Advertisement
E-Paper

‘মুসাফির ক্যাফে’-র চন্দর-সুধার প্রেমকাহিনি শুরু যেখানে, হ্রদের ধারের সেই রেস্তরাঁ কোথায় আছে

‘মুসাফির ক্যাফে’ বাস্তবে রয়েছে মসূরীতে। তবে এই ওয়েব সিরিজ়ে আরও একটি রেস্তরাঁর দৃশ্যও বার বার ক্যামেরাবন্দি। হ্রদের ধারের এই ছিমছাম জায়গাটিতেই চন্দর-সুধার প্রথম দেখা। সেই রেস্তরাঁ কোথায় আছে? কী ভাবে সেখানে যাওয়া যায় এবং ঘোরা যায়?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০২৬ ০৯:০২
সিরিজ়ে ‘মুসাফির ক্যাফে’-র স্বপ্ন শুরু হয়েছিল যে শহর থেকে, সেখানেই ঘুরতে যাবেন? কী ভাবে ঘুরবেন শহরটি?

সিরিজ়ে ‘মুসাফির ক্যাফে’-র স্বপ্ন শুরু হয়েছিল যে শহর থেকে, সেখানেই ঘুরতে যাবেন? কী ভাবে ঘুরবেন শহরটি? ছবি:সংগৃহীত।

মেঘমাখা পাহাড়ের কোলে, ছবির মতো সুন্দর ‘মুসাফির ক্যাফে’। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ঝড় তোলা ওয়েব সিরিজ়ের ‘মুসাফির ক্যাফে’-র বাস্তব ঠিকানাটি জানা গিয়েছে। সেটি রয়েছে মসূরীতে , ঝরীপানী ক্যাস্‌ল। তবে সিরিজ়ের দুই মুখ্য চরিত্র চন্দর-সুধার প্রেমকাহিনি শুরু যেখানে, সেই স্থানও কম আকর্ষণীয় নয়। বিশাল হ্রদের ধারে সাদা রেলিং দেওয়া উন্মুক্ত এক রেস্তরাঁ। মুসরীর ‘মুসাফির ক্যাফে’-র মতোই সিরিজ়ে বার বার ক্যামেরাবন্দি হয়েছে ছিমছাম সজ্জিত সেই স্থান, যেখানে চন্দর-সুধার প্রথম সাক্ষাৎ।

 ‘মুসাফির ক্যাফে’-তে এই রেস্তরাঁতেই প্রথম দেখা হয়েছিল চন্দর-সুধার।

‘মুসাফির ক্যাফে’-তে এই রেস্তরাঁতেই প্রথম দেখা হয়েছিল চন্দর-সুধার। ছবি:সংগৃহীত।

গল্পের কাহিনির একটি অংশে রয়েছে ভোপাল। শুটিংও হয়েছে সেখানেই, আপার লেক বা ভোজ তালের পাশেই। ‘এমপিটি উইন্ড অ্যান্ড ওয়েভস’ এই নামে খুঁজলেই পাওয়া যাবে সেই হোটেল। হ্রদের ধারে উন্মুক্ত রেস্তরাঁ, সেখান থেকে পুরো ভোজ তালের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।সিরিজ়ের শুরুতে এখান থেকেই গল্প এগিয়েছে। তবে ওয়েব সিরিজ়, নয় দুর্দান্ত লোকেশনের জন্য এই হোটেলের জনপ্রিয়তা দীর্ঘ দিনের। অতীতেও ‘আরক্ষণ’ এবং ‘রাজনীতি’-র মতো একাধিক হিন্দি ছবির শুটিং হয়েছিল এখানেই।

চন্দর, সুধা এবং প্রীতি— চর্চা এখন সিরিজ়ে তিন চরিত্রকে নিয়েই। মিষ্টি একটি প্রেমের গল্প। তিন জনের সম্পর্কের রসায়ন হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে তরুণ প্রজন্মের। বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো এবং মহিমা মাকওয়ানা অভিনীত ‘মুসাফির ক্যাফে’— শুটিং-লোকশন নিয়ে বাড়তি উৎসাহও তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে।

গল্পের তিন চরিত্র সুধা, চন্দর এবং প্রীতি।

গল্পের তিন চরিত্র সুধা, চন্দর এবং প্রীতি। ছবি:সংগৃহীত।

কাহিনির দ্বিতীয় ধাপে মসূরী থাকলেও, প্রথম ধাপে গল্প এগিয়েছে ভোপালে। শহরটির আনাচকানাচের দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। প্রিয় মানুষটির হাত ধরে ভোপাল যেতে চান? পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে মধ্যপ্রদেশের এই শহরটির সুনাম দীর্ঘদিনের।এখানে এলে কী ভাবে সাজাবেন ভ্রমণসূচি? আর যদি চান সিনেমার শুটিং লোকেশনের হোটেলটিতেই রাত্রিযাপন করতে, কত টাকা খরচ হবে, জেনে নিন।

ভোজ তাল

পাহাড়ের কোলে ভোজতাল। হ্রদটি আরও সুন্দর দেখায় বিকালে।

পাহাড়ের কোলে ভোজতাল। হ্রদটি আরও সুন্দর দেখায় বিকালে। ছবি:সংগৃহীত।

ওয়েব সিরিজ়ে বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে ভোজ তালের ছবি। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের অন্যতম আকর্ষণ আপার লেক বা ভোজ তাল। জানা যায়, কৃত্রিম এই হ্রদ নির্মাণ করেছিলেন পারমার বংশীয় রাজা ভোজ, তাঁর নামেই হ্রদের নাম। স্থানীয়রা এই জলাশয়কে 'বড় তালাব'ও বলেন। হ্রদের এক প্রান্তে রয়েছে রাজা ভোজের মূর্তি। হ্রদের মধ্যে ছোট্ট দ্বীপও রয়েছে। হ্রদের তীরে রয়েছে কমলা পার্ক, যেখানে বসে প্রাকৃতিক শোভা উপভোগ করা যায়। বিশাল হ্রদে সূর্যাস্ত সুন্দর দেখায়। নৌবিহার এবং জলক্রীড়ারও সুযোগ রয়েছে এখানে। ভোপালের বিমানবন্দর থেকে হ্রদটির দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।

হ্রদের ধারে ভোজ রাজার মূর্তি।

হ্রদের ধারে ভোজ রাজার মূর্তি। ছবি:সংগৃহীত।

ভোজ তালের পাশেই রয়েছে ‘এমপিটি উইন্ড অ্যান্ড ওয়েভস’। সেখানে থাকারও ব্যবস্থা আছে। বিভিন্ন মানের ঘর রয়েছে, মোটামুটি ৪-৫ হাজার টাকা থেকে ঘর ভাড়া শুরু। চাইলে ভোপাল বেড়াতে গিয়ে শুধু ‘মুসাফির ক্যাফে’-র শুটিং হওয়া রেস্তরাঁটিতেই খাওয়া এবং সময় কাটানোর জন্য যেতে পারেন।

ট্রাইবাল মিউজ়িয়াম

ট্রাইবাল মিউজ়িয়ামটিও ঘুরে দেখতে পারেন।

ট্রাইবাল মিউজ়িয়ামটিও ঘুরে দেখতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।

মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলির জীবনযাত্রার নানা নিদর্শন এখানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিত্রশিল্প, কারুশিল্প, তাঁদের সঙ্গীতবহুল জীবনের টুকরো ছবি ও ভাস্কর্য এবং রঙের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।শুক্র, শনি এবং রবিবার মিউজ়িয়াম প্রাঙ্গণে আদিবাসী লোকনৃত্য এবং সঙ্গীতের আসর বসানো হয় স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করিয়ে দিতে।

স্টেট মিউজ়িয়াম

ট্রাইবাল মিউজ়িয়ামের অদূরে রয়েছে স্টেট মিউজ়িয়াম। ভাস্কর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাচীন মুদ্রা, মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকা ও আশেপাশের গুহা থেকে পাওয়া প্রাগৈতিহাসিক পাথরের হাতিয়ার এবং জীবাশ্ম এখানে সংরক্ষিত আছে।

বন বিহার জাতীয় উদ্যান

ভোজ তালের পাশেই অবস্থিত এই জায়গায় প্রাকৃতিক ঘেরাটোপে বন্যপ্রাণীদের রাখা হয়েছে। এটি একটি জুলজিক্যাল পার্ক। বাঘ, ভালুক-সহ একাধিক বন্যপ্রাণ রয়েছে এখানে। হাঁটার পাশাপাশি ব্যাটারি চালিত গাড়িতেও জায়গাটি ঘুরে দেখা যায়।

তাজ উল মসজিদ

তাজ উল মসজিদ।

তাজ উল মসজিদ। ছবি:সংগৃহীত।

ভোপালে তাজ-উল-মসজিদ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। বেলেপাথর দিয়ে নির্মিত পুরনো মসজিদে ১৮ তলা উঁচু দু’টি বিশাল মিনার এবং মার্বেলের তৈরি ৩টি গম্বুজ রয়েছে।

মোতি মসজিদ এবং গওহর মহল

তাজ-উল-মসজিদ থেকে কিছুটা দূরে ভোপালের এককালের শাসক কুদসিয়া বেগমের তৈরি ঐতিহাসিক গওহর মহল ও এবং মোতি মসজিদও রাখতে পারেন দ্রষ্টব্যের তালিকায়।

ভীমবেটকা

ভীমবেটকায় রয়েছে আদিম গুহাচিত্র।

ভীমবেটকায় রয়েছে আদিম গুহাচিত্র। ছবি:সংগৃহীত।

মধ্যপ্রদেশের রাইসিনা জেলায় ভীমবেটকা হল সভ্যতার আঁতুড়ঘর। ভোপাল শহর থেকে ভীমবেটকার আনুমানিক দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। পাহাড়ঘেরা এই বনাঞ্চলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি গুহা বা পাথরের খাঁজে থাকার মতো জায়গা পাওয়া গিয়েছে। এখানে রয়েছে প্রস্তুরযুগের গুহাচিত্র। ২০০৩ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা পাওয়া ভীমবেটকা এক আদিম সময়ে নিয়ে যায়।

Vikrant Massey Bhopal

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy