গুজরাতের বডোদরায় মঙ্গলবার ‘নমো ফর বিকশিত ভারত’ অনুষ্ঠানে র্যাম্পে হেঁটে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন, তখন নেপথ্যে বাজছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর বিখ্যাত বলিউড গান ‘আরি আরি’এবং বিখ্যাত ব্যান্ড কুইন-এর ক্লাসিক হিট গান ‘উই উইল রক ইউ’। এই দুই জনপ্রিয় গানের সমন্বয়ে তৈরি উদ্দীপনাময় ফিউশন ট্র্যাকের তালে তালে হেঁটে মঞ্চে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাততালি, উচ্ছ্বাস আর চিৎকারে ফেটে পড়েন সভায় উপস্থিত তরুণ প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রচারের উদ্দেশ্যে এমএসইউ প্যাভিলিয়ন গ্রাউন্ডে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রবেশ থেকে ভাষণ, সব কিছু নিয়েই নিজস্ব শৈলী এবং ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা। প্রায় চার হাজারেরও বেশি পড়ুয়া এবং তরুণ পেশাদারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ওই বিশাল জমায়েতের অনন্য রকস্টার ধাঁচের আয়োজন এবং প্রাণবন্ত আলাপচারিতা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। বিভিন্ন সৃজনশীল পোস্টার, বর্ণময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাঁর মধ্যে কোনওটিতে লেখা, “মোদীজি, আপনার ব্যক্তিত্ব সত্যিই আলাদা।” কেউ আবার লিখেছেন, “মোদীজি, আপনি দয়া করে হাসুন। আপনার হাসিই আমাদের অনুপ্রেরণা।” একদল উৎসাহী পড়ুয়া তাঁদের ফোনের ডিজিটাল পর্দায় উজ্জ্বল ভাবে ‘হ্যালো ফ্রেন্ডস’ লিখে অভিবাদন জানান তাঁকে। তা দেখে সত্যিই হেসে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের এমনই বিভিন্ন মুহূর্ত ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও সেই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সরকারি প্রচারমূলক কর্মসূচিগুলির ইতিহাসে এই প্রথম বার ‘বুকমাইশো’-তে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে যায়। ‘ভার্চুয়ালি ওয়েটিং’-এর তালিকায় সেই সময় ৪২,০০০-এরও বেশি মানুষ ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে ব্যাপক ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁর ভাষণ রেকর্ড করে এবং ফোনের স্ক্রিনে ‘হার্ট ইমোজি’ দেখিয়ে এতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে একটি আক্রমণাত্মক এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত প্রচার অভিযান শুরু করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহে এই উদ্যোগটি দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে ক্যাম্পাসের ভাষা, অত্যাধুনিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নীতির সমন্বয়ে একটি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে রূপান্তরিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের পর, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির কৌশল নিয়েছে বিজেপি। তারই অংশ হিসেবে আরও বড় আকারে এই প্রচার কর্মসূচি করছে ভারতীয় জনতা পার্টি।