ফুল, বেলুন, মোমবাতি, মেঝেয় গোলাপের পাপড়ি এবং ‘আই লাভ ইউ’ বার্তা দিয়ে সাজানো রেলের একটি প্রথম শ্রেণির কামরা! রেলসফরে ফুলশয্যা কিংবা বিবাহবার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য কোনও যাত্রীর তাঁর জীবনসঙ্গীকে চমক দিতে এই আয়োজন করেন বলে দাবি। রেলের কামরাকে শোয়ার ঘরে রূপান্তরিত করার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিয়েছে রেল। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসের একটি প্রথম শ্রেণির কামরা বেলুন, ফুল এবং গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে। কামরাটি বেলুন, ফুলের ঝালর, মোমবাতি, জমকালো ফুলের সজ্জা এবং হাজার হাজার গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই এই সুসজ্জিত কামরাটিকে ‘হনিমুন কোচ’ বলে উল্লেখ করতে শুরু করেন নেটাগরিকেরা। কারণ কামরাটিকে দেখে হোটেলের হনিমুন সুইটের চেয়ে কোন অংশে কম বলে মনে হচ্ছে না। ভিডিয়োটি ‘মদন_চিকনা’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করার পর প্রচুর মানুষ তা দেখেছেন। প্রায় তিন হাজার নেটাগরিকের লাইক জমা পড়েছে তাতে। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই সরকারি সম্পত্তিকে এই ভাবে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করা যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু মানুষ।
এর উত্তরে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এক বেসরকারি সাজসজ্জাকারী তাঁদের অনুমোদন না নিয়েই এই কাজ করেছেন। রেল এটিকে ‘গুরুতর ত্রুটি’ বলে উল্লেখ করেছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটিকে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং সজ্জাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসের প্রথম শ্রেণির কামরা সাজানোর প্রসঙ্গে একটি বিবৃতি জারি করেছে দক্ষিণ-মধ্য রেল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “৬ জুলাই ১১০০২ নম্বর নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসে ভ্রমণকারী এক দম্পতি প্রথম শ্রেণির কামরাটি সাজানোর জন্য ব্যক্তিগত ভাবে অনলাইনে একজন সাজসজ্জাকারীকে নিযুক্ত করেছিলেন। জালনা স্টেশনে অনুমতি না নিয়েই ট্রেনে ওঠেন তিনি। রেল এটিকে একটি গুরুতর ত্রুটি হিসাবে দেখছে। কামরার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রেল জানিয়েছে। ট্রেনে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, টিকিট ছাড়া ভ্রমণ এবং অনধিকার প্রবেশের দায়ে রেল আইনের ধারা মেনে সাজসজ্জাকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।