Advertisement
E-Paper

মনে ছিল নিজের এবং বাবার নাম, আর ছ’বিঘা জমির কথা! ২১ বছর নিখোঁজ তরুণকে ফিরিয়ে দিল ফেসবুকের ভিডিয়ো

পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, শঙ্করের বয়স যখন ১৫, তখন সে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিল। ট্রেনে চেপে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার পর বহু চেষ্টা করেও হদিস মেলেনি তার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২৭

ছবি: সংগৃহীত।

২১ বছর ধরে খোঁজ মেলেনি পরিবারের সন্তানের। দু’দশক পর ফেসবুক ভিডিয়োই ফিরিয়ে দিল হারানো সন্তানকে। ২০০৫ সাল থেকে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধান পেল বিহারের মধুবনীর এক পরিবার। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ৩৬ বছর বয়সি রামশঙ্কর কুশওয়াহা নিখোঁজ হওয়ার ২০ বছরেরও বেশি সময় পর ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর পরিবারে ফিরে এসেছেন। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আত্মহারা শঙ্করের পরিবার।

পরিবারসূত্রে জানা গিয়েছে, শঙ্করের বয়স যখন ১৫, তখন সে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিল। ২০০৫ সাল নাগাদ গ্রামে একটি ভান্ডারার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে সাধু ও ধর্মীয় ভিক্ষুরা উপস্থিত হয়েছিলেন। কিশোর বয়সে শঙ্করের ট্রেনে চড়ার প্রবল ঝোঁক ছিল। অনুষ্ঠানের শেষে আগত সাধুরা যখন চলে যেতে শুরু করেন, তখন শঙ্কর তাঁদের অনুসরণ করে একটি ট্রেনে উঠে পড়ে। এর পর পথ হারিয়ে ফেলে কিশোর শঙ্কর। শঙ্করের দাদা ললিত শাস্ত্রী সংবাদমাধ্যমে জানান, মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র রেলস্টেশনে পৌঁছোনোর আগে শঙ্কর বছরের পর বছর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। বেঁচে থাকার জন্য তিনি নানা ধরনের কাজ করতেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

২০১৮ সালে স্থানীয় পুলিশ তাঁকে গ্বালিয়রের একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায়। তিনি সেখানে প্রায় আট বছর ছিলেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে, গ্বালিয়র থানার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) সন্তোষ পটেল আশ্রয়কেন্দ্রটিতে গিয়ে শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের কথোপকথনের সময়, শঙ্কর তাঁর সঠিক ঠিকানা মনে করতে না পারলেও নিজের নাম, বাবার নাম এবং তাঁর পরিবারের ছ’বিঘা জমি ও সেখানে উৎপাদিত ফসলের বিবরণ মনে করতে পেরেছিলেন। ডিএসপি কথোপকথনটি রেকর্ড করে ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। শঙ্করকে শনাক্ত করতে জনগণের সাহায্য চান।

গত ৪ সেপ্টেম্বর, ললিত ফেসবুক পোস্টটি দেখতে পান। গ্রামে বাইকের যন্ত্রাংশ বিক্রির একটি দোকান চালান ললিত। তিনি সঙ্গে সঙ্গে শঙ্করকে চিনতে পারেন এবং ভিডিয়োয় থাকা নম্বরে যোগাযোগ করেন। শঙ্করের ৭০ বছর বয়সি মা লক্ষ্মী দেবী ভিডিয়োটি দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছেলেকে চিনতে পারেন তিনি। শঙ্করের পরিবার শীঘ্রই ভিডিয়োকলের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু শঙ্করকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য কাগজপত্রের প্রয়োজন ছিল। সেই কাগজ ছিল না। কারণ শঙ্কর কখনও স্কুলে যাননি এবং তাঁর কোনও সরকারি পরিচয়পত্রও ছিল না। পরিচয় যাচাই হওয়ার পর, হারানো ভাইকে ফিরিয়ে আনতে শঙ্করের দাদা ও তুতো ভাই গ্বালিয়রে পৌঁছোন। শঙ্কর গ্রামে ফিরতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। দু’দশকের বিচ্ছেদের পর অবশেষে নিশ্চিন্ত আশ্রয় মিলল শঙ্করের।

Bihar Facebook

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy