হিমাঙ্কের নীচে তাপমাত্রা। বইছে প্রবল বাতাস। মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ঘরের বাইরে পা রাখতেই তীব্র কষ্ট হচ্ছে। তখনও সেই প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। জীবন বিপন্ন করে তাঁরা বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল করার চেষ্টা করে চলেছেন। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের এমনই এক রুদ্ধশ্বাস ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সিয়াচেন ও নুব্রার মতো দুর্গম এবং তুষারে ঢাকা এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। চারপাশে তুষারঝড়, তাপমাত্রার পারদ হিমাঙ্কের বহু নীচে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা নজর কেড়েছে নেটাগরিকদের। এক দিকে যখন সাধারণ মানুষের পক্ষে কয়েক মিনিট ঘরের বাইরে থাকাও কঠিন, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করছেন এই কর্মীরা। ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, চারপাশ তুষারে ঢাকা, তীব্র হিমশীতল বাতাসে বয়ে চলেছে। এমনই প্রতিকূল আবহাওয়ায় উঁচু বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন তুষারে জমে গিয়েছে। কিন্তু, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে আসেননি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। কোনও দ্বিধা ছাড়াই সুরক্ষা সরঞ্জামের সাহায্যে শূন্যে ঝুলে তার মেরামত করছেন তাঁরা। সিয়াচেন ও নুব্রা উপত্যকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই 'বাহিনী'। তাপমাত্রা এবং তুষারঝড় উপেক্ষা করে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে অবিচলভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান করার কাজ করে চলেছেন তাঁরা।
ভিডিয়োটি সংবাদমাধ্যম ‘এবিপিনিউজ়টিভি’-এর এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর এই কর্মীদের নিঃস্বার্থ পরিষেবা ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন নেটাগরিকেরা। তাঁদের কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বহু নেটাগরিকই। এক জন যেমন লিখেছেন, “আমরা ঘরের ভিতরে আরামে বসে আছি, আর এই বীরেরা এমন প্রতিকূল পরিবেশে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার জানা নেই।”