Advertisement
E-Paper

কেনাকাটি হবে, বেড়ানোও হবে! পুজোর বালুচরী, কাঁথা, জামদানি কিনতে চলুন খাস শাড়ির আঁতুড়ঘরে

প্রতিবার তো শহর বা নিজের এলাকার চেনা দোকান, অনলাইন বা শপিং মল থেকেই শাড়ি পোশাক কেনেন। এ বার শাড়ি কিনতে চলুন সরাসরি তাঁতিদের ঘরেই। বিষ্ণুপুরের সিল্ক থেকে বালুচরী কিংবা শান্তিনিকেতনের কাঁথাস্টিচের শাড়ি কিনতে সরাসরি চলুন সেখানেই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৭
কেনাকাটার জন্যই হতে পারে সফর। পুজোর আগে দু’টি দিন কোথায় ঘুরে আসবেন?

কেনাকাটার জন্যই হতে পারে সফর। পুজোর আগে দু’টি দিন কোথায় ঘুরে আসবেন? ছবি:সংগৃহীত।

বছরভর যতই কেনাকাটা চলুক না কেন, দুর্গাপুজোর আগে শাড়ি, জামা না হলে চলে না বাঙালির। মহালয়া থেকেই পাটভাঙা শাড়ি পরা শুরু করেন অনেকে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী কোন দিন কোন শাড়ি, কোন জামা পরা হবে, তার হিসেবনিকেশ চলতে থাকে আগেই।

দুর্গাপুজোর ঢাকের বাদ্যি বাজল বলে। কেনাকাটা এখন অনলাইনে বেশি হলেও, শাড়ি হোক বা জামা, হাতে নিয়ে দেখে, পরখ করে কিনতে পছন্দ করেন অনেকেই। তা ছাড়া, পুজোয় অনেকেই চান, তাঁর শাড়িটি হোক বিশেষ, একেবারে আলাদা।

প্রতিবছর তো শহর বা নিজের এলাকার চেনা দোকান বা শপিং মল থেকেই পোশাক কেনেন। এ বার শাড়ি কিনতে চলুন সরাসরি তাঁতিদের ঘরেই। বিষ্ণুপুরের সিল্ক থেকে মুর্শিদাবাদের বালুচরী, সিল্ক কিংবা শান্তিনিকেতনের কাঁথাস্টিচের শাড়ি কিনতে চলুন সেখানেই। শরতের আকাশ বা কাশের দোলায় মন প্রসন্ন হবে। আর তাঁতবাড়ি থেকে কিনতে পারবেন, দেখতেও পারবেন নানা রকম শাড়ি।

কাঁথাস্টিচের আঁতুড়ঘর শান্তিনিকেতন

শান্তিনিকেতন ঘোরাও হবে, কেনাকাটাও হবে।

শান্তিনিকেতন ঘোরাও হবে, কেনাকাটাও হবে। ছবি:সংগৃহীত।

রবিঠাকুরের শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটে কাঁথাস্টিচের ঢালাও শাড়ি মিলবে। শুধু শাড়ি কেন, পাঞ্জাবি, স্টোল, জ্যাকেটেও কাঁথাস্টিচের কারিকুরি দেখার মতোই। রয়েছে বড় দোকানও। খোঁজ নিয়ে চলে যেতে পারেন তাঁতিপাড়াতেও। রান সেলাইয়ের মাধ্যমে ফুল, লতা, পাখির নকশা তোলা হয় কাঁথা স্টিচে। সিল্কের মান এবং হাতের কাজ যত বেশি হবে, ততই তার দাম বাড়বে।

শুধু কাঁথাস্টিচ নয়, শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাটিক শিল্পেরও সূচনা করেছিলেন। বাটিকের শাড়ি, চুড়িদারও মেলে হাট থেকে দোকানে। এর বাইরেও কলমকারি, খেসের শাড়ি, সুতির উপর অ্যাপ্লিকের কাজ করা নানা রকম শাড়ি মিলবে এখানে। ৫০০ থেকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন দামের ও মানের শাড়ি পাওয়া যায়।

শান্তিনিকেতন জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। পুজোর আগে শান্তিনিকেতন গেলে পথেই সঙ্গ দেবে কাশফুল। কঙ্কালীতলার দিকে গেলে রাস্তার পাশে সবুজ ধানেখেতে দেখতে পারেন কাশের দোলা। ঘুরে নিতে পারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থান। শাড়ি কিনতে গিয়ে এক-দু’দিন থেকে ছোট্ট একটি সফর সেরে নিতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে শান্তিনিকেতনে যাওয়ার একাধিক ট্রেন রয়েছে। কলকাতা থেকে সড়কপথে তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টাতেই পৌঁছোনো যায়। গাড়িতেও যেতে পারেন।

জিয়াগঞ্জের তাঁতিপাড়ায় চলুন মুর্শিদাবাদি সিল্ক কিনতে

মুর্শিদাবাদ ঘুরে নিন। তার সঙ্গে কিনুন সিল্কের শাড়ি, পাঞ্জাবি।

মুর্শিদাবাদ ঘুরে নিন। তার সঙ্গে কিনুন সিল্কের শাড়ি, পাঞ্জাবি। ছবি:সংগৃহীত।

পুজোর সময় যে লালপেড়ে গরদের খোঁজ করেন, সেই গরদ কোথায়, কী ভাবে তৈরি হয়, জানতে চান? তা হলে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ সদরঘাট থেকে টোটো চেপে চলে যেতে পারেন তাঁতিপাড়া। গলিতে হাঁটাহাঁটি করলেই কানে আসবে তাঁত বোনার শব্দ। মুর্শিদাবাদের সিল্কের শাড়ির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। এখানকারই বালুচরে তৈরি হয় বালুচরী শাড়ি। তাঁতিপাড়াতেই রয়েছে ঝাঁ-চকচকে শাড়ির দোকান। পিয়োর সিল্ক, বালুচরী , মসলিন-সহ রকমারি সম্ভার নিয়ে বসে রয়েছেন তাঁরা। পছন্দের শাড়ি তো কিনবেন, বাড়তি পাওনা নবাবের শহর ঘুরে দেখা। শুধু নবাবি স্থাপত্য নয়, এখানে রয়েছে বেশ কিছু জৈন মন্দির, কোঠিও।

মুর্শিদাবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হাজারদুয়ারি। আজিমগঞ্জ-জিয়াগঞ্জ, কাঠগোলার নানা প্রান্তে রয়েছে জৈনদের কোঠি, প্রাসাদোপম অট্টালিকা এবং একাধিক মন্দির। দিন দুই যদি জুড়তে পারেন সফরসূচিতে, ঘুরে দেখা যাবে অনেক কিছুই। এখানকার পোস্তদানা ছড়ানো মিষ্টির স্বাদ চেখে দেখতে ভুলবেন না।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া থেকে ট্রেনে আজিমগঞ্জ স্টেশনে নামুন। এখান থেকে জিয়াগঞ্জ কাছে হবে। আবার ট্রেনে বা গাড়িতে সরাসরি বহরমপুর পৌঁছে সেখান থেকেও যেতে পারেন।

বিষ্ণুপুরে জনপ্রিয় বালুচরী, সিল্কের শাড়ি

বিষ্ণুুপুর ঘোরার পাশাপাশি কিনে নিতে পারেন সিল্ক থেকে বালুচরী।

বিষ্ণুুপুর ঘোরার পাশাপাশি কিনে নিতে পারেন সিল্ক থেকে বালুচরী। ছবি:সংগৃহীত।

টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ, অপূর্ব সব মন্দির দেখতে হলে যেতে হবে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। পর্যটনস্থল হিসাবে যেমন তার খ্যাতি, তেমনই এখানকার শাড়ির জনপ্রিয়তাও বিশ্বজনীন। অসাধারণ বুননশৈলী এবং উৎকৃষ্ট মানের সিল্কের জন্য এখানকার খ্যাতি। বালুচরী, স্বর্ণচরী, গরদ— নানা রকম শাড়ি পাবেন এখানে। একসময় মুর্শিদাবাদের বালুচরে বালুচরী শাড়ি তৈরি হলেও, এখন বিষ্ণুপুরই সেই শাড়ি তৈরির অন্যতম ঠিকানা। এখানে এলে বাড়তি পাওনা হবে কী ভাবে সেই শাড়ি বোনা হয়, তা চাক্ষুষ করা। বিষ্ণুপুরে শাড়ির দোকান অজস্র, তবে শাড়ির আঁতুড়ঘর দেখতে চাইলে চলুন তাঁতিপাড়ায়। সেখানে সরাসরি শাড়ি কেনা যায়। চকবাজার, রঘুনাথপুর, কৃষ্ণগঞ্জ এলাকায় তাঁতিদের বসত।

শাড়ি কেনার পাশাপাশি ঘুরে নিতে পারেন রাসমঞ্চ, শ্যামরাই মন্দির, জোড়বাংলা মন্দির, মদনমোহন মন্দির, দলমাদল কামান-সহ দর্শনীয় স্থানগুলি। ভাল হয় এক বা দুই রাত থাকলে। কেনাকাটি, ঘোরার জন্য যথেষ্ট সময় মিলব সে ক্ষেত্রে।

কী ভাবে যাবেন?

ট্রেনে বিষ্ণুপুর যেতে পারেন। হাওড়া থেকে একাধিক ট্রেন আছে। ধর্মতলা থেকে বাঁকুড়াগামী বাস ধরেও যেতে পারেন। তা ছাড়া গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়।

ধনেখালির তাঁতঘরে চলুন

ধনেখালির তাঁত কেনাও হবে, গ্রাম ঘোরাও হবে।

ধনেখালির তাঁত কেনাও হবে, গ্রাম ঘোরাও হবে। ছবি:সংগৃহীত।

হুগলির ধনেখালি তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে যেমন তাঁতশিল্প গড়ে উঠেছে তেমনই তার বুননে তৈরি হয়েছে নিজস্বতা। ধনেখালির তাঁত একটু মোটা ধরনের। এখানকার শাড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল আঁচলে ‘খেজুরছড়ি’ নকশা। দুটি ভিন্ন রঙের সুতোকে একসঙ্গে পেঁচিয়ে বিনুনির মতো করে আঁচলে এই বিশেষ নকশাটি ফুটিয়ে তোলা হয়। এই শাড়ির পাড় সাধারণত দেড় থেকে দুই ইঞ্চি চওড়া হয়। তবে ঐতিহ্যবাহী ধনেখালির চওড়া পাড়কে ‘মাথা পাড়’ বা ‘বেলুয়াড়ি পাড়’ বলা হয়। মদনমোহনতলা, সোমাসপুর-সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে অনেক তাঁতিবাড়ি আছে। সেখানে গেলে কী ভাবে তাঁত বোনা হয় দেখতে পাবেন, শাড়িও কিনতে পারবেন।

ধনেখালি থেকে মোটামুটি ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে দশঘরা জমিদারবাড়ি। রায় এবং বিশ্বাস পরিবারের তৈরি বিশালাকার জমিদার বাড়িটির স্থাপত্যে ইউরোপীয় এবং ভারতীয় শৈলীর এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। রাজপ্রাসাদের প্রবেশদ্বার, খিলান এবং বড় বড় স্তম্ভগুলো হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের সাক্ষী বহন করে।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে ধনেখালি হল্ট, শিবাইচণ্ডী কিংবা গুড়াপ স্টেশনে নেমে বাস, টোটো বা অটোয় মূল তাঁতিপাড়া ও ধনেখালি বাজারে পৌঁছনো যায়। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গুড়াপ বা ধনেখালি মোড় হয়ে খুব সহজেই গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসা যায়।

ফুলিয়ায় চলুন তাঁতের শাড়ি কিনতে

ফুলিয়ার তাঁতের শাড়ি  কিনতে চলুন। ঘুরে নিন শান্তিপুর।

ফুলিয়ার তাঁতের শাড়ি কিনতে চলুন। ঘুরে নিন শান্তিপুর। ছবি:সংগৃহীত।

ফুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ির কদর দেশজোড়া। দেশভাগের পর বাংলাদেশের টাঙ্গাইল অঞ্চল থেকে বহু দক্ষ তাঁতি ফুলিয়ায় এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁরা শান্তিপুরের নিজস্ব বয়নশৈলীর সঙ্গে টাঙ্গাইলের ঘরানার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক নতুন বিপ্লব আনেন, যা ‘ফুলিয়া টাঙ্গাইল’ ‘ফুলিয়ার তাঁতের শাড়ি’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া, ফুলিয়ার রেশম বা তসর সিল্কের শাড়িও অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভাল জামদানি শাড়িও মেলে ফুলিয়ায়। কবি কৃত্তিবাস ওঝা ফুলিয়াতেই জন্মগ্রহণ করেন। এখানে তাঁর স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও লাইব্রেরি রয়েছে। কোনও এক ফাঁকে দেখে নিতে পারেন এই স্থান। রাত্রিবাস করতে চাইলে চলে যেতে পারেন শান্তিপুরে। গঙ্গাতীরে রিসর্ট রয়েছে, হোটেলও মিলবে। এখানে রয়েছে টেরাকোটার শ্যামচাঁদ মন্দির, বড় গোস্বামী বাড়ির মন্দির-সহ বেশ কয়েকটি দ্রষ্টব্যস্থল।

কী ভাবে যাবেন?

শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে চলুন ফুলিয়া স্টেশন। সেখান থেকে টোটো ভাড়া করে শাড়ির দোকান বা তাঁতিপাড়ায় যেতে পারেন। ভাল হয় সরাসরি গাড়ি নিয়ে গেলে।

Shopping Tips Travel Tips

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy