পাইলটদের মধ্যে হাতাহাতির সময় হট্টগোল। ছড়িয়েছে বিশৃঙ্খলা। আর্তনাদ করছেন যাত্রীরা। ফ্লাই দুবাইয়ের দুঃস্বপ্ন ধরা পড়ল ভিডিয়োয়। ফ্লাই দুবাইয়ের তেল আভিভগামী বিমানের ভেতর থেকে প্রকাশ্যে আসা নতুন ভিডিয়োয় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির দৃশ্য ধরা পড়েছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োগুলি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আকাশে থাকা অবস্থায় ওই বিমানের অন্দরে কাঁপা হাতে ক্যামেরাবন্দি একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পরিস্থিতি যখন জটিল হয়ে উঠছিল, তখন যাত্রীরা তাঁদের আসন থেকে উঠে নড়াচড়া করছেন। অনেকে বিমানের মাঝের করিডর দিয়ে চলাফেরা করছেন। সকলের চোখেমুখে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ স্পষ্ট। ভিডিয়োয় চিৎকার এবং কান্নার শব্দও শোনা যাচ্ছিল। যাত্রীদের দেখে মনে হচ্ছিল তাঁরা বোঝার চেষ্টা করছেন যে আসলে কী ঘটছে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। আবার বিমান অবতরণের ঠিক পরের দৃশ্যগুলিতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচার আনন্দে স্বস্তি প্রকাশ করতে করতে ইজ়রায়েলি যাত্রীরা ‘ওদ আভিনু চাই’, যার অর্থ ‘আমাদের পিতা এখনও জীবিত’ স্লোগান দিচ্ছেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাততালি দিতে দিতে গানও গাইছেন বিমানযাত্রীরা। সেই ভিডিয়োগুলি সমাজমাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বুধবার বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি প্রায় ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় ককপিটে দুই চালকের মারামারির জেরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় বিমানটি। জানা গিয়েছে, ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানের ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে রক্তারক্তি কাণ্ডে আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইজ়রায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পাইলট আর পাইলটকে ছুরি দিয়ে কোপান। ককপিটের ভিতরে যখন দুই পাইলটের মারামারি চলছিল, সেই চিৎকার যাত্রীদের কানে পৌঁছোয়। তাঁদের মধ্যে এক জন ককপিট খুলতেই দেখেন, এক পাইলট নীচে পড়ে রয়েছেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছে। পরে বিমানটি উত্তর সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। দুই পাইলট ওমানের নাগরিক বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই পাইলটের মধ্যে এক জন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বিমান ক্র্যাশ করানোর হুমকি দিচ্ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, আত্মহত্যারও হুমকি দেন। ককপিটের মধ্যে ভয়ঙ্কর এই নাটকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজ়েড ১০৭৩ বিমানটি ওড়ার কিছু পরেই সেটি থেকে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমান তখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ২ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। বিমানে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অফ ইজ়রায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় বিমান থেকে, তা থেকে একটি ভ্রম সৃষ্টি হয়েছিল যে, বিমানটি অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু পরে ইজ়রায়েলের তরফে অপহরণের ঘটনার কথা খণ্ডন করা হয়। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি সঙ্কেত পাওয়ার পর পরই ইজ়রায়েল এবং সৌদি আরব তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠিয়েছিল।
মিরিয়াম নামের এক যাত্রী সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানান, উড়ান শুরুর প্রায় দু’ঘণ্টা পর তিনি ককপিট থেকে চিৎকার শুনতে পান। তিনি জানান, ককপিটের দরজা খোলার পর তিনি এক জন পাইলটকে আহত অবস্থায় এবং তার কাছেই একটি ফোল্ডিং ছুরি পড়ে থাকতে দেখেন। বিমানের ভেতর থেকে ক্যামেরাবন্দি ভিডিয়ো এবং ছবিতে এক জন যাত্রীর পোশাকেও রক্ত লেগে থাকতে দেখা গিয়েছে।
আবার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীদের মধ্যে কয়েক জন পাইলট ছিলেন। তাঁরাই বিমানটিকে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। ওই পাইলটেরা যদি ককপিটের দখল না নিতেন, তা হলে ২০০১-এর আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন ইজ়রায়েলের এক শীর্ষ আধিকারিক।