চিড়িয়াখানায় গিয়ে অনেকেই ঘুমন্ত বা বিশ্রামরত প্রাণীকে উত্ত্যক্ত করতে ভালবাসেন। ধরা পড়লে সামান্য জরিমানা বা সতর্ক করে ছে়ড়ে দেওয়া হয় উত্ত্যক্তকারীদের। তবে ইউরোপের নর্ডিক দেশে এমন কাণ্ড করতে গিয়ে বড়সড় বিপদে পড়লেন এক নৌকাচালক। ধবধবে সাদা এক লোমশ প্রাণীকে বিরক্ত করার জন্য তাঁকে খেসারত দিতে হল চার লক্ষ টাকা। একটি শ্বেতশুভ্র মেরুভালুকের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য জরিমানা করা হয়েছে তাঁকে। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে, নৌকার বাঁশি ব্যবহার করে ঘুমন্ত একটি মেরুভালুককে জাগিয়ে তোলার দায়ে এক নৌকাচালককে ৫০,০০০ নরওয়েজীয় ক্রোনার (প্রায় ৪.৫ থেকে ৫ লক্ষ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, এই ঘটনাটি চলতি মাসের শুরুতে নরওয়ের সভালবার্ডের উপকূলে ঘটেছে। জায়গাটি উত্তর মেরু থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রত্যন্ত দ্বীপপুঞ্জে। স্থানীয় একটি খাঁড়ির মধ্যে দিয়ে নৌকা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আরোহীরা তীরে বিশ্রামরত একটি মেরুভালুক দেখতে পান। প্রাণীটি নড়াচড়া করে কি না তা দেখার জন্য, নৌকার এক ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে উচ্চস্বরে ফগহর্নটি বাজিয়ে দেন। হর্নের বিকট শব্দে ভালুকটি চমকে ওঠে। ঘুম ভেঙে উঠে ভয়ে ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সভালবার্ডের গভর্নর লার্স ফাউসের কানে যায় ঘটনাটি। তিনি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭২ সাল থেকে সভালবার্ডে মেরুভালুক একটি সংরক্ষিত প্রজাতি। এদের বিরক্ত করলে গুরুতর আর্থিক জরিমানা ভোগ করতে হয়। সভালবার্ড পরিবেশ সুরক্ষা আইন অনুসারে, মেরুভালুককে অকারণে বিরক্ত করা, তাকে তাড়া করা বা আকৃষ্ট করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। নিয়ম অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের বন্যপ্রাণীদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যাতে তাদের প্রতিকূল আবাসস্থলে তাদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি না হয়। তাদের স্বাভাবিক আচরণে কোনও পরিবর্তন না আসে তার জন্য এই কঠোর নিয়মকানুন। অপরাধী তাঁর অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন। এই ধরনের জরিমানার ঘটনা নরওয়েতে বিরল নয়। এর আগে এক পর্যটক ওয়ালরাসের খুব কাছে চলে যাওয়ায় তাঁকে ১ লক্ষের টাকার বেশি জরিমানা দিতে হয়েছিল।