূরে শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে পৌঁছোলেই বদলে যাবে দৃশ্যপট। দুর্গাপুর থেকে বড়জোড়া হয়ে শুশুনিয়ার রাস্তা ধরলেই পথের সঙ্গী হবে সবুজ অরণ্য।

মেঘে ঢাকলে এমন অস্পষ্ট হয়ে যায় আস্ত পাহাড়।

মেঘে ঢাকলে এমন অস্পষ্ট হয়ে যায় আস্ত পাহাড়। —নিজস্ব চিত্র।

পাহাড়ের পাদদেশে মন্দির

শীতকালে শুশুনিয়ায় পাহাড়ে চড়ার প্রশিক্ষণ হয়। তবে বর্ষাকালের রূপ আলাদা। পাহাড়ের কোলেই রয়েছে দুর্গা এবং কালীর মন্দির। রয়েছে নরসিংহ মন্দিরও। মন্দিরের পিছন দিয়েই পাহাড়ে ওঠার রাস্তা শুরু হয়েছে। বর্ষায় অবশ্য পাহাড়ে ওঠা ঝুঁকির। পিছল রাস্তা, তা ছাড়া সাপেরও ভয় থাকে। পাহাড়ে চড়তে না চাইলে, শুশুনিয়া পাহাড়ের নীচেই ছোট দোকানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। পাথরের তৈরি থালা, মার্বেলের বাটি-সহ শৌখিন রকমারি ঘর সাজানোর জিনিস মিলবে সেখানে।

শিউলিবনা থেকে মেঘলা দিনে শুশুনিয়া।

শিউলিবনা থেকে মেঘলা দিনে শুশুনিয়া। —নিজস্ব চিত্র।

শিউলিবনার আঙিনায়

শুশুনিয়া পাহাড় দৃশ্যমান হয় আশপাশের গ্রাম, রাস্তা— সব জায়গা থেকেই। গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন শিউলিবনা। ছোট্ট গ্রাম, সবুজ হয়ে থাকে চারপাশ। ভিড়ভাট্টা নেই, একেবারে নিজের মতো করে দু’দিন প্রকৃতির আঙিনায় কাটাতে চাইলে শুশুনিয়ার এই গ্রামটি হতে পারে বর্ষার ঠিকানা। এ গ্রাম আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে অচেনা জগতে। মাচাভর্তি শাকসব্জি, মাটির নিকোনো উঠোনে ছাগলছানার দৌড়োদৌড়ি, দাওয়ায় বসে কাঠের জ্বালে মাটির হাঁড়িতে রান্না— এই সব ছবি এখানে এখনও জীবন্ত। প্রকৃতি এখানে নিষ্কলুষ, উপুড়হস্ত। বর্ষায় কখনও পাহাড় ঢেকে যায় ঘন ধোঁয়াটে মেঘে। আবার সেই চাদর সরলে ভেসে ওঠে শ্যামল রূপ।

বৃষ্টি না হলে, গাইড নিয়ে যেতে পারেন রাজা চন্দ্রবর্মণের শিলালিপি দেখতে। সে জন্য অবশ্য পাহাড়ে চড়তে হবে। যদি সে সব খাটনি না পোষায়, তা হলে চলুন ৪০ কিলোমিটার দূরে শালী নদীর উপর গাংদুয়া জলাধারেও। শিউলিবনার কাছেই রয়েছে ভরতপুর। পটচিত্রের জন্য এই স্থানের খ্যাতি।

কোথায় থাকবেন?

শুশুনিয়া পাহাড়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব আবাস রয়েছে। আছে নামী রিসর্ট। শিউলিবনায় কয়েকটি হোমস্টেও মিলবে।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব ২২৩ কিলোমিটার। দুর্গাপুর, বড়জোড়া হয়ে শুশুনিয়া পাহাড়। ট্রেনে গেলে ছাতনা স্টেশনে নামলে সুবিধা হবে। দুর্গাপুর বা রানিগঞ্জ স্টেশনে নেমেও বাকি রাস্তা গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

নীলগিরির হাতছানি

নীলগিরি বললে দক্ষিণ ভারতের কথাই মাথায় আসে। তবে পড়শি রাজ্য ওড়িশার বালেশ্বর জেলাতেও রয়েছে নীলগিরি। এটি একটি শহর। বালেশ্বর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে নীলগিরির স্বর্ণচূড়ায় রয়েছে সাদা রঙের জগন্নাথ মন্দির। নীলগিরির রাজা হরিচন্দন মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা মূল উপাস্য। এ ছাড়াও মন্দির চত্বরে রয়েছে বিমলা মাতা, গণেশ এবং শিবের মূর্তিও। প্রতি বছর ধুমধাম করে বিশাল রথযাত্রাও হয় নীলগিরির জগন্নাথ মন্দিরে। মন্দিরের অদূরেই রয়েছে নীলগিরি রাজবাড়ি। নীলগিরি পাহাড়, তারই অদূরে এই দুই স্থানই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।

পঞ্চলিঙ্গেশ্বর এবং চাঁদিপুর

বিশ্বেশ্বর শিবমন্দিরের পাহাড়ের মাথা থেকে এমনই সবুজ দেখায় আশপাশ।

বিশ্বেশ্বর শিবমন্দিরের পাহাড়ের মাথা থেকে এমনই সবুজ দেখায় আশপাশ। —নিজস্ব চিত্র।

তবে শুধু জগন্নাথ মন্দির দর্শন নয়, ঘুরে নিতে পারেন পঞ্চলিঙ্গেশ্বর এবং চাঁদিপুর। পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে রয়েছে পাহাড় এবং সবুজের সৌন্দর্য। পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে পাহাড়ের মাথায় জলস্রোতের নীচে রয়েছে পঞ্চলিঙ্গ। স্পর্শে তা টের পাওয়া যায়। গাছাগাছালি ঘেরা স্থানটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোরম। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় খুনখুট ড্যাম, বিশ্বেশ্বর মন্দির। পাহাড়ের নীচে মন্দির। পাহাড়ের উপরটি চ্যাটালো। পড়ন্ত বিকালে সেখানে বসে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে থাকার ব্যবস্থা আছে। চাইলে অবশ্য সফরসূচিতে জুড়ে নিতে পারেন চাঁদিপুরও। দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। সেখানেও থাকার সুবন্দোবস্ত রয়েছে। যদিও পুরী, দিঘার মতো ঢেউ আশা করলে চাঁদিপুরে গেলে হতাশই হতে হবে।

কোথায় থাকবেন?

পঞ্চলিঙ্গেশ্বর এবং চাঁদিপুরে ওড়িশা সরকারের অতিথিনিবাস রয়েছে। একাধিক হোটেল, হোমস্টেও পেয়ে যাবেন।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে পঞ্চলিঙ্গেশ্বরের দূরত্ব ২৭৫ কিলোমিটার। যেতে হবে বালেশ্বর হয়ে। পঞ্চলিঙ্গেশ্বর থেকে নীলগিরির জগন্নাথ মন্দিরের দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের মতো। কলকাতা থেকে চাঁদিপুর ২৫৯ কিলোমিটার। ট্রেনে বালেশ্বর পৌঁছে বাকিটা গাড়িতে যেতে পারেন।

সাতশো পাহাড়ের দেশ

চারদিকে জঙ্গল বেশ ঘন। তারই বুক চিরে পিচের রাস্তা। ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড সীমানায় ‘সারান্ডা’ পরিচিত ‘সাতশো পাহাড়ের দেশ’ নামে। এখানে রয়েছে প্রকৃতির আদিমতা, লাল মাটির গন্ধ। বর্ষায় মেঘ বেশি ঘন না হলে কিরিবুরুর ‘সানসেট পয়েন্ট’ থেকে গোধূলির এক অভূতপূর্ব রূপের সাক্ষী থাকা যায়। আকাশে লাল আবির ছড়িয়ে পাহাড়-অরণ্যের গহীনে ডুব দেয় সূর্য। ঝুপসি অন্ধকারে আকাশ জ্বলে ওঠে ঝিকিমিকি তারায়।

ঝিকরা-ঘাঘীরথী

ঝিকরা জলপ্রপাত। সারান্ডা।

ঝিকরা জলপ্রপাত। সারান্ডা। —নিজস্ব চিত্র।

মেঘাতুবুরু, কিরিবুরু, কারো নদী, ঝিকিরার ঝর্না, বোলানি খনি, থলকোবাদের ঘন অরণ্য, ভালু পাহাড়, জটেশ্বর শিব— এই সব কিছু নিয়েই সারান্ডা। বড়বিল শহর ছাড়িয়ে গেলেই শুরু জঙ্গল। তার মধ্যে দিয়ে রাস্তা। লৌহ আকরিক মেলে বলে মাটি লাল। ঝিকিরা এবং ঘাঘীরথী— সারান্ডার সাইট সিইংয়ে পড়বে দুই জলপ্রপাত। ভরা বর্ষায় তার রূপ অনন্য। বর্ষার মরসুমে থলকোবাদ অরণ্যে প্রবেশাধিকার না থাকলেও মেঘাতুবুরু, কিরিবুরু হতাশ করবে না মোটেই। এই পথেই সন্ধান মিলবে আদিবাসীদের গ্রামীণ হাটের। টাটকা সব্জি, পোশাক, চুড়ি, সাজের জিনিস—এমন সব পসরা নিয়ে হাজির দোকানিরা। বৃষ্টির ধারাপাত দেখতে চাইলে সারান্ডার জঙ্গল হতে পারে বর্ষার গন্তব্য।

কোথায় থাকবেন?

বড়বিলে বেসরকারি হোটেল রয়েছে। মেঘাতুবুরু, কিরিবুরুতেও সেল-এর অতিথিনিবাস আছে।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে বড়বিলের দূরত্ব ৩৭২ কিলোমিটার। যেতে হবে বালেশ্বর হয়ে। বড়বিল থেকে মেঘাতুবুরু, কিরিবুরু এবং অন্য দর্শনীয় স্থানগুলি ৪০-৫০ কিলোমিটারের মধ্যেই।

travel Rathayatra

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy