প্রথমে স্কুটারে ধাক্কা। তার পর হকি স্টিক ও লোহার রড দিয়ে মেরে প্রকাশ্যে হত্যা করা হল এক তরুণকে। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের ঘটনা। ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ভরা রাস্তায় নৃংশস ভাবে আক্রমণ করা হয় তরুণকে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, নিহত তরুণের নাম দেবেশ ওরফে বান্টি দীক্ষিত। শহরের ব্যস্ততম এলাকায় ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো আকারে তা ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
পুলিশের থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, পুরনো ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সন্দেহভাজন অভিযুক্ত নিহতেরই বাল্যবন্ধু পবন দিলীপ পরাশর। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর অভিযুক্ত পবন নিজেই সিডকো থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বলে খবর। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পবন তাঁর গাড়ি দিয়ে পিছন থেকে দেবেশের স্কুটারে ধাক্কা দেন। এই ধাক্কায় দেবেশ রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এর পর পবন একটি হকি স্টিক ও লোহার রড দিয়ে দেবেশের মাথা ও মুখে আঘাত করতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৩৬ বছরের তরুণ।
প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালেও দেবেশ ওরফে বান্টি জিমে গিয়েছিলেন। জিম থেকে ফিরে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি স্কুটারে করে বাড়ির দিকে রওনা হন। অভিযুক্ত পবন আগেই এলাকাটি রেকি করে গাড়ি নিয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। দেবেশ যখন বজরং চক থেকে বলীরাম পাটিল চকের দিকে মোড় নিচ্ছিলেন, তখন এই ঘটনাটি ঘটে।
এক্স হ্যান্ডলে ‘ভাইরালবাবা’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, দেবেশের স্কুটারটিকে সজোরে ধাক্কা মারে একটি সাদা রঙের গাড়ি। চালক ছিলন পবন। ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে, দেবেশ শূন্যে ছিটকে রাস্তার মাঝখানে গিয়ে পড়েন এবং তাঁর স্কুটারটি প্রায় ২০০ ফুট দূরে গিয়ে পড়ে। তার পরের দৃশ্যে দেখা গিয়েছে ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা দেবেশকে আঘাত করছেন পবন। তার পর তিনি তাঁর গাড়িতে চেপে পালিয়ে যান।
মৃত তরুণ সিডকো এন-৭ এলাকায় একটি মেস চালাতেন এবং অন্যান্য ব্যবসা ও সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্ত পবন ছিলেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধু। তাঁরা একই স্কুলে পড়েছেন। তাঁরা একটি হোটেল ও বারে একসঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীর কাজও করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক আধিপত্য নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। বিবাদ ধীরে ধীরে একটি গভীর শত্রুতায় পরিণত হয়। এর আগেও তাঁদের মধ্যে বহু বার বচসা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ জানতে সিডকো থানা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে বলে খবর।