মানুষ নাকি টাকা নিলে তা আর ফেরত দিতে চান না। এমনটা হামেশাই শোনা যায়। এর নানা নিদর্শনও আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। তবে কেরলের এক ব্যক্তি সেই ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের তৈরি করা নীতি মেনে কাজ করে হইচই ফেলে দিয়েছেন। ২৫ বছর আগে এক বন্ধুর থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন তিনি। অভিনব উপায়ে সেই বন্ধুকে খুঁজে বার করে টাকা ফেরত দিলেন সেই ব্যক্তি। তাও আবার সুদসমেত!
আরও পড়ুন:
প্রৌঢ়ের নাম মহম্মদ ইসমাইল। তিনি কেরলের পলক্কড়ের বাসিন্দা। কম বয়সে তিনি সৌদি আরবে কাজের সূত্রে গিয়েছিলেন। সাল ছিল ১৯৯০। তাঁর সঙ্গে একই কর্মক্ষেত্রে কাজ করতেন ইদলা লাচ্চানা। তাঁদের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই সময় দেশে ফেরার আগে ইসমাইলের অর্থের প্রয়োজন পড়ে। তিনি তখন ইদলার থেকে ১০০০ টাকা ধার নেন। কথা দিয়েছিলেন যে সেই টাকা তিনি ফেরত দেবেন।
তার পর দুই বন্ধুর জীবনসায়রে বহু জল গড়িয়ে যায়। ইসমাইলের অর্থসঙ্কট বাড়ে বই কমে না। ফলত টাকা ফেরতের দিন পিছোতে থাকে। তবে ইদলা কখনও সেই টাকা ফেরতের দাবি নিয়ে ইসমাইলের দরজায় হাজির হননি। হওয়ার উপায়ও ছিল না যদিও। আরব মুলুকে হওয়া বন্ধুদের কারও কাছেই একে অপরের ভিটের ঠিকানা ছিল না। সেই কারণে ইসমাইল চেয়েও টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না।
আরও পড়ুন:
দেখতে দেখতে ২৫ বছর পেরিয়ে যায়। এ বার ইসমাইল সিদ্ধান্ত নেন যে টাকা তাঁকে ফেরত দিতেই হবে। কিন্তু বন্ধুর বাড়ির ঠিকানা যে তাঁর কাছে নেই! তা হলে উপায়? সেটাও ইসমাইল খুঁজে বার করেন। সাহায্য করে গুগ্ল।
বন্ধুর বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানা বা ফোন নম্বর, কোনও কিছুই ছিল না ইসমাইলের কাছে। তিনি কেবল জানতেন যে তাঁর বন্ধু ধর্মপুরি নামের এক শহরে থাকেন। গুগ্লের সাহায্যে ইসমাইল জানতে পারেন যে তেলঙ্গনায় ধর্মপুরি শহরটি অবস্থিত। বন্ধুর বাড়ি খুঁজে পাওয়ার আশা মনে নিয়ে ইসমাইল ধর্মপুরি যান।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার ধর্মপুরিতে পৌঁছে ইসমাইল সেখানকার স্থানীয়দের ইদলার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা শুরু করেন। শেষে সেই দিন সন্ধ্যা নামার মুখে ইসমাইল ইদলার বাড়ি পৌঁছোন। ইদলার বাড়ির লোকজন হকচকিয়ে যান। তাঁদের আরও অবাক করে ইসমাইলের সেখানে পৌঁছোনোর গল্প। ইদলা সেই সময় বাড়ি ছিলেন না। কর্মসূত্রে তিনি সৌদি আরবেই রয়ে গিয়েছিলেন। ইদলার বাড়ির লোক তাঁর সঙ্গে তড়িঘড়ি যোগাযোগ করেন এবং জানতে পারেন যে টাকা ধার দেওয়ার সেই গল্প ইদলার আদৌ মনে নেই। তিনি সেই টাকার কথা ভুলেই গিয়েছেন।
দুই বন্ধুই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। ফোনে বেশ কিছু ক্ষণ তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন। সব শেষে ইসমাইল ইদলার পরিবারের হাতে ২৫০০০ টাকা তুলে দেন। ২৫ বছর ধরে ধার নেওয়া টাকার বোঝা ইসমাইল নিজের মাথায় বয়ে বেড়িয়েছেন। সেই কারণে এত দিন পর এসে সুদসমেত ২৫০০০ টাকা ফেরত দেওয়াই শ্রেয় মনে করেছেন ইসমাইল।