গঙ্গার নীচে মেট্রো রেল ছোটে কলকাতায়। আর এ বার এ দেশেরই আর এক শহর প্রস্তুত হচ্ছে সমুদ্রের অতল দিয়ে রেলসফরের জন্য। আর সেই কাজ এগোচ্ছে বেশ দ্রুতগতিতেই। পাতালে ২১ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলছে জোর কদমে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরেই ওই রেল পথে ট্রেনচলাচল শুরু হওয়ার কথা।
সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অবশ্য মেট্রো রেল নয়, হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের। সেই ট্রেন ছুটবে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার বেগে। সমতল থেকে পাতালে প্রবেশ করার পরে সমুদ্রের তলা দিয়ে যাবে টানা ৭ কিলোমিটার। একই বেগে।
ট্রেনের মোট যাত্রাপথ অবশ্য ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। মুম্বই থেকে অহমদাবাদ পর্যন্ত যাবে ওই ট্রেন। আর ওই দীর্ঘ যাত্রাপথের ২১ কিলোমিটার মাটির নীচের সুড়ঙ্গ বেয়ে যাবে বুলেট ট্রেন। যে পথে পড়বে আরবসাগড়ে থানে খাঁড়ি। যে খাঁড়ি মুম্বইকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্স থেকে শুরু থানের শিলফাটা এলাকা পর্যন্ত যেতে সেই খাড়ির নীচ দিয়েই যাবে সুড়ঙ্গ। অর্থাৎ ট্রেনের উপরে বইবে আরব সাগরের জল।
অস্ট্রিয়ান প্রযুক্তির সুড়ঙ্গ খোঁড়ার যন্ত্রের সাহায্যে কাজ এগিয়েছে অনেকটাই। ১৬ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ হয়েও গিয়েছে ইতিমধ্যে। তবে বড় বড় পাহাড়ের মতো পাথর কাটতে সময় কিছুটা বেশি লাগছে বলে জানানো হয়েছে রেলের তরফে। তবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে, তাতে আগামী বছরেই সমুদ্র তল দিয়ে বুলেট ট্রেন ছোটার কাজ শুরু করে দেওয়া যাবে।
সমুদ্রস্তরের নীচে ওই সুড়ঙ্গ কোথাও ২৫ মিটার গভীরে, কোথাও ৫৫ মিটার নীচ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সেই সুড়ঙ্গে বুলেট ট্রেনের যাওয়া আসার জন্য পাশাপাশি দু’টি লাইন পাতবে ন্যাশনাল হাইস্পিড রেল কর্পোরেশন। একটি মুম্বই থেকে অহমদাবাদ যাওয়ার জন্য, অন্যটি অহমদাবাদ থেকে মুম্বই ফেরার জন্য।
৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই যাত্রাপথে মোট ১২টি স্টেশনে দাঁড়াবে ওই বুলেট ট্রেন। যার মধ্যে রয়েছে মুম্বই বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্স, থানে, ভিরার, বৈসার, ভাপি, বিলিমোরা, সুরত, ভারুচ, ভদোদরা, আনন্দ, অহমদাবাদ এবং সবরমতি।