পুজোর আগে নতুন ‘টয় ট্রেন রুট’ পেল দার্জিলিং।
দার্জিলিং স্টেশন থেকে বাতাসিয়া লুপ হয়ে ঘুম এবং সেখান থেকে আবার দার্জিলিঙে ফেরার চেনা পথের বাইরে এ বার এক নতুন পথে ছুটবে টয় ট্রেন। ছুঁয়ে যাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য স্থান। দিনে দু’বার।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) তরফে ওই নতুন রুট ঘোষণা করা হয়েছে বুধবার। জানানো হয়েছে, টয় ট্রেনে ওই নতুন ‘জয় রাইড’ বা প্রমোদভ্রমণের নামও দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর কবিতার নামে— ‘মুক্তধারা’।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘মুক্তধারা’ কবিতায় লিখেছিলেন কার্শিয়ঙের কাছে এক জলপ্রপাত ‘পাগলাঝোরা’র কথা। নতুন রুটে টয় ট্রেন সেই পাগলাঝোরার পাশ দিয়েই যাবে কার্শিয়ং থেকে মহানদী পর্যন্ত।
এ বছর পুজো শুরু অক্টোবরের মাঝামাঝি। টয় ট্রেনের ওই নতুন রুটে পর্যটকদের জন্য ‘জয় রাইড’ বা প্রমোদভ্রমণও শুরু হবে ১ অক্টোবর থেকে। কার্শিয়ং থেকে মহানদী হয়ে কার্শিয়ঙে ফেরার ওই জয়রাইডে দু’বার যাবে টয় ট্রেন। এক বার ডিজেল ইঞ্জিন চালিত হয়ে আর এক বার কয়লার ইঞ্জিনে।
ডিজেল ইঞ্জিন চালিত টয় ট্রেনে প্রমোদ সফরটিরই নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তধারা’। একই পথে কয়লা ইঞ্জিন চালিত সফরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘রেড পান্ডা’। দু’টি সফরের টিকিটের দামও হবে ভিন্ন। কয়লার ইঞ্জিন চালিত ট্রেনে সফর করতে হলে খরচ করতে হবে ১৫৩০ টাকা। আর যদি ডিজেল ইঞ্জিন চালিত ট্রেনে সফর করেন অর্থাৎ ‘মু্ক্তধারা’কে বেছে নেন তবে খরচ হবে ১০৩০ টাকা।
এর পাশাপাশি দার্জিলিং থেকে বাতাসিয়া লুপ হয়ে ঘুম ঘুরে আসার রুটটি যেমন চলছিল, তেমনই চলবে বলে জানিয়েছেন ডিএইচআর-এর প্রতিনিধি প্রতীক্ষা ছেত্রী। পুরনো রুটে ডিজেল ইঞ্জিন চালিত টয় ট্রেনে ভ্রমণের খরচ হবে ৮০০ টাকা।
দেশের সর্বোচ্চ স্টেশন এবং সবচেয়ে পুরনো টয়ট্রেনের রুট দার্জিলিঙেই। ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই প্রথম শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয় ট্রেন রুট চালু হয়। সেই পথে এখনও চলে দূরপাল্লার টয়ট্রেন। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছেড়ে শিলিগুড়ি জংশন, সুকনা, কার্শিয়ং এবং ঘুম স্টেশন হয়ে সেই ট্রেন দার্জিলিং পৌঁছোয় সাড়ে ৭ ঘণ্টায়। এর পাশাপাশি টয় ট্রেনে জঙ্গল সাফারিও হয় শিলিগুড়ি থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত। ৩ ঘণ্টার রাউন্ড ট্রিপে আবার শিলিগুড়ি ফিরে আসে সেই টয় ট্রেন।