বছরভর যে পোশাকই পরা হোক না কেন, বাঙালির দুর্গাপুজো শাড়ি ছাড়া অসম্পূর্ণ। শাড়ি নিয়ে যাঁদের চর্চা, প্রেম, তাঁদের সংগ্রহে কাঞ্জিভরম থাকবে না, তা-ও কি হয়? শাড়ির কথা বললেই ছবি ভেসে ওঠে সিল্কের মিহি বুননের, ঢালা পাড়ের সোনালি কাজ করা উজ্জ্বল বস্ত্রখণ্ডের।
কাঞ্জিভরমের আঁতুড়ঘর হল তামিলনাড়ুর বহু পুরনো জনপদ কাঞ্চীপুরম। কয়েক শতক ধরে সেখানেই তৈরি হয় উৎকৃষ্ট মানের সিল্কের শাড়ি। সেই কারণে কাঞ্জিভরম শাড়িকে অনেকে ‘কাঞ্চীপুরম শাড়ি’-ও বলেন।
কাঞ্চীপুরমের একটি দর্শনীয় স্থান নদবাবি কিণরু। ছবি:সংগৃহীত।
পুজোয় কাঞ্জিভরম কিনুন বা না-কিনুন, চেনা ছকের বাইরে বেড়ানোর শখ থাকলে ঘুরে আসতে পারেন তামিলনাড়ুর পুরনো জনপদটি থেকে। চাইলে সেখানে গিয়েই কিনতে পারেন কাঞ্জিভরম।
দ্রাবিড় স্থাপত্যের সুবিশাল মন্দির এবং বিশ্ববিখ্যাত রেশম শাড়ির জন্যই কাঞ্চীপুরমের সমাদর। এখানে গেলে ঘুরে নিতে পারেন—
একাম্বরেশ্বর মন্দির
একাম্বরেশ্বর শিব মন্দির। ছবি:সংগৃহীত।
মাটির (পৃথ্বী) প্রতীক হিসেবে পূজিত এই শিবমন্দির। সুবিশাল প্রবেশদ্বার, হাজার স্তম্ভের মণ্ডপ এবং প্রাঙ্গণে থাকা প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের প্রাচীন আমগাছ এখানকার প্রধান আকর্ষণ। শিবলিঙ্গটি এখানে বালি দিয়ে তৈরি। মন্দিরের ইতিহাস ১২০০ বছরেরও বেশি পুরনো। ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় রয়েছে এই মন্দির।
কৈলাসনাথ মন্দির: অষ্টম শতকে পল্লব রাজাদের দ্বারা নির্মিত কাঞ্চীপুরমের প্রাচীনতম একটি মন্দির। সম্পূর্ণ বেলেপাথরে খোদাই করা অনন্য দেব-দেবী ও পৌরাণিক ভাস্কর্য শিল্পপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
কামাক্ষী অম্মান মন্দির: শক্তি আরাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পীঠস্থান। গর্ভগৃহে দেবী পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত এবং তাঁর সামনে আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত পবিত্র শ্রীচক্র রয়েছে।
বরদরাজ পেরুমল মন্দির: ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশে নিবেদিত এই মন্দিরে চোল এবং বিজয়নগর স্থাপত্যের অপূর্ব মেলবন্ধন চোখে পড়বে। পাথরের কারুকাজ এবং বিশাল অঙ্গন দেখার মতো।
মন্দিরের সময়সূচি: অধিকাংশ মন্দির দুপুর সাড়ে বারোটা বা একটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বন্ধ থাকে। তাই সকালের দিক ও বিকেল চারটের পর মন্দির দর্শনের জন্য উপযুক্ত।
কেনাকাটার ঠিকানা
কাঞ্জিভরম সিল্ক শাড়ি। ছবি:সংগৃহীত।
কাঞ্চীপুরমে একাধিক মন্দির থাকায় এখানে আসেন ভক্তরা নয়তো শাড়িপ্রেমীরা। খাঁটি রেশমের শাড়ি কিনতে চাইলে সমবায় সমিতিগুলিতে যাওয়াই ভাল। এ ছাড়াও খুব পুরনো কয়েকটি বড় দোকান রয়েছে বাজার এলাকায়, যা ভরসাযোগ্য। শাড়ি কেনার সময় সরকারি সিল্ক মার্ক দেখে নেওয়া জরুরি।
তাঁতি বাড়ি: পিল্লাইয়ারপালায়াম এলাকায় তাঁতিদের বাড়ি ঘুরে শাড়ি কী ভাবে বোনা হচ্ছে, তা দেখতে পারেন। সরাসরি শাড়ি কেনাও যায়।
দেখে নিন কী ভাবে বোনা হয় কাঞ্জিভরম শাড়ি? ছবি:সংগৃহীত।
খাবার: কলাপাতায় পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ ভারতীয় নিরামিষ থালি এবং স্থানীয় কাঞ্চীপুরম ইডলি অবশ্যই চেখে দেখুন।
কী ভাবে যাবেন
চেন্নাই থেকে এক দিনে ঘুরে নিতে পারেন মহাবলীপুরম, কাঞ্চীপুরম এবং শ্রীপেরেমবুদুর। চেন্নাই থেকে মহাবলীপুরমের দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরের তীরে মহাবলীপুরম পল্লব রাজ্যের বন্দরশহর ছিল। এখানেও একাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এখান থেকে কাঞ্চীপুরমের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। কাঞ্চীপুরম ঘুরে চেন্নাইয়ের পথে ঘুরে নিতে পারেন শ্রীপেরেমবুদুর। এখানেই শ্রীলঙ্কার তামিল জঙ্গিরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে হত্যা করেছিল। এখানে একটি স্মারক আছে।
চেন্নাইয়ে রয়েছে বিমানবন্দর। ট্রেনেও চেন্নাই পৌঁছোতে পারেন। চেন্নাই সেন্ট্রাল বা তাম্বরম থেকে কাঞ্চীপুরম যাওয়ার সরাসরি ট্রেন এবং সরকারি বাস রয়েছে।