১১ কোটি টাকা জেতা লটারির টিকিট ফেলে দিয়েছিলেন বিজয়ী! উদ্ধার করলেন একদল সাফাইকর্মী। আসল মালিককে ফিরিয়েও দিলেন টিকিটটি। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ইটালির বিটোনতো শহরে। জানা গিয়েছে, বিটোনতো শহরে বাসিন্দা এক তরুণী তাঁর ১ মিলিয়ন ইউরো (১০.৯ কোটি টাকা) জেতা লটারির টিকিট ভুলবশত আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দিয়েছিলেন। তার পরেই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। দু’দিন পর সাফাইকর্মীরা সেটি উদ্ধার করেন। টিকিট ফিরিয়ে দেন তরুণীকে।
খবর, শহরের একটি দোকানে টিকিটটি যাচাই করতে গিয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু তাঁকে বলা হয় যে লটারিটি দোকান থেকে ভাঙানো সম্ভব নয়। তখন তিনি সেটি ফেলে দিয়েছিলেন। সাধারণত পুরস্কারের অর্থ দোকানের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব না হলে বা অর্থের পরিমাণ খুব বেশি হলে মেশিনে ‘নন-পেয়েবল’ বার্তাটি ভেসে ওঠে। এর অর্থ যে দোকান থেকে টিকিট কাটা হয়েছে, তাঁরা টাকা মেটাবে না। টাকা সরাসরি লটারি সংস্থা থেকে সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু তা বুঝতে পারেননি তরুণী। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের এক সদস্য তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন।
আরও পড়ুন:
লটারি জয়ের খবর জানার পর পরই দ্রুত দোকানে ফিরে যান তরুণী। কিন্তু তত ক্ষণে টিকিটটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আবর্জনার গাড়ি এসে দোকানের অন্য বর্জ্যের সঙ্গে টিকিটটিও নিয়ে যায়। টিকিটটি উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টায় ওই তরুণী এবং তাঁর পরিবার সরকারি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্তার শরণাপন্ন হন। ওই সরকারি আধিকারিক জানান, টিকিটটি খুঁজে পাওয়ার খুব একটা আশা না থাকলেও তাঁরা বর্জ্য গাড়ির গতিবিধি দেখে সেটি উদ্ধারের চেষ্টা করবেন।
আরও পড়ুন:
সৌভাগ্যবশত, সঠিক আবর্জনা গাড়িটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থা। আবর্জনার মধ্যে বিপজ্জনক উপাদান থাকার ঝুঁকির কারণে গাড়িটিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে এ ধরনের তল্লাশির কাজ করা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এক দিনেরও বেশি সময় ধরে আবর্জনার স্তূপ তন্ন তন্ন করে খোঁজেন এবং অনেক খোঁজার পর অবশেষে টিকিটটি খুঁজে পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, যখন তরুণীকে ফোন করে টিকিটটি খুঁজে পাওয়ার কথা জানানো হয় তখন তিনি আবেগতাড়িত হয়ে কেঁদে ফেলেন।
আরও পড়ুন:
সেই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই হইচই পড়েছে ইটালি জুড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। অনেকেই ওই তরুণীকে পৃথিবীর অন্যতম ‘সেরা ভাগ্যবতী’র তকমা দিয়েছেন।