অভিনেতা থেকে নায়িকা, এমনকি তাবড় রাজনীতিবিদদেরও ‘ডিপফেক ভিডিয়ো’ বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সমাজমাধ্যমে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও রয়েছে। ডিপফেক, বিকৃত কনটেন্ট এবং অপপ্রচার রুখতে সম্প্রতি প্রযুক্তি সংস্থা মেটাকে অ্যালগরিদম নতুন করে সাজানোর নির্দেশও দিয়েছে কেন্দ্র। এরই মাঝে সেই একই ঘটনা ঘটে গেল তরুণী সমাজমাধ্যম প্রভাবীর সঙ্গে। শুধু তাই নয় তরুণীর দাবি, এই ঘটনার জেরে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
২২ বছর বয়সি ওই বিষয়স্রষ্টা মুসকান কারিয়া অভিযোগ করেন, এআই দিয়ে তৈরি ওই ভিডিয়োয় তাঁকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষত, যখন তাঁর কাছের মানুষেরাও মেনে নিতে অস্বীকার করেন যে ওই ভিডিয়োটি আসল নয়। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি যে নকল, তা প্রমাণ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ‘মুসকানকারিয়া’ নামে ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মুসকান প্রথমে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। আসল ফুটেজটি তাঁকে পাঠান। তাঁর দাবি, আসলে এটি ছিল একটি সাধারণ ভিডিয়ো যা তিনি নিজের অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। তিনি বলেন, পরে এআই ব্যবহার করে ভিডিয়োটি পরিবর্তন করে আপত্তিকর ভিডিয়োটি তৈরি করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, মে মাসের শেষ দিকে যখন নতুন বাড়ি খুঁজছিলেন, তখন ইনস্টাগ্রামে একটি মেসেজ পান। যেখানে একটি ভিডিয়ো দিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “এটা কি আপনি?” ভিডিয়োটি দেখে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। কারণ, সেটি যে নকল তা বিশ্বাসই করা যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে কারণ তাঁর পরিচিতেরাও ভিডিয়োটি দেখে ফেলেছিলেন।
ভুয়ো ভিডিয়োটি নিয়ে তাঁর অভিযোগের পর একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, মানুষ এই ধরনের ভিডিয়োকে আসল বলে মনে করেন। অথচ এআই টুলগুলি ক্রমশ বাস্তবসম্মত অথচ ভুয়ো বিষয় তৈরিতে আরও বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।” অবশেষে, পুলিশ ভিডিয়োটির নির্মাতাদের খুঁজে বার করে গ্রেফতার করেছে।