মহিলাদের পিজি (পেয়িং গেস্ট)-তে ঘরের পর্দা সরিয়ে যখন-তখন নজরদারি করার অভিযোগ উঠল মা-ছেলের বিরুদ্ধে। তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে বসবাসকারী দুই তরুণী সিসিটিভি ফুটেজ শেয়ার করেছেন। সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবেশী এক মহিলা ও তাঁর ছেলে জানালার পর্দা সরিয়ে বার বার তাঁদের ঘরে উঁকি দিচ্ছেন। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা সেই ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অবশ্য এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পিজি-র বাসিন্দাদের অনুমতি ছাড়াই এক মহিলা জানালার পর্দা সরিয়ে উঁকি মারছেন। পরের দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, এক তরুণও খোলা জানলা দিয়ে ঘরের ভিতরে নজর বোলাচ্ছেন। তরুণীরা ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করেছেন, ঘটনা দু’টি আলাদা দিনে ঘটেছে। উভয়ই একাধিক বার তাঁদের ঘরে উঁকি দিতে এসেছিলেন। তরুণীরা জানান, তাঁদের জানালাটি সামান্য খোলা রাখতে হত। কারণ, এর ভিতর দিয়ে একটি ওয়াই-ফাই-এর তার গিয়েছে। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য জানালাটি একটি পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখতেন তাঁরা। সেই পর্দা সরিয়ে উঁকি দেওয়া বিষয়টি নিয়ে তরুণীরা প্রতিবেশী মহিলাকে চেপে ধরতেই অদ্ভুত যুক্তি সাজিয়েছেন তিনি। পোস্টদাতাদের অভিযোগ, মা ও ছেলে প্রথমে এমন ভান করছিলেন, যেন তাঁরা তেলুগু ছাড়া অন্য কোনও ভাষা বোঝেন না। তবে, সিসিটিভি ক্লিপগুলির একটিতে তরুণকে হিন্দিতে কথা বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে মা ও ছেলে দাবি করেন, তাঁরা একটি শব্দ শুনেছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, ঘরের ভিতরে পায়রা আছে। তাই উঁকি মারছিলেন। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি পিজি-র বাসিন্দারা।
ইনস্টাগ্রামে ফুটেজটি শেয়ার করে তরুণীরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কী ভাবে কেউ কারওর ঘরের জানালা খুলে পর্দা সরাতে পারেন! তবে, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আইনি ঝামেলায় যেতে চাননি। পরিবর্তে গোটা বিষয়টি তাঁরা তাঁদের বাড়িওয়ালাকে জানান। বাড়িওয়ালা অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জায়গাটি খালি করে দিতে বলেছেন। তাঁরা চলে না যাওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক ভাবে অন্য একটি পিজি-তে ওই তরুণীরা থাকছেন বলে একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এই নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে নেটদুনিয়ায়। বহু মানুষ ইতিমধ্যেই ভিডিয়োটি দেখেছেন। মহিলা ও তাঁর ছেলের আচরণের সমালোচনাও করেছেন তাঁরা। কৌতূহলের বশে বারবার অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরে উঁকি দেওয়া কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করছেন নেটাগরিকদের একাংশ। বেশ কয়েক জন আবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ওই রেকর্ডিংগুলি থেকে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে যাতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।