কাজের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বরখাস্ত করেছিল সংস্থা। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে মামলা করেছিলেন তরুণী। তরুণীর পক্ষেই রায় দিল আদালত। ক্ষতিপূরণ বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা পেলেন ওই কর্মী। ঘটনাটি সিঙ্গাপুরের।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, শিক্ষানবিশ হিসাবে উল্লিখিত সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন তরুণী কর্মী। কাজেকর্মে ত্রুটির অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করে সংস্থা। তরুণীর অভিযোগ, বরখাস্ত করার আগে লিখিত বা মৌখিক কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি তাঁকে। এমনকি, তাঁর কাজ প্রত্যাশার চেয়ে নিম্ন মানের ছিল, এ কথাও কখনও বলা হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁর কাছ থেকে কোন মানদণ্ড পূরণের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করেনি সংস্থা। যদিও ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই তিনি আদালতে তাঁর বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সিদ্ধান্তটি অন্যায্য, এই দাবিতে সিঙ্গাপুরের এমপ্লয়মেন্ট ক্লেমস ট্রাইবুনালে (ইসিটি) একটি অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। তাঁর আরও দাবি, কোরীয় ভাষা বলতে না পারার কারণেই সংস্থা তাঁকে ছাঁটাই করেছে। যদিও কর্মক্ষেত্রে প্রধানত ইংরেজিই ব্যবহৃত হত বলে জানিয়েছেন ওই তরুণী। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তিনি বাইরে আলোচনা করেছেন, এই দাবিতেও সংস্থার বিরাগভাজন হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে ওই তরুণীর পক্ষেই রায় দিয়েছে আদালত। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে নিয়োগকর্তা কোনও কর্মীর কাজের মানদণ্ড স্পষ্ট করেননি, তিনি কোনও কর্মীর সেই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতাকে তাঁর অযোগ্যতার প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন না। দুর্ভাগ্যবশত, সংস্থাটি শিক্ষানবিশ পর্বের কাজকর্মের যে পরিকল্পনা করেছিল, সে ভাবে বাস্তবায়িত করেনি এই বিষয়টিও স্পষ্ট করে আদালত। তবে, ভাষাগত বৈষম্য বা তথ্যফাঁসের কারণে বরখাস্তের বিষয়টিকে আমল দেয়নি আদালত।
আরও পড়ুন:
ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২২ লক্ষ টাকা) দেওয়া হয় তরুণীকে। যদিও তিন মাসের মোট বেতন ৩৪,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার প্রাপ্য ছিল তাঁর। কিন্তু ক্ষতিপূরণের সর্বোচ্চ সীমা ৩০,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার হওয়ায় সেটিই পেয়েছেন তিনি। বিচারক এ-ও জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট সীমা না থাকলে অন্যায় ভাবে বরখাস্তের ফলে সৃষ্ট মানসিক কষ্টের জন্য তিনি অতিরিক্ত দুই মাসের বেতন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতেন সংস্থাকে। এর ফলে মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়াত ৫৭,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার।