Advertisement
E-Paper

‘ভদ্র পোশাক পরুন’, বিনা অনুমতিতে তরুণীদের মেসে সিসিটিভি লাগিয়ে ভদ্রতার নিদান দিয়ে গেলেন বাড়ির মালিক!

সাত জন তরুণী একসঙ্গে একটি তিন কামরার মেসবাড়িতে থাকেন। সেই বাড়ির মালিক সেখানে থাকেন না। এক দিন সকালে বাড়ির মালিক হঠাৎ এসে দরজায় কড়া নাড়েন। তার পর জানান, বসার ঘরে তিনি একটি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৫৫
cctv camera

—প্রতীকী ছবি।

দিল্লির মেসবাড়িগুলির অবস্থা ঘিরে তোলপাড় দেশ। ঘিঞ্জি ঘর, নেই আলো-বাতাস চলাচলের জায়গা। বাড়িগুলির নির্মাণও অসুরক্ষিত। এ সবের মাঝেই উঠে এল মুম্বইয়ের এক মেসবাড়ির মালিকের করা অদ্ভুত কাণ্ডের কথা। সাত জন তরুণী মিলে সেই মেসবাড়িতে থাকেন। অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি না নিয়েই সেই মেসবাড়ির মালিক বসার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন। ভাইরাল পোস্টে তেমনটাই দাবি করা হয়েছে। যদিও পোস্টটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

ভাইরাল সেই পোস্ট অনুযায়ী, সাত জন তরুণী একসঙ্গে একটি তিন কামরার মেসবাড়িতে থাকেন। সেই বাড়ির মালিক সেখানে থাকেন না। এক দিন সকালে বাড়ির মালিক এসে তাঁদের দরজায় কড়া নাড়েন। তার পর জানান, বসার ঘরে তিনি একটি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন। তরুণীদের দাবি, ক্যামেরাটি লাগানোর আগে বাড়ির মালিক তাঁদের থেকে অনুমতি পর্যন্ত নেননি। সেটি লাগানোর পর তাঁদের এসে জানানো হয়েছে। সে ব্যাপারে তরুণীরা বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাও করেন। উত্তরে তিনি জানান, পুলিশ থেকে নির্দেশ এসেছে সিসিটিভি লাগানোর। তরুণীরা জানান, সে ক্ষেত্রে আইনি পথে প্রতিবেশীদের অনুমতি নিয়ে বাড়ির মালিক মেসবাড়ির বাইরেও সিসিটিভি লাগাতে পারতেন। বাড়ির ভিতরে কী ভাবে লাগালেন?

এখানেই শেষ নয়। তরুণী আরও জানান যে, বাড়ির মালিক নাকি তরুণীদের নিদান দেন যে বসার ঘরে যাওয়ার সময় যেন ‘ভদ্র পোশাক’ পরে যাওয়া হয়। পোস্টে তেমনটাই দাবি করেছেন তরুণী। তরুণী জানান যে, বসার ঘরে সব সময় মালিকের বলে দেওয়া ‘ভদ্র পোশাক’ পরে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। দিনের বেশির ভাগ সময় তাঁরা সেখানেই কাটান। শোয়ার ঘরে কোনও টেবিল না থাকায় খাওয়া এবং পড়ার জন্য বসার ঘরই ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে মেসবাড়িতে তাঁদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তরুণীরা। সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে বাড়ির মালিকের সাতটি মেয়ের উপর নজরদারি রাখার বিষয়টি মনে ধরেনি তরুণীদের।

তরুণীরা জানান, মেসবাড়িতে তাঁরা যদি কোনও আত্মীয় বা বন্ধুকে নিয়ে আসতেন, তখনও যদি বাড়ির মালিক কিছু বলতেন, কিছু বলার থাকত না। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন তুলতেই পারেন বাড়ির মালিক। বাড়ির বাইরে কেন সিসিটিভি বসানো হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাড়ির মালিক নাকি বলেন, ‘‘আপনারা আমার ভাড়াটে হয়েই শুনছেন না, বাইরের লোকজন কেন শুনবেন।’’ তরুণীদের দাবি, বাড়ির মালিক তাঁদের উপর এ ভাবে সিসিটিভির নজরদারির বিষয়টি চাপিয়ে দিতে পারেন না। কথোপকথনের শেষে বাড়ির মালিক তরুণীদের জানিয়েছেন, সিসিটিভি ক্যামেরাটি বাইরে লাগানোর বিষয়ে তিনি ভেবে দেখবেন। পোস্টের শেষে তরুণী জানিয়েছেন, খাস মুম্বইতে যে তাঁকে এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে হবে, তা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করেননি।

‘ওকেভেহিকেল২৯৯১’ নামের রেডিট অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনাটি পোস্ট করেছেন এক তরুণী। পোস্টটি ভাইরালও হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রচুর নেটাগরিকের নজর কেড়েছে পোস্টটি। অধিকাংশ নেটাগরিক তরুণীকে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানোর কথা বলেছেন। কিন্তু উত্তরে তরুণী জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর সঙ্গীরা সকলেই সদ্য কর্মজীবনে পা দিয়েছেন বা এখনও পড়াশোনা করছেন। এখনই তাঁরা কেউ থানা-পুলিশের ঝামেলায় জড়াতে চাইছেন না। বহু নেটাগরিক তরুণীদের অন্য বাড়ি খুঁজে নেওার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই উত্তরে তরুণী জানিয়েছেন, মুম্বইতে বাড়ি পাওয়া সহজ বিষয় নয়। এক সপ্তাহ আগেই তাঁরা এই মেসবাড়িতে থাকা শুরু করেছেন। এর মধ্যে পুনরায় নতুন বাড়ি খুঁজে সেখানে যাওয়া তাঁদের পক্ষে এক প্রকার অসম্ভব। নেটাগরিকদের আশ্বস্ত করে তরুণী বলেছেন, বাড়ির মালিককে বলে সিসিটিভি ক্যামেরার তার খুলে রেখেছেন তাঁরা। তরুণীরা আশা করছেন, বাড়ির মালিক সিসিটিভি ক্যামেরাটি বাড়ির বাইরে লাগানোর দাবি মেনে নেবেন।

Bizarre Incident Bizarre Mumbai Girls hostel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy