Advertisement
E-Paper

১৭ কিমি দূরে পালিয়েও মিলল না রেহাই, দুই সদস্যকে পিষে মারার ১৪ বছর পর একই পরিবারের মা-সন্তানকে মারল ‘খুনে’ হাতি

কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ধুরবে’ নামে পরিচিত একটি বন্য হাতি ৪ জুলাই জগৎপুরের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে শনিচারা বোট নামের এক প্রৌঢ়ের ২৫ বছর বয়সি পুত্রবধূ এবং চার বছরের এক নাতিকে হত্যা করেছে। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের কাছে এই হাতিটিই শনিচারার বাবা-মা বুধিরাম ও ঝারালিকে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ১০:১৫

—প্রতীকী ছবি।

১৪ বছর ধরে একটি পরিবারের উপর নজরদারি চালিয়ে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ করল এক বুনো হাতি। হাতিটির হাত থেকে বাঁচতে পরিবারটি দূরে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরও মৃত্যুকে এড়াতে পারেনি তারা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, নেপালে একটি বুনো হাতি ১৪ বছরের ব্যবধানে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাতির কবল থেকে বাঁচতে পরিবারটি পালাতে পালাতে ১৭ কিলোমিটার দূরে চলে গিয়েছিল। কিন্তু হাতিটি তাদের খুঁজে বার করে।

কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ধুরবে’ নামে পরিচিত একটি বন্য হাতি ৪ জুলাই জগৎপুরের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে শনিচারা বোট নামের এক প্রৌঢ়ের ২৫ বছর বয়সি পুত্রবধূ এবং চার বছরের এক নাতিকে হত্যা করেছে। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের কাছে এই হাতিটিই শনিচারার বাবা-মা বুধিরাম ও ঝারালিকে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলে। সেই ঘটনার প্রায় ১৪ বছর পর আবার এই পরিবারের দুই সদস্যকে ধুরবে হত্যা করে। ১৪ বছর আগের ঘটনায় প্রাণের ভয়ে পরিবারটি জিনিসপত্র বিক্রি করে দু’টি বড় নদী পার হয়ে তাদের আগের বাড়ি থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে জগৎপুরে চলে এসেছিল।

ঘটনার পর কাঠমান্ডু পোস্টকে শনিচারা বলেন, বিশ্বাস করতাম যে বড় বড় নদীগুলো পার হয়ে গেলে আমরা নিরাপদ থাকব। কিন্তু এত বছর পর, ঠিক সেই একই হাতিটা আবার আমাদের খুঁজে পেল, আমাদের বাড়িতে হানা দিল এবং আমার পুত্রবধূ ও আমার ছোট্ট নাতিকে শেষ করে দিয়ে গেল। প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনার দিন রাতের দিকে শনিচারার স্ত্রী তাঁদের বাড়ির দেওয়ালে জোরে জোরে ধাক্কার শব্দ শুনতে পান। এর কিছু ক্ষণ পরেই হাতিটি মাটির দেওয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরিবারটি পালানোর চেষ্টা করলে হাতিটি বোট পরিবারের পুত্রবধূ ও তাঁর ছোট ছেলেকে ধরে ফেলে। শনিচারার স্ত্রী শুকনো খড়ে আগুন ধরিয়ে জন্তুটিকে তাড়িয়ে দেন, কিন্তু সেই আগুনে পরিবারটির বাড়িটি গ্রাস হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, অল্প বয়সে প্রভাবশালী পুরুষ দাঁতাল হাতিদের কারণে দল থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ধুরবে হিংস্র হয়ে ওঠে। একা থাকতে থাকতে ও খাবারের সন্ধানে ধীরে ধীরে জনবসতিতে ঢুকে মানুষকে আক্রমণ করার একটি অভ্যাস গড়ে ওঠে ধুরবের মধ্যে। হাতিটি প্রথম মানুষ মারে ২০১০ সালে। ২০১২ সালে প্রাণঘাতী হামলার পর বনদফতর কর্তৃপক্ষ হাতিটিকে হত্যা করার জন্য একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেন। অভিযানের সময় হাতিটি গুলিবিদ্ধ হলেও বনাঞ্চলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বন দফতরের কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, আঘাতের কারণে সেটি মারা গেছে। তবে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয় যখন ২০১৬ সালে হাতিটিকে বহাল তবিয়তে জঙ্গলে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। চিতওয়ান জাতীয় উদ্যানের তথ্য ও সংরক্ষণ আধিকারিক অবিনাশ থাপা মাগার কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন যে, হাতিটিকে একটি স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং কলার পরানো হয়েছে। সেই তথ্য থেকে তাঁরা নিশ্চিত হন যে ৪ জুলাই রাতে এটি হামলার ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল।

Nepal wildlife

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy