Advertisement
E-Paper

তরুণীর পোশাকে ‘অস্বস্তি’ সহযাত্রী যুবকের, না তাকিয়ে দিলেন ‘ধৈর্যের পরীক্ষা’! ভাইরাল পোস্টে বিতর্কের ঝড়

বাসে বসে এক যুবক। উল্টোদিকে এসে বসলেন ‘স্বল্পবসনা’। কী এমন ঘটল তার পর, যে ‘অস্বস্তি’তে পড়তে হল যুবককে? কী করে বসলেন তিনি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৯

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

বাসে উঠে ফাঁকা আসন পেয়ে বসে পড়েন এক যুবক। দিব্যি যাচ্ছিলেন। কিছু ক্ষণ পরেই ‘বিপত্তি’! বাসটি কিছুদূর এগোনোর পর ‘অস্বস্তি’তে পড়লেন তিনি। কেন? কারণ, মহিলা সহযাত্রী স্বল্পবসনা! সম্প্রতি এমনই দাবি ঘিরে শোরগোল সমাজমাধ্যমে। যুবকের দাবি, তরুণীর পোশাক নাকি ‘অত্যন্ত ছোট’ হওয়ার কারণে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল তাঁকে! ঠিক কী ঘটেছিল বেঙ্গালুরুর বাসে?

সমাজমাধ্যম রেডিটে ‘টোয়েন্টিস অফ ইন্ডিয়া’য় ‘বর্ন_ফাংশন৩৬২৪’ হ্যান্ডল থেকে করা একটি পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে, এই প্রতিবেদনের সমস্ত দাবি এবং অভিযোগ, পোস্টদাতা এবং ওই পোস্টে মন্তব্যকারীদের নিজস্ব। পোস্টটির এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। পোস্টটিতে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই যুবক জানান, কয়েকটি স্টপেজ পেরোনোর পর বাসে ওঠেন এক তরুণী এবং তাঁর স্বামী। আসন ফাঁকা পেয়ে তাঁরা গিয়ে বসেন যুবকের ঠিক উল্টো দিকেই। তাঁর দাবি, ওই তরুণী এমন এক পোশাক পরেছিলেন যে যিনি সরাসরি তাকাতে পারছিলেন না। কারও পোশাক নিয়ে মন্তব্য না করতে চেয়েও তরুণীর পোশাককে ‘অত্যন্ত ছোট’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি জানান, তত ক্ষণে বাসের বাকি আসনগুলি ভরে যাওয়ায় তিনি স্থান পরিবর্তনও করতে পারেননি। তার বদলে করে ফেলেন এক অদ্ভুত কাণ্ড।

তিনি আরও জানান, যুগল এসে বসার কিছু ক্ষণ পর থেকে অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেছিলেন তিনি। দিনকয়েক আগে শেয়ার করা ওই পোস্টে যুবক বলেছেন, “আমি সোজাসুজি তাকাতে পারছিলাম না। কারণ, মনে হচ্ছিল যেন না চাইলেও আমি তরুণীর দিকেই তাকাচ্ছি।” গণপরিবহণে সকলেরই পোশাক এবং বাহ্যিক সাজসজ্জা নিয়ে সহযাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রাখা উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা পুরুষেরাও অস্বস্তি বোধ করি। কিন্তু আমাদের কী-ই বা করার আছে। আমি তো তাঁর দিকে তাকাতেই চাইছি না, এ দিকে কারও পোশাক নিয়ে অভিযোগও করা যায় না।” শেষমেশ এক বন্ধুকে ফোন করে এবং জালনার বাইরে দৃষ্টি রেখে কথোপকথনে গভীর ভাবে মগ্ন থাকার ভান করে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন ওই পোস্টদাতা। তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম যেন ভুলবশতও তাঁর সঙ্গে চোখাচোখি না হয় এবং ওই তরুণী অস্বস্তি বোধ না করেন।” প্রায় চার কিলোমিটারের যাত্রায় এমন অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘ধৈর্যের পরীক্ষা’ বলেও দাবি করেছেন। সাত দিন পর সমাজমাধ্যম থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয় ওই পোস্ট। তবে পোস্টের কমেন্টগুলি এখনও রয়েছে।

এ দিকে, পোস্টটিতে ওই যুবককে কটাক্ষে বিদ্ধ করেছেন নেটাগরিকেরা। দু’-একজন তাঁকে সমর্থন করেছেন ঠিকই। তবে, বেশিরভাগই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। একজন বলেছেন, “যিনি পোশাকটি পরে আছেন তাঁর যখন পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তখন আপনার অস্বস্তি বোধ করার কী আছে? স্বাভাবিক থাকুন। তাঁকে দেখুন, বাসের বাইরের পরিবেশ দেখুন, বাসের ভিতরে অন্যদের দেখুন, নিজের ফোনে ব্যস্ত থাকুন, না হলে চোখ বুজে রাখুন, একটু ঘুমিয়ে নিন।” অন্য এক জন লিখেছেন, “আমি বলব, বেশ তো অস্বস্তি বোধ করুন। মহিলারা তাঁদের যা খুশি পরতে পারেন। তাঁদের শরীরের প্রতিটি অংশকেই যৌনতার প্রতীক হিসাবেই দেখা হয়! তাই অস্বস্তি বোধ করতে থাকুন যত ক্ষণ না আপনি বুঝতে পারছেন যে এতে বিশেষ কিছু নেই, এটি কেবলই মানবদেহ।” অপর একজন মন্তব্য করেছেন, “আমার মনে হয় আপনি বিষয়টিকে যত বড় করে দেখছেন, আসলে তা নয়। আরাম করে হেলান দিয়ে, চোখ বন্ধ করে গন্তব্যে পৌঁছোনো পর্যন্ত বাসের যাত্রাটি উপভোগ করলেই হত। অথবা ফোনে গেম খেলতে পারতেন। অথবা যেমনটা বললেন, জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকতে পারতেন। মনে রাখবেন, অন্য কারও কোনও কাজের জন্য নিজেকে এতটা প্রভাবিত হতে দেওয়ার অর্থ এটা আসলে আপনারই দুর্বলতা।”

Dress Code Viral News Bengaluru Public Place

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy