স্বাধীনতা দিবসে তিলোত্তমা সেজে ওঠে অন্য রূপে। এমন দিনে ঘরে বসে আড্ডা দিয়ে বা টিভি দেখে না কাটিয়ে ছোটদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন শহর পরিক্রমায়। গল্প আর আড্ডার ছলে খুদেরা চিনে নিক শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিকে। জেনে নিক সেখানকার ইতিহাসও।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল
‘কলকাতার তাজমহল’ নামেও স্মৃতিসৌধটিকে ডাকেন অনেকে। ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যশৈলীর এক আশ্চর্য নিদর্শন এই সৌধ। এটি আসলে একটি সংগ্রহশালা যেখানে উনিশ শতকের কলকাতার ইতিহাস ও জীবনযাত্রার নানা নিদর্শন রয়েছে। ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন অংশ হল এই স্থাপত্যের ঠিক মধ্যভাগের একটি ডোম বা গম্বুজ। এই ডোমটির ঠিক নীচের ঘরটিকেই বলা হয় ‘কুইন’স হল’। ২৫টি গ্যালারিতে রয়েছে বিরল চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, অস্ত্রশস্ত্র ও ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি। সন্ধ্যার সময় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখা যেতে পারে।
সায়েন্স সিটি
সায়েন্স সিটি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে ছোটদের জানাতে হলে সায়েন্স সিটিতে নিয়ে যেতে পারেন। এখানে স্পেস থিয়েটার, ডায়নামোশন হল, টাইম মেশিন এবং ত্রিমাত্রিক সিনেমা দেখে ছোটরা খুব আনন্দ পাবে। প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য ডাইনোসর এনক্লেভও রয়েছে। দৃষ্টিভ্রম, শব্দের জাদু ও খেলার ছলে বিজ্ঞানকে নানা ভাবে ব্যবহার করার কৌশলও শেখানো হয়। মহাকাশ নিয়ে ছোটদের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে নানা রকম প্রদর্শনীও হয় এখানে। বিভিন্ন রকেটের মডেল দেখানো হয়।
বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম
বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম
তারামণ্ডলের আকাশ ও থ্রি-ডি শো এখানকার মূল আকর্ষণ। ছোটদের নিয়ে গেলে তাদের মনে মহাকাশ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে। প্ল্যানেটোরিয়ামের মূল গম্বুজ বা ডোম-এর নীচে বসে যখন আলো নিভিয়ে দেওয়া হবে, তখন সত্যিই মনে হবে তারায় ভরা আকাশ দেখা যাচ্ছে। উচ্চপ্রযুক্তির প্রজেক্টরের সাহায্যে সৌরজগৎ, গ্রহ-নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু, ছায়াপথ, কৃষ্ণগহ্বরকে সহজ করে বুঝতে পারবে ছোটরা।
ভারতীয় জাদুঘর
ভারতীয় জাদুঘর
কলকাতা তথা সমগ্র দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম জাদুঘর ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম। ছোটদের জন্য ইতিহাসের জীবন্ত পাঠশালাই বলা চলে। জাদুঘরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো মিশরীয় মমি। বইয়ের পাতায় বা কার্টুনে দেখা মমির ইতিহাস চোখের সামনে দেখে ছোটদের কৌতূহল অনেক বেড়ে যাবে। প্রাগৈতিহাসিক বিলুপ্ত প্রাণীদের বিশাল কঙ্কাল থেকে প্রাচীন সময়ে রাজাদের ব্যবহার করা অস্ত্রশস্ত্র, পুরনো দিনের মুদ্রা— সব কিছু নিয়েই ধারণা তৈরি হবে ছোটদের। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে।
বেলুড় মঠ
বেলুড় মঠ
স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের সঙ্গে পরিচয় করাতে বেলুড় মঠে নিয়ে যেতে পারেন ছোটদের। মঠ প্রাঙ্গণেই রয়েছে একটি দ্বিতল সুসজ্জিত মিউজিয়াম যেখানে রামকৃষ্ণদেব, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের ব্যবহার করা জিনিসপত্র ও পোশাক সংরক্ষিত রয়েছে।
নেহরু চিলড্রেন্স মিউজ়িয়াম
নেহরু চিলড্রেন্স মিউজ়িয়াম
ছোটদের বেড়ানোর আদর্শ জায়গা। এখানের সুবিশাল পুতুলের জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখতে পারেন ছোটদের। পৃথিবীর প্রায় ৯২টি দেশের বিচিত্র সব পুতুলের সম্ভার রয়েছে এখানে। রামায়ণ ও মহাভারতের গল্পকে ছোটদের কাছে সহজ করতে বিভিন্ন পুতুলের মাধ্যমে তা দেখানো হয়েছে এখানে।
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি
ছোটরা পাঠ্যবইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ও গল্প পড়ে। কবিগুরু যে ঘরে জন্মেছিলেন ও জীবনের শেষ দিনগুলি কাটিয়েছিলেন, তা এখানে এসে নিজের চোখে দেখতে পাবে ছোটরা। রবীন্দ্র গ্যালারিতে রয়েছে কবিগুরুর ব্যবহৃত নানা জিনিস—তাঁর কলম, লেখার ডেক্স, চশমা, পোশাক, থালা-বাসন এবং বিশেষ ভাবে নক্সা করা পালকি। কবির জীবনের নানা পর্যায়ের দুষ্প্রাপ্য সব ছবি ও চিত্রকর্মের বিশাল ভান্ডার রয়েছে এখানে, যা দেখে খুদেরা বেশ উৎসাহিতই হবে। জাপান, চিন, হাঙ্গেরি, আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে সফরের সময়ে কবিগুরুকে দেওয়া বিভিন্ন উপহার, স্মৃতিচিহ্ন ও ছবি নিয়ে আলাদা আলাদা গ্যালারি রয়েছে যা ঘুরিয়ে দেখাতে পারেন ছোটদের।
মার্বেল প্যালেস
মার্বেল প্যালেস
১৮৩৫ সালে রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক এই প্রাসাদটি তৈরি করেন। জোড়াসাঁকোর কাছে মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে রয়েছে এই রাজকীয় প্রাসাদ। দেওয়ালে হাডসনের দেড়শো বছর আগের তৈলচিত্র মুগ্ধ করবে। শিল্পরসিক রাজেন মল্লিকের আর্ট গ্যালারিও আছে এখানে। মার্বেল প্যালেসের সেরা আকর্ষণ হল এখানকার চিড়িয়াখানা ও পক্ষীশালা। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও হরিণের দেখা মিলবে সেখানে। প্রাসাদোপম এই বাড়ির নীচের তলায় রয়েছে সংগ্রহশালা। বিশাল বিশাল ফুলদানি থেকে ঝাড়লণ্ঠন, মূর্তি সংরক্ষিত রয়েছে। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত খোলা থাকে।