বাঘের ডেরায় ঢুকে বাঘ দেখার রোমাঞ্চই আলাদা। ঘন অরণ্য। সেখানে বাঘের সদর্প পদচারণা কি চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণ দেখার সমতুল্য হতে পারে? তবে রোমাঞ্চ, উত্তেজনায় নিয়ম ভুললেই বিপদ! অরণ্যের নিজস্ব ছন্দ আছে। মনে রাখা জরুরি, সেই স্থান বন্যপ্রাণের বিচরণক্ষেত্র। সেখানে গিয়ে অতি উৎসাহ বা অতি সাহস দেখাতে গেলে বিপদ হতে পারে। প্রথম বার যাঁরা জঙ্গল সাফারি করতে যাচ্ছেন, কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?
সাফারির নির্দেশিকা মেনে চলুন
অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, ম্যানগ্রোভের জঙ্গল— বন্যপ্রাণ দেখতে বিভিন্ন জায়গাতেই যাওয়া যায়। কোথাও যেমন গাড়িতে সাফারি হয়, কোথাও তেমনই খাঁড়িপথে নৌকো করে ঘোরানো হয় (সুন্দরবন)। কোর এরিয়া, বাফার জ়োন যেখানেই যান না কেন, সাফারির নির্দেশিকা মেনে চলা জরুরি।
গাইডের কথা শুনে চলা জরুরি। গাইড কোনও কিছু বারণ করলে, সে কথা শোনা জরুরি। কারণ, তিনি অভিজ্ঞ, বিপদের আঁচ বুঝতে পারেন।
অরণ্যের মধ্যে গাড়ি থেকে নামায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, বিশেষত ব্যাঘ্র প্রকল্পে। অতি-সাহস দেখিয়ে গাড়ি থেকে নামতে যাওয়া অনুচিত। এতে বিপদ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সঠিক পোশাক
বেড়াতে গেলে লোকজন রংচঙে, কেতাদুরস্ত পোশাক পরতেই পছন্দ করেন। কিন্তু সাধারণ ভ্রমণ আর জঙ্গল সাফারিতে তফাত রয়েছে। বন্যপ্রাণ দেখতে হলে এমন পোশাক বাছা উচিত, যা জঙ্গলের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। অলিভ গ্রিন, খাকি, ছাই বা হালকা বেজ রঙের জামাকাপড় পরতে পারেন। লাল, হলুদ, গোলাপি বা যে কোনও উজ্জ্বল রং একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
সুতির ফুল-হাতা জামা এবং ট্রাউজ়ার্স পরলে রোদ, মশা, পোকামাকড় এবং গাছের ডালপালার আঁচড় থেকে বাঁচা যায়। মাথার টুপি পরুন। জঙ্গলে মাকড়সা, পোকামাকড় থাকে। গাছের উপর থেকে সেগুলি অনেক সময় গায়ে-মাথায় পড়তে পারে। টুপি থাকলে কিছুটা হলেও এমন ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
পা ঢাকা জুতো পরা জরুরি। সাপ, পোকমাকড় কামড়ে দেওয়ার ভয় থাকে না।
শান্ত থাকা জরুরি
কোনও প্রাণী দেখতে পেলে উত্তেজনায় চিৎকার করা, জোরে হাততালি দেওয়া বা এমন কিছু করা অনুচিত, যাতে বন্যপ্রাণীদের অসুবিধা হয়। বন্যপ্রাণের ছবি তুলতে গেলে যথাসম্ভব তাকে বিরক্ত না করে কাজটি করতে হবে। অরণ্যে কোনও খাবার, প্লাস্টিক বা বোতল ফেলা নিষিদ্ধ। জঙ্গল ঢোকার আগেই ফোন ‘সাইলেন্ট মোডে’ রাখুন।
ফোটোগ্রাফির সাধারণ শিষ্টাচার
ফ্ল্যাশ সম্পূর্ণ বন্ধ: ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বন্যপ্রাণীদের চমকে দেয় এবং আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে। তাই ক্যামেরা বা ফোনের ফ্ল্যাশ সব সময় বন্ধ রাখুন।
ক্যামেরার সুরক্ষা: সাফারির জিপ কাঁচা রাস্তায় চলে, ফলে প্রচুর ধুলো ওড়ে। ক্যামেরার জন্য ডাস্ট কভার বা সুরক্ষামূলক ব্যাগ সঙ্গে রাখুন।
সঙ্গে কী রাখবেন
আইডি প্রুফ: সাফারির গেটে বুকিং স্লিপের সঙ্গে আসল পরিচয়পত্র (আধার, ভোটার আইডি বা পাসপোর্ট) বাধ্যতামূলক ভাবে পরীক্ষা করা হয়।
প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ: সানগ্লাস, টুপি, ধুলো থেকে নাক-মুখ ঢাকতে স্কার্ফ বা মাস্ক, এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে ওডোমস বা ইনসেক্ট রিপেল্যান্ট।
জল ও ওআরএস: পুনর্ব্যবহারযোগ্য জলের বোতলে জল রাখুন। দিনভর সাফারির পরিকল্পনা থাকলে এবং সময়টি গ্রীষ্মকাল হলে সঙ্গে ওআরএস রাখা ভাল।
অরণ্য কিন্তু চিড়িয়াখানা নয়। বাঘ বা কোনো নির্দিষ্ট প্রাণীর দেখা মিলবেই, এমন আশা না রেখে গোটা অরণ্যের পরিবেশ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রকৃতির নিখাদ ছন্দ উপভোগ করাই আসল সাফারির আনন্দ।