পুণের রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবালের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইনস্টাগ্রামে আপত্তিকর পোস্ট। পুরুষবিদ্বেষী মন্তব্য। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা তথা দন্ত্যচিকিৎসক মুসকান সোনিকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করল ‘অল ইন্ডিয়া ডেন্টাল স্টুডেন্টস অ্যান্ড সার্জনস অ্যাসোসিয়েশন (এআইডিএসএ)’। কেতন খুনের ঘটনা নিয়ে মুসকানের পোস্ট করা ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেওয়ার পরেই দন্ত্যচিকিৎসকের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভিডিয়োয় মুসকান আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং শেষে বলেন, ‘‘পুণের ওই লোকটার মাথায় চুল ছিল না। এমন মিথ্যা বললে তো মরতেই হবে। পুরুষদের ঘৃণা করি।’’ ভিডিয়োয় কেতন-হত্যাকাণ্ড নিয়ে কটাক্ষ করে হাসতেও দেখা যায় তাঁকে। মুসকানের ওই মন্তব্যে ক্ষোভপ্রকাশ করেন নেটাগরিকেরা। সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, চিকিৎসার মতো একটি মহান পেশার সঙ্গে যুক্ত কেউ কী ভাবে খুন হওয়া এক জন মানুষকে নিয়ে এমন উপহাস করতে পারেন!
আরও পড়ুন:
মুসকান তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তেই এআইডিএসএ-র মধ্যপ্রদেশ শাখা সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করে। সংগঠনটি তাঁকে এআইডিএসএ মধ্যপ্রদেশের কোষাধ্যক্ষপদ থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাঁর সদস্যপদও বাতিল করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘‘দেখা গিয়েছে যে তিনি (পড়ুন মুসকান) শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন এবং প্রয়াত কেতন অগ্রবাল সম্পর্কে অত্যন্ত অনুপযুক্ত, আপত্তিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। এই কাজগুলো এআইডিএসএ-র গঠনতন্ত্র, আচরণবিধি এবং নৈতিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’’
আরও পড়ুন:
তবে এর পরেই জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন মুসকান। অনলাইনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে আরও একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন। ক্ষমাপ্রার্থনার সময় তিনি বলেন, “যে সব শব্দ ব্যবহার করেছি, তার জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত।” তবে তিনি তাঁর বক্তব্যের একটি অংশের পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেন। দন্ত্যচিকিৎসক ব্যাখ্যা করেন যে, ‘আমি পুরুষদের ঘৃণা করি’— এই কথাটি তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বলেছিলেন। তাঁর দাবি, ওই মন্তব্য তাঁর অতীতের একটি ঘটনার প্রতিফলন ছিল এবং এর মাধ্যমে সব পুরুষকে লক্ষ্য করা বা হেয় করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গ থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিক ভাবে একে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিল পুলিশ। পরে খুনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, সিয়া এবং চেতন পরিকল্পনা করে এই হত্যা করেছেন। ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছে কেতনকে। দু’জনকেই খুন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। সূত্রের দাবি, খুনের কথা প্রথম কার মাথায় এসেছিল, তা নিয়ে সিয়া এবং চেতন পরস্পরকে দোষারোপ করছেন জেরার মুখে। রবিবার সিয়াকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন তদন্তকারীরা।