সমুদ্রে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন দুই মৎস্যজীবী। ৫ দিন গরুখোঁজার পর উদ্ধারকারীরা তাঁদের খুঁজে পেলেন একটি কুলারের মধ্যে। কিন্তু কী করে সম্ভব? চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোয়। সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিয়াপাস উপকূলের কাছে মাছ ধরার নৌকা ডুবে যাওয়ার পর মেক্সিকোর দুই মৎস্যজীবী একটি কুলারের (খাবার এবং পানীয় ঠান্ডা রাখার বাক্স) ভেতরে আশ্রয় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন সমুদ্রে টিকে ছিলেন।
৫৩ বছর বয়সি ড্যানিয়েল গুয়েরেরো মার্টিনেজ় এবং তাঁর বন্ধু ৩২ বছর বয়সি হোসে লুই পোর্টেলাস ভিলেগাস গত বৃহস্পতিবার ‘ক্যামারোনেরা’ নামের নৌকায় করে পারেডন নামের শহর থেকে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল সামুদ্রিক মাছ ধরে আনা। কিন্তু নৌকাটি মাঝসমুদ্রে ডুবে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দুই মৎস্যজীবীর সঙ্গে। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, প্রথমে জেলেদের সম্ভাব্য যাত্রাপথ ধরে তল্লাশি চালানোর জন্য নৌকা পাঠানো হয়েছিল। পরে প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল এলাকা জুড়ে তল্লাশি চালানোর জন্য একটি বিমান ব্যবহার করা হয় এবং মেক্সিকোর নৌবাহিনীও এই অভিযানে যোগ দেয়। জেলেরা নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর, উদ্ধারকারীরা অবশেষে চিয়াপাস উপকূল থেকে প্রায় ১৫০ মাইল দূরে তাঁদের খুঁজে পান। খোলা সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তাঁদের একটি কুলারের ভেতরে গাদাগাদি করে থাকতে দেখা যায়। সম্ভবত এই কুলারটিই তাঁদের ভেসে থাকতে সাহায্য করেছিল।
আরও পড়ুন:
‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ জানিয়েছে, সমুদ্রে টিকে থাকার মরিয়া প্রচেষ্টার সময় মার্টিনেজ় ও ভিলেগাসকে কোনও খাবার বা জল ছাড়াই পাঁচ দিন কাটাতে হয়েছিল। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত ওই দুই ব্যক্তিকে কুলার থেকে বার করে নিজেদের নৌকায় তুলে নেন। তড়িঘড়ি চিকিৎসা শুরু হয় ক্লান্ত এবং মৃতপ্রায় দুই মৎস্যজীবীর।
মেক্সিকোর নৌবাহিনী জানিয়েছে, জাহাজ, ইন্টারসেপ্টর বোট এবং বিমানের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানের ফলেই মৎস্যজীবীদের খুঁজে পাওয়া এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সেই নাটকীয় উদ্ধার অভিযান সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে কুলার থেকে ওই দুই মৎস্যজীবীকে টেনে তোলার ছবিগুলি নজর কেড়েছে নেটাগরিকেরা। সমুদ্রে দিনের পর দিন আটকা পড়েও তাঁদের বেঁচে থাকার বিষয়টি সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিস্মিত করেছে।