হড়পা বানে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে হিমালয়ের কোলের দেশ। বহু মানুষের মুত্যু ঘটেছে। শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী। এরই মাঝে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। উদ্ধার করা এক বৃদ্ধ জানিয়েছেন, কাদার নীচে চাপা পড়ে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা মিলেছে সেই বৃদ্ধের। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, বন্যার হাত থেকে বাঁচতে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী বাড়ির ছাদে উঠে পড়েন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কাদার দেওয়াল তাঁদের বাড়ি গ্রাস করে। স্ত্রীকে আঁকড়ে ধরে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তা পারেননি। চোখের সামনে কাদাচাপা পড়ে যান বৃদ্ধা, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর স্বামী। ওই কাদার মধ্যেই ছিলেন তিনিও। প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা পরে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এসে বৃদ্ধকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায়। পত্নীর মৃত্যু হয়েছে বলেই ধারণা বৃদ্ধের। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃদ্ধার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, ওই বৃদ্ধের নাম কেশব প্রসাদ বারাল। বয়স ৬৮ বছর। বারালের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রীর নাম জানা যায়নি। নেপালের রাসুয়া জেলার বাসিন্দা তাঁরা। তিব্বতের সীমানার কাছে অবস্থিত এই জেলা।
‘এমেকা২০২৬’ নামের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটির ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ভিডিয়োটি দেখে বেদনার্ত হয়েছেন নেটাগরিকেরা। নেপালবাসীদের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন প্রায় সকলেই।
চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলির ওপর আছড়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায় নিমেষে। নেপাল এবং তিব্বতের হিমালয়-সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে সেই হড়পা বানে অন্তত ১৬৫ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। ২৯১ বিদেশি-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয় (৩৭ অনাবাসী-সহ)।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের মতে, নিখোঁজ হওয়া অন্যদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার নাগরিকেরাও রয়েছেন। তাঁদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ভারতের কিছু এলাকাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সীমান্তের উভয় প্রান্তের কর্মকর্তারা বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন জেলায় বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
- বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
- হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
-
নিজের এক মাসের বেতন একটি পরিবারকে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী! নেপালে নিখোঁজদের পরিজনকে সব রকম সহায়তারও আশ্বাস
-
চিনে নিরাপদ শিবিরে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকেরা? নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ ৩৭ জনের সন্ধানে নবান্নের দ্বারস্থ পরিবার
-
নিখোঁজদের পরিবারকে ডিএনএ নমুনা দিয়ে যেতে বলল কেন্দ্র! গভীর রাতে তিব্বতে ভূমিকম্প, কাঁপল নেপালও
-
হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে খামার, ক্ষতিগ্রস্ত চাষজমি, সব হারিয়ে দিশাহারা নেপালের কৃষকেরা
-
নেপালের হড়পা বানে অনিশ্চিত চিনের স্বপ্নের প্রকল্প, রেলপথে নেপাল এবং তিব্বতকে আর জোড়া যাবে কি? সংশয়ে বেজিং