বেড়াতে কিংবা ব্যবসায়িক কাজে, কলকাতা-সহ ভারতের নানা প্রান্ত থেকে বিদেশে যাওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়ে উঠল। বিশ্বের একাধিক দেশে সরাসরি পৌঁছোনোর জন্য এই দেশের একাধিক বিমান পরিবহণ সংস্থা পর পর বিমান পরিষেবা চালু করেছে। ফলে ভারত মহাসাগরের মনোরম দ্বীপ, ইউরোপের বড় বড় শহর থেকে শুরু করে পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার বাণিজ্যিক শহরগুলিতে এ বার এক উড়ানেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
কলকাতা থেকে সাংহাই
কলকাতা থেকে সাংহাইয়ের মধ্যে বিমান পরিষেবা চালু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। ফলে ভারত থেকে চিন সফর এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। প্রতি বছরই ব্যবসায়িক কাজে, পড়াশোনার জন্য ভারত থেকে অনেকেই সেখানে যান। সরাসরি উড়ানে চিনে যেতে যেমন সময় কম লাগবে, তেমনই ঝক্কিও কমবে অনেকটা। সাংহাই হয়ে চিনের নানা প্রান্তে যাঁরা বেড়াতে যেতে চান, তাঁদেরও সুবিধা হবে নতুন বিমান পরিষেবায়। এত দিন সাংহাই যেতে হলে অন্য দেশ হয়ে পৌঁছোতে হত। ফলে, সময় বেশি লাগত। অনেক ক্ষেত্রে খরচও বেশি হত। সেই সব সমস্যার সমাধান হবে সরাসরি উড়ান চালু হওয়ায়।
দিল্লি-মুম্বই থেকে এথেন্স
গ্রিসের রাজধানী এথেন্স জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ভারত থেকে বহু পর্যটকই এথেন্স তথা গ্রিসে যান। এথেন্স থেকে আর একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সান্তোরিনিও সহজে পৌঁছোনো যায়। ভারত থেকে এথেন্স যাওয়া সহজ হয়েছে ইন্ডিগোর নতুন বিমান পরিষেবায়। দিল্লি এবং মুম্বই থেকে খুব সহজেই এখন সেখানে পৌঁছোনো যাবে। সপ্তাহে তিন দিন বিমান ছাড়ছে সেখানে যাওয়ার। নতুন যাত্রাপথে ভারতীয়দের এথেন্স যেতে সময় অনেক কম লাগছে।
চেন্নাই থেকে রিইউনিয়ন আইল্যান্ড
রিইউনিয়ন হল ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অঞ্চল। এখানে রয়েছে আগ্নেয়গিরি। মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, ট্রেকিং বা হাইকিং করার পথের জন্য স্থানটি জনপ্রিয়। ইন্ডিগোর সরাসরি বিমান পরিষেবার জন্য ভারতীয় পর্যটকদের পক্ষে সেখানে ভ্রমণ করা এখন অনেক সহজ হল। কারণ, আগে এই দ্বীপে সরাসরি যাওয়ার উপায় খুব একটা ছিল না। ভারতীয়দের মরিশাস বা অন্য কোনও দেশের বিমানবন্দরে ট্রানজ়িট ভিসা নিয়ে (অর্থাৎ বিমান পরিবর্তন করে) পৌঁছোতে হত। এর ফলে ফ্রান্সের সঙ্গে পর্যটন এবং অর্থনৈতিক আদান-প্রদানের পথ সুগম হবে।
গুয়াহাটি থেকে দুবাই
উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে এই প্রথম উপসাগরীয় অঞ্চলে সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু হতে চলেছে। ৪ অগস্ট থেকে গুয়াহাটি-দুবাই সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করবে এয়ার ইন্ডিয়া। ৭ আগস্ট গুয়াহাটি থেকে আবু ধাবির উড়ান চালু হবে। আগে উত্তর-পূর্বের মানুষকে দুবাই বা আবু ধাবি যেতে হলে মুম্বই, দিল্লি বা কলকাতা হয়ে যেতে হত। সরাসরি উড়ান চালু হলে যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি দুই কমবে।