ডিজিটাল মাধ্যমে কথোপকথনের উপর মানুষের নির্ভরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, আবেগ আরও সংক্ষিপ্ত ভাবে প্রকাশ করার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইমোজি। এগুলি মানুষকে শব্দ ছাড়াই অনুভূতি প্রকাশ করতে সাহায্য করে। সাধারণ টেক্সট মেসেজকে আরও অভিব্যক্তিপূর্ণ কথোপকথনে রূপান্তরিত করতে পারে ইমোজি। যদিও বেশিরভাগ ইমোজি দ্বিমাত্রিক বা ২ডি। গুগ্ল সম্প্রতি নোটো থ্রিডি চালু করেছে, যা প্রচলিত ফ্ল্যাট ইমোজিগুলিকে আরও গভীরতা, অনুভূতি এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ত্রিমাত্রিক চরিত্রে রূপান্তরিত করেছে। থ্রিডি ইমোজির এই নতুন সংগ্রহে একটি মজাদার নতুন নকশাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই নকশায় জনপ্রিয় হতবাক মুখের ইমোজির একটি নিতম্ব যোগ হয়েছে। আর তা দেখে হাসি চাপতে পারছেন না নেটাগরিকেরা। ইতিমধ্যেই এক্সে (সাবেক টুইটার) ভাইরাল হয়েছে পোস্টটি। তবে তার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সম্প্রতি একটি ব্লগ পোস্টে গুগ্ল ব্যাখ্যা করেছে, “ইমোজির মূল ২ডি সংস্করণকে ৩ডি-তে রূপান্তর করতে গিয়ে ডিজ়াইনারদের প্রচুর অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে, আমাদের কিবোর্ড যা করতে পারত না, এই ইমোজি আবেগপ্রকাশের সেই গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু অনলাইনে আমাদের কথা বলার ধরন এক দশক আগের মতো নেই। তাই আমাদের ইমোজিরও তেমনটা হওয়া উচিত নয়। দ্বিমাত্রিক বা ২ডি-তে কেবল একটিমাত্র দৃষ্টিকোণের সমাধান করতে হয়। ত্রিমাত্রিক বা ৩ডি-র ক্ষেত্রে, লুকোনোর কোনও জায়গা নেই। যখন আমরা আমাদের অ্যাসেটগুলির ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিকোণ কল্পনা করতে শুরু করলাম, তখন আমরা এমন সব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে লাগলাম, যেগুলির ব্যাপারে ইউনিকোড আমাদের কখনও সতর্ক করেনি। তার মধ্যে একটি হল স্মাইলি ফেসের পিছনের দিকটা দেখতে কেমন?”
গুগ্ল চারটি ছবি শেয়ার করেছে যেখানে তাদের হতবাক মুখের ইমোজিটি সামনে থেকে পেছনে ঘুরছে এবং শেষ ছবিতে দেখা যায় এর মাথার পিছনে ‘নিতম্ব’ রয়েছে। তবে, সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই নকশাটি কেবলমাত্র রসিকতা করে করা। তাদের পোস্টে লেখা ছিল, “শুধু মজা করছিলাম! কিন্তু, একবার ভাবুন তো আসলে কী রয়েছে হাসিমুখের পিছন দিকে!” খবর, চলতি বছরের শেষ দিকে পিক্সেল ফোনগুলিতে নোটো ৩ডি সংগ্রহটি চালু হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে এটি অন্যান্য গুগ্ল অ্যাপ এবং সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলিতেও সম্প্রসারিত হবে। নকশাগুলি ‘ওপেন সোর্স’ হবে বলেও নিশ্চিত করেছে গুগ্ল।
চিত্রলিপি, লোগোগ্রাম, ভাবলিপি বা স্মাইলি নামেও পরিচিত এই ইমোজি-র উৎপত্তি ১৯৮০-এর দশকে। সেই সময়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্কট ফাহলম্যান পরামর্শ দিয়েছিলেন, আনন্দ এবং দুঃখপ্রকাশের মতো আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে ইমোটিকনগুলি সম্ভবত ভাষার স্থান নিতে পারে। ১৯৯৯ সালে এক জাপানি ডিজ়াইনার একটি মোবাইল কোম্পানির জন্য প্রথম ইমোজি সেট তৈরি করেন, যা বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি স্থাপন করে। ২০০৭ সালে, গুগ্লের একটি টিম ইমোজিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামের কাছে আবেদন করে। ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম হল একটি অলাভজনক সংস্থা যা কম্পিউটার জুড়ে টেক্সট স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখে। ২০১১ সালের মধ্যে, অ্যাপল আইওএস-এ একটি আনুষ্ঠানিক ইমোজি কীবোর্ড চালু করার পর ইমোজি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে, যার ফলে এটি অনেক দেশে সহজলভ্য হয়ে ওঠে।