রয়েছে তিন বছর কাজের অভিজ্ঞতা। সিনিয়র এআই ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন উত্তর ভারতের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়। তবে অফিস হায়দরাবাদে। প্রথমটায় বেশ ভালই চলছিল কাজ। প্রথম কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোজেক্টের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, গোলমাল বাধল অন্য জায়গায়।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যম রেডিটে ওই সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানান ওই সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর অভিযোগ, হিন্দি না বলতে পারা তাঁর পেশাগত উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই সংস্থার বেশির ভাগ সহকর্মীই হিন্দিতে কথা বলেন। কিন্তু, তিনি হিন্দি বলতে বা বুঝতে পারেন না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছোয় যে, একটা সময় তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে শুরু করেন। যদিও পোস্টটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
তিনি বলেন, “একটি প্রোজেক্ট শেষ করার সময়সীমা খুব কম ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। তার পরেই বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। ওই প্রোজেক্টে কাজ করার জন্য আরও একজন ডেভেলপার আনা হয়েছিল। আমিই তাঁকে বিভিন্ন নির্দেশ দিয়ে সাহায্য করেছিলাম। পরবর্তী কালে তিনি আমার করা কাজটি নিজের বলে সিনিয়রের কাছে উপস্থাপন করেন।” ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর দাবি, এ সবই হয়েছিল তিনি হিন্দিতে কথা বুঝতে না পারার কারণে। তিনি জানান, একটা সময় বুঝতে পারেন হিন্দিতে কথা বলতে না পারায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় কোনও ম্যানেজারের দায়িত্বে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ওই পোস্টেই তিনি প্রশ্ন করেছেন, শিক্ষা এবং পেশাগত প্রশিক্ষণ ইংরেজিতে হওয়ার পরেও কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য হিন্দি কেন গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, “আমি এই সংস্থা থেকে পদত্যাগ করতে চাই কারণ আমি কিছুই শিখছি না। আমার দক্ষতাও বাড়ছে না, উন্নতিও হচ্ছে না।”
পোস্টটিতে বেশ কয়েক জন কর্মক্ষেত্রে ভাষাগত অসুবিধার একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একজন জানান, তিনি এমন একটি সংস্থায় কাজ করতেন যেখানে সহকর্মীরা বেশির ভাগই কন্নড় ভাষায় কথা বলতেন এবং তিনি সেই ভাষা না জানায় কাজের সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই অফিস ছেড়ে দেন। আরও একজন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী ওই ইঞ্জিনিয়ারকে কাজের ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য হিন্দি শেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, কর্মক্ষেত্রে আঞ্চলিক এবং ভাষাগত পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে। একজন মন্তব্য করেছেন, “এই ধরনের আঞ্চলিকতা, ভাষাগত, ধর্মীয়, জাতিগত এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে পক্ষপাতিত্ব সর্বত্রই বিদ্যমান।”