সমুদ্রে সাঁতরে, নৌকায় করে সৈকতের ব্রেকওয়াটার (ঢেউ-প্রতিরোধক বাঁধ) এবং বেড়াজাল টপকে পিল পিল করে একটি শহরে ঢুকছেন একদল মানুষ। ঘটনাটি স্পেনের। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মরক্কোর সীমান্তবর্তী স্পেনীয় শহর সেউতায় প্রবেশ করেন হাজার হাজার মরক্কোবাসী। এর ফলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ঘটনায় বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয় বলেও জানা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলির দাবি, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বেশি পাওয়ার আশাতেই এমন বিপুল সংখ্যক অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এঁদের মধ্যে বেশির ভাগ পুরুষ হলেও, নারী এবং শিশুদের নিয়ে একাধিক পরিবারকেও সীমান্ত টপকাতে দেখা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
এরই মাঝে একটি মর্মস্পর্শী ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, কাঁদতে কাঁদতে স্পেনীয় সৈন্যদের কাছে কোনও বিষয়ে অনুরোধ করছে এক বালক। খবর, ওই নাবালকের বয়স মাত্র ১২। বিপুলসংখ্যক মরক্কো অভিবাসীদের মধ্যে সে-ও একজন। তাকে যেন মরক্কোয় ফেরত পাঠানো না হয়, এই অনুনয়ই করে চলেছিল সে। ঘটনাটি গত সোমবারের। সেউতা সীমান্তে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আগমনের ফলে মারাত্মক ভিড় সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সেখানে শত শত অভিভাবকহীন নাবালক-নাবালিকার আটকা পড়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি দেখে পদক্ষেপ করেন কয়েক জন সাংবাদিক এবং স্থানীয়। তখন, সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে তার প্রত্যর্পণ থামিয়ে দেওয়া হয়। স্পেনীয় সেনাবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এই নির্দেশ দেন বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ওই বালকের অভিভাবকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে খবর। স্পেনীয় আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের মতো অভিভাবকহীন নাবালক-নাবালিকাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা যায় না। তাদের বিশেষ ভাবে দেখভালের দায়িত্ব নেয় সরকার।
‘আলআরাবিয়া_ইং’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটির ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ ভিডিয়োটি দেখেছেন। সাত হাজারের কাছাকাছি ভালবাসার চিহ্ন আঁকা হয়েছে তাতে। অভিভাবকহীন ওই নাবালকের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তার অসহায়তায় চোখও ভিজেছে তাঁদের। স্পেনীয় সেনাবাহিনীর এমন মানবিক পদক্ষেপকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন বহু নেটাগরিক।