গৃহস্থের উঠোনে মুখোমুখি দুই জাতভাই। অজগর ও শঙ্খচূড়। ফণা উঁচিয়ে নির্বিষ অজগরটিকে আক্রমণে উদ্যত বিষধর শঙ্খচূড়টি। দুই যুযুধানের লড়াই দেখে ত্রস্ত বাড়ির বাসিন্দারা। দু’টি সাপের সংঘর্ষ শুরু হতেই বাসিন্দারা পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বাঘায়। বাল্মীকি টাইগার রিজ়ার্ভের কাছে গোনৌলি এলাকায় ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের উল্টো দিকের একটি বাড়ির উঠোনে সংঘর্ষ বাধে দুই সাপের। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোনৌলি গ্রামের বাসিন্দা সোনালাল শাহের পোষা কুকুরের প্রবল চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে পড়েন বাসিন্দারা। উঠোনে কুকুরটিকে ডাকতে দেখে টর্চ জ্বালতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় বাসিন্দাদের। অজগর ও শঙ্খচূড় মুখোমুখি হয়ে লড়াইয়ের জন্য যেন তাল ঠুকছে। শঙ্খচূড়টিকে পেঁচিয়ে ফেলে অজগরটি। বিপদ আঁচ করে কালবিলম্ব না করে সোনালাল বনবিভাগে খবর দেন। গোনৌলি বনবিভাগের দল সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়ে ওঠে। এক প্রশিক্ষিত সাপুড়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছোন। বেশ কিছু ক্ষণ ধরে চেষ্টার পর উদ্ধারকারী দল সাপ দু’টিকে নিরাপদে ধরে ফেলে। অজগর ও শঙ্খচূড়টিকে সাবধানে আলাদা ভাবে ধরা হয়।
দু’টি সাপকে উদ্ধারের ভিডিয়োটি ‘অভিনয়১৩৯৭৭৯৭৬’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। সাপ বেরোনোর খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কৌতূহলী গ্রামবাসীরা এই রোমহর্ষক লড়াই দেখতে জড়ো হয়ে যান। তাঁদের সরিয়ে দিয়ে উদ্ধারকারী দলটি সাপ দু’টিকে আলাদা করে কব্জা করে ফেলেন। সোনালালের ছেলে নীতেশ কুমার জানান যে, দু’বছর আগে বর্ষাকালে একটি শঙ্খচূড় তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল। সে সময়ও পোষা কুকুরটির সতর্কতায় গোটা পরিবার সময়মতো রক্ষা পেয়েছিল। সেই সময় বন বিভাগের একটি দল এসে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করে। বনকর্তাদের মতে, একই চত্বরে একসঙ্গে শঙ্খচূড় ও অজগরের দেখা পাওয়া কোনও সাধারণ ঘটনা নয়।