তিন দশক ধরে একটানা একটি সংস্থাতেই কাজ করেছিলেন এক কর্মী। অবসরের আর এক বছর বাকি ছিল তাঁর। এক সংস্থাতেই কর্মজীবন শেষ করার চিন্তাভাবনা করেছিলেন হিউলেট প্যাকার্ডেই। কিন্তু ৫৯ বছর বয়সে এসে চাকরি হারাতে হল মে লি নামের ওই প্রৌঢ়া কর্মীকে। অন্য কোনও প্রযুক্তি সংস্থায় যোগ দেওয়ার পরিবর্তে, লি শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বরফের রাজ্যে এমন একটি চাকরি বেছে নেন যা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
বিজ়নেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, লি নামের ওই প্রযুক্তি কর্মী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। ৫৯ বছর বয়সে চাকরি হারানোর ফলে অবসরের পরবর্তী পরিকল্পনাগুলি পাল্টাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। চাকরির মেয়াদ এক বছর থাকতেই হিউলেট প্যাকার্ড থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর বরফের মহাদেশে একটি চাকরি জুটিয়ে নিয়েছেন তিনি।
১৯৮৭ সালে প্রথম এইচপি-তে একজন ইন্টার্ন হিসেবে যোগদান করেন লি। পেশাদার জীবনে উন্নতির জন্য নিয়মিত চাকরি পরিবর্তনের পথে হাঁটেননি তিনি। একটি সংস্থাতেই কর্মজীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন লি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যদি তাঁকে ছাঁটাই করা না হত তাহলে কখনওই চাকরি ছাড়ার কথা কল্পনাও করতেন না বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন এইচপি-এর এই প্রাক্তন কর্মী। চাকরি হারানোর পর নতুন করে কাজ খোঁজা শুরু করার প্রায় এক মাস পর তাঁর এক বন্ধু ভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি খোঁজার পরামর্শ দেন। তখনই তাঁর অ্যান্টার্কটিকার কথা মনে পড়ে। পর্যটক হিসেবে এর আগে মহাদেশটিতে দু’বার ভ্রমণ করেছিলেন প্রৌঢ়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টার্কটিক কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করা একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেন লি। তাঁর আগের পেশাদার জীবনের চেয়ে সাপ্লাই টেকনিশিয়ান পদের বেতন কম হওয়া সত্ত্বেও চাকরিটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালে আন্টার্কটিকায় চলে যান লি।
লি-এর কথায়, পারিবারিক পরামর্শ মেনে তিনি আগের চাকরিজীবনে একটি পাকাপোক্ত সঞ্চয়ের ভিত তৈরি করে নিয়েছিলন। তাঁর কাঁধে কোনও ঋণের বোঝা নেই। ফলে বেতন কম হওয়া নিয়ে তাঁকে বেশি চিন্তা করতে হয় না। কর্পোরেট পরিবেশে কাজ করার পরিবর্তে, এখন একটি প্রত্যন্ত গবেষণাকেন্দ্রে হাতে-কলমে কাজ করেন লি।