Advertisement
E-Paper

মুক্তোর মতোই জলের কণা, মোতি ঝর্না দেখতে যেতে হবে না বেশি দূর, কোথায় আছে সেই ঠিকানা

রাতে ট্রেনে চাপলে ভোরেই পৌঁছোবেন। ঘুরে আসুন পড়শি রাজ্যের এক স্বল্পচেনা ঠিকানা থেকে। বর্ষায় প্রকৃতি মোটেই হতাশ করবে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০২৬ ১২:০৯
ঝর্নার জলের কণা যেন মুক্তো। বর্ষা ফুরোনোর আগেই চলুন মোতি ঝর্না দেখতে।

ঝর্নার জলের কণা যেন মুক্তো। বর্ষা ফুরোনোর আগেই চলুন মোতি ঝর্না দেখতে। ছবি:সংগৃহীত।

সশব্দে নেমে আসছে জলপ্রপাত। কোথাও আবার কূল ছাপিয়ে বইছে নদী। বর্ষার শ্যামল প্রকৃতি, বাঁধ, ঝর্না দেখতেই উৎসুক হন পর্যটকেরা। ভিড় হয় চেনা পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে। ঝর্না, জলাধারের সৌন্দর্য দেখতে বর্ষার মরসুমে কেউ যাচ্ছেন ওড়িশার কেওনঝর, কেউ ছত্তীসগঢ়ের জগদলপুর কেউ আবার যাচ্ছেন রাঁচি।

তবে চেনা ঠিকানার বাইরের কোনও স্থানের খোঁজ চাইলে চলুন মোতি ঝর্না দেখতে। শুধু ঝর্নাই নয়, কলকাতা থেকে একরাতের ট্রেন যাত্রা করলে ভোর হতে না হতেই পৌঁছে যাবেন এমন স্থানে যেখানে আছে গঙ্গা, আছে পাহাড়, আছে ইতিহাসের ফিসফিসানি। হাতে ২-৩ দিনের ছুটি থাকলে ঘুরে নিন সাহিবগঞ্জ।

পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসছে মোতি ঝর্না।

পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসছে মোতি ঝর্না। ছবি:সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার সুন্দর শহর রাজমহল। স্টেশনের নাম অবশ্য সাহিবগঞ্জ। সেখানে নামলেই চোখে পড়ে প্রকৃতির রূপ। সাহিবগঞ্জে গঙ্গা এতটাই চওড়া যে একূল-ওকূল দেখা যায় না। এখানেই আছে মোতি ঝর্না, সিংহী দালান, মন্দির, জামা মসজিদ-সহ একাধিক দর্শনীয় স্থান।

সাহিবগঞ্জে গঙ্গাকে ছুঁয়ে রয়েছে রাজমহল পাহাড়। শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরেই গঙ্গার পারের শোভা দর্শনেই ঘণ্টাখানেক কেটে যেতে পারে। স্থানীয়দের কথায়, একসময় এই জায়গায় সাহেবদের আনাগোনা ছিল। সে কারণেই এমন নাম।

বর্ষণশিক্ত রাজমহল শহর।

বর্ষণশিক্ত রাজমহল শহর। ছবি: সংগৃহীত।

গঙ্গার পাড়ের ভিউ পয়েন্ট থেকে মোতি ঝর্না কম-বেশি ১৫ কিলোমিটার দূরে। বর্ষার জলের তোড় টের পাওয়া যায় দূর থেকে। পাহা়ড়ের উপর থেকে সশব্দে নেমে আসছে জল। তার প্রতিটি কণা মুক্তোর মতো। কেউ কেউ বলেন, তা থেকেই নাম মোতি ঝর্না। সেখানে গুহার ভিতরে রয়েছে মোতিনাথ শিবের মন্দির।

ঝর্না থেকে মোটামুটি ১৭-২০ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে কানহাইয়া স্থান, সাদা রঙের শ্রীকৃষ্ণ মন্দির। সবুজে ঘেরা মন্দির চত্বর। মন্দিরের গা দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর।

সিংহীদালান।

সিংহীদালান। ছবি:সংগৃহীত।

সাহিবগঞ্জের সিংহীদালানটিও ভারি সুন্দর। শহর থেকে মোটমুটি ৪০ কিলোমিটার দূরে তার অবস্থান। জানা যায়, ১৭ শতকের মধ্যভাগে এটি তৈরি। খিলান দেওয়া বিস্তৃত হল। এখান থেকেই গঙ্গার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

সিংহী দালান থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে রয়েছে জামা মসজিদ। প্রশস্ত উন্মুক্ত চত্বর, চারদিক পরিচ্ছন্ন। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ রয়েছে পুরনো মসজিদটি দেখভালের দায়িত্বে। কেউ কেউ একে ‘জামি মসজিদ’ও বলেন। মোগল স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি হয়েছিল সুবিশাল মসজিদটি।

সাহিবগঞ্জের জামা মসজিদ।

সাহিবগঞ্জের জামা মসজিদ।

এ ছাড়াও ফসিল পার্ক, বারোদুয়ারি, শিবগড়ি ধাম-সহ বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে নেওয়া যায়। হাতে দিন তিনেক সময় থাকলেই মোটামুটি ঘুরে নেওয়া যায় সাহিবগঞ্জ।

কোথায় থাকবেন

সাহিবগঞ্জ থেকে রাজমহলের দূরত্ব ৩০-৪০কিলোমিটার। সেখানে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল, লজ আছে।

কী ভাবে যাবেন

ট্রেন, গাড়ি দুই ভাবেই যাওয়া যায়। প্রতিদিন রাত সাড়ে ন’টায় হাওড়া-জামালপুর এক্সপ্রেস ছাড়ে। সাহিবগঞ্জ পৌঁছোয় পরের দিন ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ। হাওড়া-গয়া এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ৮ টায় হাওড়া থেকে ছেড়ে পরের দিন রাত আড়াইটে নাগাদ সাহিবগঞ্জ পৌঁছোয়।

কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব মোটামুটি ৩৮৩ কিলোমিটার। কৃষ্ণনগর, ফরাক্কা, পাকুড় হয়ে পৌঁছোনো যায়। আবার বোলপুর থেকে সিউড়ি হয়ে দুমকা দিয়েও ঝাড়খণ্ডে প্রবেশ করা যায়।

Monsoon Travel Destination Offbeat travel destinations Jharkhand

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy