পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে সমুদ্র-ড্রোন (সি-ড্রোন) ব্যবহার করল মার্কিন বাহিনী। ধ্বংস করল ইরানের একটি ডুবোজাহাজ এবং জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র। সোমবার তেমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। উল্লেখ্য, মার্কিন সামরিক ইতিহাসে এর আগে কখনও সি-ড্রোন ব্যবহার হয়নি। সামুদ্রিক ড্রোন দিয়ে ইরানের উপর হামলার একটি ভিডিয়োও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছে সেন্টকম। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
এক্স-এ করা পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রবিবার একাধিক ড্রোন ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুগুলিতে হামলা চালানো হয়। পোস্টটিতে বলা হয়, ‘‘একাধিক ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক সারফেস ড্রোন’ (একমুখী আক্রমণকারী জলপৃষ্ঠের ড্রোন) ব্যবহার করে সেন্টকম বাহিনী ইরানের একটি ডুবোজাহাজ এবং জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে সফল ভাবে আঘাত হেনেছে।’’ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত বন্দর আব্বাস বন্দরে তিনটি মানববিহীন ‘কর্সেয়ার’ জলযান বা সমুদ্র-ড্রোন এই হামলা চালায়। এই প্রথম মার্কিন বাহিনী কোনও যুদ্ধ অভিযানে ‘সি-ড্রোন’ ব্যবহার করল।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সাপের মতো কিলবিল করতে করতে জলের উপর দিয়ে বন্দর আব্বাস সংলগ্ন ইরানি জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটি জলযান। এর পর জলযানটি সোজা গিয়ে বন্দরে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ হয়। আকাশ ছোঁয় আগুনের গোলা। ধ্বংস হয়ে যায় জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের একাংশ। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। সেন্টকম দাবি করেছে, গত রাতের হামলাগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের ক্রমাগত আক্রমণের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হল যখন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পাকাপাকি ভাবে অবসানের লক্ষ্যে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে পরবর্তী যে কোনও আলোচনার ক্ষেত্রে এখন প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, হরমুজ় প্রণালী। রবিবার সকালে হরমুজ় প্রণালীতে একটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। কন্টেনারবাহী জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে যান নাবিকেরা। এর পর থেকে একে অপরের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে দেশ দু’টি। ওয়াশিংটন ইরানের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানছে। জবাবে কাতার, বাহারিন, জর্ডন এবং ওমানের মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান।
আরও পড়ুন:
তবে ইরানের বন্দরে সমুদ্র-ড্রোন দিয়ে মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই আমেরিকার সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, সোমবার তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংক্রান্ত সরঞ্জাম এবং ছোট নৌকা-সহ ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।