বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাসভবন বলা হয়। ব্রিটেনের রাজপরিবারের সরকারি বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসের চেয়েও আয়তনে প্রায় চার গুণ বড়। গুজরাতের বডোদরার লক্ষ্মী বিলাস প্যালেসকে ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি। বর্তমান রাজা-রানিকে নিয়ে কৌতূহলও অনেক। তিন কোটি বর্গফুটেরও বেশি এলাকা জুড়ে তৈরি হওয়া এই প্রাসাদে ১৭০টির বেশি ঘর রয়েছে। সুবিশাল অস্ত্রাগার, গল্ফ কোর্স কী নেই! লক্ষ্মী বিলাস প্যালেসে পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে রাজপরিবারের তরফে। সম্প্রতি এক নেটপ্রভাবীর করা ভিডিয়ো ট্যুরের পরে ফের খবরে এসেছে এই বাসভবন। জানা গিয়েছে, সেখানে এখন অডিয়ো ও ভিডিয়ো ট্যুরের বন্দোবস্তও করা হয়েছে।
দরবার হলের শিল্পকলায় ইতালির স্থাপত্যশিল্পের ছোঁয়া রয়েছে।
বর্তমানে লক্ষ্মী বিলাস প্যালেসের মালিক রাজা সমরজিৎ সিংহ গায়কোয়াড় এবং তাঁর স্ত্রী রাধিকারাজে গায়কোয়াড়। ১৮৯০ সালে বাসভবনটি তৈরি করেছিলেন মহারাজ তৃতীয় সয়াজীরাও গায়কোয়াড়। রানি রাধিকারাজে ও তাঁর দুই কন্যা পদ্মজারাজে ও নারায়নীরাজে এই রাজপ্রাসাদের বিলাসবহুল অন্দরমহলের সাজসজ্জা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন।
৫০০ একর জায়গা জুড়ে সুবিশাল রাজপ্রসাদটি ঘুরে দেখতে পারেন পর্যটকেরা
পর্যটকদের কী কী দেখানো হবে রাজপ্রাসাদে?
দরবার হল
এটি প্রাসাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। পুরাণ ও মহাকাব্যের নানা ছবি এখানে রয়েছে। দরবার হলের মেঝেটি অত্যন্ত সুন্দর ও চকচকে মোজাইক পাথরের তৈরি, যা ভেনিস থেকে আনা হয়েছিল। হলটির শিল্পকর্মে ইটালির শিল্পকলার নিদর্শন রয়েছে। বেলজিয়াম কাচের জানলা ও ছাদ থেকে ঝোলানো বিশাল ঝাড়বাতি মুগ্ধ করবে।
রাজা রবি বর্মার চিত্রকর্ম
প্রাসাদের সিংহদুয়ার ও প্রবেশপথে চিত্রশিল্পী রাজা রবি বর্মার আঁকা দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রখ্যাত তৈলচিত্র রয়েছে। তা ছাড়াও রাজা রবি বর্মার করা বেশ কিছু বিখ্যাত ও দুষ্প্রাপ্য তৈলচিত্রের দেখা মিলবে এখানে।
লক্ষ্মী বিলাস প্রাসাদের বর্তমান রাজা-রানি সমরজিৎ সিংহ গায়কোয়াড় এবং রাধিকারাজে গায়কোয়াড়।
অস্ত্রাগার
শতাব্দীপ্রাচীন বর্ম, তলোয়ার এবং রাজকীয় সামরিক সরঞ্জাম এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
বাগান
প্রাসাদে তিনটি বিশালাকার উঠোন রয়েছে, যার বাগানে মার্বেলের মূর্তি, ফোয়ারা এবং বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে।
রানি রাধিকারাজে।
গল্ফ কোর্স
প্রাসাদের ৫০০ একর চত্বরের ভিতরে ব্যক্তিগত গল্ফ কোর্স রয়েছে। মাঠটি ঘিরে সবুজের সমারোহ। সেখানে বহু পুরনো গাছ, ময়ূর ও হরেক রকম পাখি দেখা যাবে।
অডিয়ো ট্যুর
প্যালেসে প্রবেশ করলেই টিকিট কাউন্টার থেকে প্রতিটি পর্যটককে একটি করে অডিয়ো ডিভাইস ও হেডফোন দেওয়া হয়। হিন্দি, ইংরেজি এবং মরাঠি ভাষায় এই অডিও গাইড পাওয়া যায়। প্রাসাদ ভ্রমণের সময়ে হেডফোন কানে লাগিয়ে পর্যটকেরা জানতে পারবেন সেখানকার ইতিহাস, স্থাপত্য এবং চিত্রকর্মের নানা অজানা গল্প।
প্রাসাদের অন্দরমহলের নানা ছবি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন রানি রাধিকারাজে।
মহারাজা ফতেহ সিংহ মিউজ়িয়াম
প্যালেস চত্বরেই এই জাদুঘরটি আগে ছিল রাজপরিবারের সদস্যদের স্কুল। এখন মিউজ়িয়াম হিসাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের এক আর্ট গ্যালারিও রয়েছে। শোনা যায়, রাজারা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছোট টয় ট্রেন চালু করেছিলেন। সেটিও মিউজ়িয়ামে দেখা যাবে।
বিশ্বের নানা দামি গাড়ির সম্ভার রয়েছে রানির।
টিকিটের দাম কত?
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই রাজপ্রসাদ। প্রতি সোমবার এবং সরকারি ছুটির দিনে রাজপ্রাসাদ পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে।
ভারতীয়দের জন্য রাজপ্রাসাদে ঢোকার টিকিটের দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। মিউজিয়াম দেখতে হলে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ১০০ টাকা লাগতে পারে। ৫ থেকে ১২ বছর অবধি শিশুদের জন্য প্রবেশমূল্য ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মতো।
বিশাল গল্ফ কোর্স রয়েছে প্রাসাদে।
বিদেশিদের জন্য প্রাসাদে প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো। মিউজিয়াম ঘুরে দেখতে হলে মাথাপিছু ১৫০ থেকে ২০০ টাকার টিকিট কাটতে হবে।