সকালে হাঁটতে গিয়ে মর্মান্তিক ভাবে প্রাণ হারালেন ৬০ বছরের এক ব্যক্তি। একটি হাতির হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাতিটি বনের সীমানা পেরিয়ে পাঁচ কিলোমিটার বাইরে চলে আসে। ভোরে হাঁটতে বেরোনো ওই বৃদ্ধকে দেখতে পেয়ে তেড়ে আসে গজরাজ। হাতির আক্রমণে মারা যান তিনি। বেঙ্গালুরুর সেই মর্মান্তিক ঘটনাটির একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে খবর, ঘটনার পর বন বিভাগ হাতিটিকে শনাক্ত করে ধরার জন্য বড়সড় অভিযান শুরু করেছে। মৃতের পরিবারের জন্য সরকার ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। মাইসুরু রোডের পাশে আঞ্চেপাল্যায় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম নাগরাজ। তিনি আঞ্চেপাল্যার বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ। নাগরাজ হাঁটার জন্য ওই এলাকা দিয়ে হাঁটছিলেন। রাজারাজেশ্বরী মেডিক্যাল কলেজের কাছে বরাহী ভিভারিয়া অ্যাপার্টমেন্টের নিকটবর্তী এলাকায় নাগরাজের পিছু নেয় বন্য হাতিটি। এক্স হ্যান্ডলের ‘হেটডিটেক্টর’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে, রাস্তা দিয়ে নাগরাজ ছুটে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পর হাতিটি দৌড়ে আসছে।
হাতিটিকে দ্রুত খুঁজে বার করে নিরাপদে ধরতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। অভিযানে ক্যাম্প থেকে দু’দফায় প্রায় ১০০ জন বনকর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। হাতিটির গতিবিধির উপর নজর রাখতে এবং তাকে ঘেরাও করে ধরার জন্য গঠন করা হয়েছে তিনটি বিশেষ দল। পাশাপাশি, অভিযানে প্রশিক্ষিত কুনকি হাতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। জঙ্গলের বাইরে চলে আসা হাতিটিকে যত দ্রুত সম্ভব নিয়ন্ত্রণে এনে ফের জঙ্গলে পাঠানোর জন্য জোরকদমে তল্লাশি চলছে।
আরও পড়ুন:
বনকর্তারা জানিয়েছেন, বিএম কাভাল এলাকায় হাতিটির সন্ধান মিলেছে। এর পরই সেটিকে দ্রুত খুঁজে বার করে নিরাপদে ধরার লক্ষ্যে তিনটি বিশেষ দলকে নিয়ে শুরু হয়েছে চিরুনিতল্লাশি। হাতিটির গতিবিধির উপরও নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আপাতত ওই এলাকায় সাধারণ মানুষকে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, হাতিটি যাতে বন বিভাগের সীমানা পেরিয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়তে না পারে, সে জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।