যন্তর মন্তরে ৩৭ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর উদ্যাপনে মেতেছিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’-র সদস্যেরা। সেই উদ্যাপনের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তে সমাজমাধ্যমে তীব্র কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছে সিজেপি নেতৃত্বকে। তবে, ‘আরশোলা’দের নেতা সৌরভ দাস যুক্তি দিয়েছেন, “আমরা নাচ-গানের মধ্য দিয়েও প্রতিবাদ জানাতে পারি।”
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে ‘আরশোলা’রা। তার পরে বিজয়োৎসবে মাতেন তাঁরা। দিল্লির একটি হোটেলে সিজেপির সদস্যদের উদ্যাপনের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পরে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
একাধিক সূত্রের দাবি, দিল্লির ওই হোটেলে গানের তালে তালে নাচতে দেখা গিয়েছে সিজেপির নেতৃত্বকে। ছিলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার মতো মাথারাও। ৩৭ দিনের দীর্ঘ আন্দোলন শেষে এমন নাচ-গান করে উদ্যাপনে তীব্র বিতর্ক সমাজমাধ্যমে। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, যন্তর মন্তরে দীর্ঘ আন্দোলনের ঠিক পরেই এমন পার্টি কতটা যুক্তিসঙ্গত। এই পার্টির আয়োজনে টাকা কারা দিল সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সাফাই দিয়েছেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পার্টি করে উদ্যাপনের বিষয়টি সমর্থন করে তিনি বলেন, “এটি তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যাপন। যা দেখিয়ে দিল ‘জেন জ়ি’ কী ভাবে আন্দোলন বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁদের এই বিষয়ে কোনও ধারণাই নেই। পাল্টা কটাক্ষের সুরে তিনি আরও মন্তব্য করেন, “এর থেকেই বোঝা যায়, সরকার এবং তথাকথিত সংবাদমাধ্যম ‘জেন জ়ি’ বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের ভাষা এবং মানসিকতা আদৌ বোঝেন না।”
সৌরভের যুক্তি, “প্রতিবাদ এবং উদ্যাপন, একে অপরের পরিপন্থী নয়। পরিবর্তনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আজকের প্রজন্ম বিভিন্ন উপায়ে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করে থাকেন, যা চিরাচরিত আন্দোলনের ধরন থেকে ভিন্ন।” তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় বসে থাকতে পারি। নাচের ছন্দেও প্রতিবাদ জানাতে পারি। ‘কোল্ড কফি’ খেতে খেতেও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে পারি। আগের প্রজন্মের চোখে আন্দোলন যেমন হওয়া উচিত বলে মনে করা হয়, সেই ছাঁচে না থেকেও আমরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করতে পারি (কাউকে ছোট করার জন্য এ কথা বলছি না!)।” সিজেপি নেতার কথায়, “সমালোচকেরা অভিযোগ করতেই পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের আমাদের সঙ্গেই মানিয়ে চলতে হবে!”