পাহাড়ের বাঁকে ছবির মতো সুন্দর ‘মুসাফির ক্যাফে’ কোনও তৈরি সেট নয়। বাস্তবেই যে তার অস্তিত্ব রয়েছে, তা জানার পর থেকে পর্যটকদের ঢল নামছে। উত্তরাখণ্ডের মসূরীতে ঝরীপানী ক্যাস্লকেই মুসাফির ক্যাফে হিসেবে দেখানো হয়েছে। আসলে একটি বিলাসবহুল বুটিক হোমস্টে, যেখানে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। ঘরের সংখ্যা সীমিত হলেও, প্রতিটি ঘর থেকেই পাহাড়ি উপত্যকার নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। পকেটের ভার যত, সেই অনুযায়ী রাজকীয় ঘরও পাওয়া যাবে।
দিব্য প্রকাশ দুবের হিন্দি উপন্যাস ‘মুসাফির ক্যাফে’ অবলম্বনে তৈরি সিরিজ়ে পাহাড়ি উপত্যকায় ক্যাফেটিকে এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যে তার আশপাশের প্রাকৃতিক শোভা ও কাঠের তৈরি ক্যাফের সাজসজ্জা দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন দর্শকেরা। অনেকেই এখন ‘সেট-জেটিং’ ( টিভি বা সিনেমায় দেখানো জায়গা দেখে সেখানে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা) করতে চাইছেন। মুসাফির ক্যাফের ঠিকানা, সেখানে থাকার খরচ নিয়ে ইন্টারনেটে বিস্তর খোঁজাখুঁজিও হচ্ছে। তবে সেখানে গিয়ে ঝরীপনী কাস্ল নামেই খুঁজতে হবে কিন্তু।
ছবির মতো সুন্দর মুসাফির ক্যাফে
মুসাফির ক্যাফেতে এক রাত থাকার খরচ?
মসূরীর মল রোড থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে দূন উপত্যকা ঘেঁষে রয়েছে ক্যাফেটি। একসময় ছিল ব্রিটিশ সেনাকর্তাদের থাকার গেস্ট হাউস। স্বাধীনতার পরে হয় পটিয়ালা রাজপরিবারের গ্রীষ্মকালীন বাসস্থান ‘পটিয়ালা হাউস’, আর এখন এটি পরিণত হয়েছে সাজানোগোছানো রিসর্টে। ক্যাফেটির বর্তমান মালিকানা যাঁদের, সেই বাহরি পরিবার এর রাজকীয় স্থাপত্যে বদল আনেননি। সেই ব্রিটিশ আমলের কাঠের নকশা, কাচের দেওয়াল, উন্মুক্ত ছাদের শোভা সবই আছে। কেবল কয়েকটি ঘর নতুন করে সাজানো হয়েছে।
ঘরের সংখ্যা সীমিত, তবে সাজসজ্জা আলাদা
এই রিসর্টের অন্যতম আকর্ষণ হল লগ হাট এবং ডিলাক্স লগ হাট। কাঠের তৈরি কুটিরের মতো ঘরের শোভা। অন্দরসাজও তেমনই। এখানে থাকলে পাহাড়ি গ্রামের কোনও কাঠের তৈরি কুটিরে থাকার মতো অভিজ্ঞতা হবে পর্যটকদের। সপ্তাহান্তে শনিবার ও রবিবার লগ হাটে থাকার খরচ পড়বে দু’জনের জন্য প্রায় ১২৫৮৫ টাকা। সাধারণ লগ হাটের ঘরের ভাড়া প্রতি রাতে আনুমানিক ৪৬০০ থেকে ৮৫০০ টাকার মতো। তবে কোন সময়ে যাবেন, তার উপর ঘরের ভাড়া নির্ভর করবে।
ডিলাক্স লগ হাটের সাজসজ্জা আরও একটু বেশি সুন্দর। ভিতরে আরও কিছু বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। সে জন্য খরচও বেশি পড়বে। প্রতি রাতের ভাড়া দুই শয্যার ঘরের জন্য কর ছাড়া ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো।
লগ হাট, ডিলাক্স লগ হাট, নানা রকম ঘর রয়েছে এখানে।
ভ্যালি ভিউ ডিলাক্স ঘরগুলিতে ঔপনিবেশিক আমলের সাজসজ্জার ছোঁয়া রয়েছে। ১৯ শতকের ভিক্টোরিয়ান পেন্টিং, মসূরীর অনেক পুরনো সময়ের ছবিও দেখতে পাবেন ঘরে। মেহগনি বা সেগুন কাঠের শক্ত মেঝের উপর কাশ্মীরি কার্পেট পাতা। এখানে এক রাত থাকতে হলে ভাড়া গুনতে হবে ২০-২২ হাজার টাকার মতো।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুন উপত্যকার শোভা উপভোগ করা যায়।
স্যান্তোরিনি ডিলাক্স ও জাকুজ়ি স্যুটে থাকার খরচ আরও কিছুটা বেশি। এই ঘরগুলি থেকে দুন উপত্যকার দৃশ্য আরও ভাল ভাবে দেখা যাবে। ঘরের দেওয়াল কাচের, অন্দরসাজ মুগ্ধ করার মতোই। এখানে প্রতি রাতের খরচ কম করেও ২৫-২৬ হাজার টাকা। দু’রাত থাকতে হলে কর সমেত খরচ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।