সন্তানের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য একজন মা-ই পারেন অসাধ্যসধান করতে। সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তো আরও বেশি। অটিজ়ম আক্রান্ত এক শিশুর ভাবপ্রকাশের জন্য তার মা এমন একটি পদক্ষেপ করলেন যা নিয়ে সমাজমাধ্যমে চর্চার শেষ নেই। কানাডার বাসিন্দা তাঁর ১১ বছরের সন্তানের কথা বোঝার জন্য শরীরে খোদাই করলেন কিবোর্ড! সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, জেসিকা নামের ওই তরুণীর সন্তানের নাম হান্টার। সে অটিজ়মে আক্রান্ত এবং কথা বলতে পারে না। হান্টার সাধারণত যোগাযোগের জন্য একটি ডিজিটাল ট্যাবলেট (এএসি ডিভাইস) ব্যবহার করে। একদিন একটি রেস্তরাঁয় খাওয়ার সময় হঠাৎ সেই যন্ত্রটির ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়। জেসিকা চিন্তিত হয়ে পড়েন। কিন্তু হান্টার ঘাবড়ে না গিয়ে একটি কাগজের ন্যাপকিন তুলে নেয়। তাতে কিবোর্ডের এ, বি, সি অক্ষরগুলো আঁকে এবং অক্ষরগুলোর উপর আঙুল রেখে তার মাকে বোঝাতে চায় যে তার কোন কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করছে। ছেলের এই আচরণই জেসিকার চোখ খুলে দেয়।
তিনি সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে একজন ট্যাটুশিল্পীর সাহায্য নেন। তাঁর হাতে জুড়ে একটি স্থায়ী কিবোর্ডের ট্যাটু করিয়ে ফেলেন। অক্ষরগুলোর পাশাপাশি ট্যাটুটিতে ‘হ্যাপি’, ‘স্যাড’ ইমোজি এবং একটি ‘আই লাভ ইউ’ বাটনও ছিল। জেসিকা যখন তাঁর ছেলে হান্টারকে ট্যাটুটি দেখালেন, নাবালক তার মায়ের হাতে থাকা কিবোর্ডের ওপর আঙুল রেখে প্রথম শব্দটি ‘টাইপ’ করল। শব্দটি হল ‘মা’।
আরও পড়ুন:
ছেলের কথা বলার এই ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ভাগ করার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিয়োটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স হ্যান্ডলের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। প্রচুর নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর তাতে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। হান্টারের স্কুলের বন্ধুরাও এই অভিনব ধারণাটি এতটাই পছন্দ করে যে তারা একই ধরনের টি-শার্টের দাবি জানাতে শুরু করে। এর পর জেসিকা একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এমন টি-শার্ট তৈরি করেন, যার হাতায় কিবোর্ডের ছবি ছাপানো থাকে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসক, নার্স এবং অটিজ়ম আক্রান্তদের অভিভাবকেরাও জেসিকার পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।