হলিউড, বলিউড, টলিউড পরিচিত। কিন্তু ডলিউড! এমন নাম শুনেছেন কখনও? ডলিউড রয়েছে আমেরিকায়। টেনেসি রাজ্যের পিজ়ন ফোর্জে, গ্রেট স্মোকি মাউন্টেন-এর কাছে অবস্থিত এই থিম পার্ক।
সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন ‘কান্ট্রি’ ঘরানার সঙ্গীতশিল্পী ডলি পার্টন। ৮০ বছর বয়সে ন্যাশভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সুর থামলেও, গায়িকার স্মৃতি জীবন্ত ‘ডলিউড’-এ।
ডলিউড-এর অভ্যন্তরে। ছবি:সংগৃহীত।
জানা যায়, বিনোদন এবং থিম পার্কটি যৌথ ভাবে পরিচালনা করে ‘হারশেন্ড’ এবং ডলি পার্টনের বিনোদন সংস্থা ‘ডলি পার্টন প্রডাকশনস’। তবে শুরু থেকেই তা ‘ডলিউড’ নামে পরিচিত ছিল না। ১৯৬১ সালে পার্কটি প্রথম চালু হয় ‘রেবেল রেলরোড’ নামে। এখানে মূলত একটি বাষ্পচালিত ট্রেন এবং ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ (আমেরিকার সীমান্ত সংস্কৃতি) থিমের সজ্জা ছিল।
সত্তরের দশকে এটি বিক্রি হয়ে যায় এবং এর নাম হয় ‘গোল্ডরাশ জংশন’। বার কয়েক হাতবদলের পরে ১৯৮৬ সালে সঙ্গীতশিল্পী ডলি পার্টন পার্কের যৌথ মালিক হিসাবে যুক্ত হন এবং তাঁর নামানুসারে পথ চলা শুরু হয় ‘ডলিউড’-এর। সেই শুরু, বিনোদন পার্কটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছোয়।
ডলিউডের ভিতরে। ছবি:সংগৃহীত।
বিশাল বড় থিম পার্কে যেমন বিনোদনের সমস্ত রসদ মজুত, তেমনই রয়েছে গায়িকার স্মৃতিবিজড়িত স্থানও।
ডলি পার্টন টেনেসি পাহাড়ের দরিদ্র পরিবারে জন্মেছিলেন। তাঁর শৈশব কেটেছে যে দু’কামরার কাঠের বাড়িতে, তার একটি হুবহু প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে এই পার্কে ।
ডলি পার্টনের ‘টেনিসি মাউন্টেন হোম’ -এর আদলে তৈরি ঘর। ছবি:সংগৃহীত।
পার্কে তাঁর বিখ্যাত গান ‘কোট অফ মেনি কালার্স’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জাদুঘর ও প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে। তাঁর জেতা একাধিক গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, পোশাক, স্মারক সাজানো রয়েছে। সারাবছরই সরাসরি কান্ট্রি মিউজ়িকের লাইভ শো আয়োজন করা হয় এখানে।
ডলিউডের সংগ্রহশালা। ছবি:সংগৃহীত।
বিনোদন পার্কে যেমন ওয়াটার পার্ক, সঙ্গীতানুষ্ঠানের স্থান, রিসর্ট রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা রকম জয়রাইড। উপভোগ করা যায় ‘লাইটনিং রড’, ‘টেনেসি টর্নেডো’ কিংবা ‘স্মোকি মাউন্টেন রিভার র্যাম্পেজ’-এর মতো থ্রিলিং রোলার কোস্টার।
‘ডলিউড এক্সপ্রেস’-এ ঘোরা যায় ডলিউড।
বাষ্পইঞ্জিনের ট্রেন ‘ডলিউড এক্সপ্রেস’-এ চেপে পুরো পার্ক ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে দর্শকদের জন্য। ডলি পার্টনের শৈশবের ঘর ‘টেনিসি মাউন্টেন হোম’ এবং তাঁর জীবননির্ভর প্রদর্শনী ছাড়াও ‘ক্রাফটসম্যান ভ্যালি’-তে বসে কারিগরদের কাচ ও মোমবাতি তৈরির কাজ দেখার অভিজ্ঞতাও এখানে অর্জন করা যায়।
‘গ্রিস্ট মিল’-এর সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি চেখে দেখা যায় এখানকার ‘সিনেমন ব্রেড।’ পার্কের ভিতরে বিভিন্ন থিয়েটারে বিশ্বমানের লাইভ মিউজ়িক ও শো উপভোগ করার সুযোগও মেলে।